ঢাকা, সোমবার, ৯ কার্তিক ১৪২৮, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই সিরাজগঞ্জের নৌরুটে

স্বপন চন্দ্র দাস, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৫৩ ঘণ্টা, জুলাই ১৩, ২০২১
স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই সিরাজগঞ্জের নৌরুটে নৌকায় যাত্রী। ছবি: বাংলানিউজ

সিরাজগঞ্জ: করোনার সংক্রমণরোধে সরকার ঘোষিত ‘লকডাউনে’ সড়ক-মহাসড়কে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও সিরাজগঞ্জের নৌপথগুলো সচল রয়েছে। এসব নৌরুটে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।

নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়াও।  

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সিরাজগঞ্জের যমুনা অধ্যুষিত কাজিপুর, সদর, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব এলাকায় ছোট-বড় প্রায় শতাধিক নৌ রুট রয়েছে। এসব রুট দিয়ে প্রতিদিন অর্ধ লাখেরও বেশি মানুষ যাতায়াত করে থাকে।  

সরেজমিনে সদর উপজেলার মতি সাহেবের ঘাট, কাজিপুরের মেঘাই, শাহজাদপুরের বিভিন্ন ঘাট এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংক্রমণরোধে সারাদেশে চলমান লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও নির্বিঘ্নে চলছে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকা। কোনো প্রকার সরকারি বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে গাদাগাদি করে যাত্রী নিয়ে চলছে নৌকা। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা তো দূরের কথা নৌযাত্রীদের বেশিরভাগই ছিল মাস্কবিহীন। গা ঘেঁষে বসেই যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। এ সময় একাধিক যাত্রীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, বেশি ভাড়ায় অর্ধেক যাত্রী নেওয়ার কথা থাকলেও মাঝিরা এসব তোয়াক্কাই করছেন না। ভাড়া বেশি নিলেও অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছেন তারা।  

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কাজিপুর উপজেলার মেঘাই, নাটুয়ারপাড়া, খুদবান্দি, তেকানি, শালদহ, পানাগাড়ি, কান্তনগর, চরগিরিশ, রঘুনাথপুর, সদর উপজেলার কাজিপুর নৌকা ঘাট, রুপসার চর, কাটেঙ্গা, ছোট কয়ড়া, মতি সাহেবের ঘাট থেকে বেড়াবাড়ি, বহ্নি, শয়াশিকা, চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুর, খাস কাউলিয়া, মিটুয়ানী, ঘোড়জান, বরঙ্গাইল, উত্তর নওয়হাটা, দক্ষিণ নওহাটা, বাঁশবাড়িয়া, ভুতের বাড়ি, শাহজাদপুর উপজেলার মনাকোষা, বানতিয়ার, জামিরতা, ছোট চানতারা, বেলকুচির মেঘুল্লা, চর বড়ধুলসহ যমুনা নদী অধ্যুষিত ৫টি উপজেলায় ছোট বড় প্রায় শতাধিক নৌকা ঘাট রয়েছে।  

কথা হয়, শাহজাদপুরের কৈজুরি এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার, কৈজুরী বাজার এলাকার আব্দুল মতিন, আব্দুল খালেক, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা লুৎফর রহমান মল্লিকসহ একাধিক নৌযাত্রীর সঙ্গে।  

তারা বলেন, চৌরা পাচিল (মনাকোষা) ঘাটের মূল ইজারাদার বাবুল হোসেন বাবু। তার সঙ্গে ১৮ জন পার্টনার মিলে এই ঘাট পরিচালনা করেন। তারা দিগুণ ভাড়া আদায়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌকা চলাচলে বাধ্য করেছেন।  

তবে ঘাট ইজারাদার বাবুল হোসেন বাবু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে না। লকডাউন অমান্য করে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা না চাইলেও যাত্রীরা জোর করে উঠে পড়ে। তখন বাধ্য হয়ে যাত্রীদের নিয়ে যেতে হয়।  

চৌহালীর উপজেলার ঘোড়জান ইউনিয়নের বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম, রফিক আহমেদ, রুবিয়া খাতুন, মিটুয়ানী এলাকার গোলাম মোস্তফা, কামরুলসহ অনেক নৌযাত্রী বলেন, আমাদের নদীপথেই যাতায়াত করতে হয়। নৌকার মাঝিদের ইচ্ছা অনুযায়ী চলে এসব নৌরুট। তারা ইচ্ছামতো ভাড়া নেয়-আবার ইচ্ছামতো যাত্রী তোলে আমাদের কিছুই করার থাকে না।  

চৌহালীর বাগুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কাহ্হার সিদ্দিকী জানান, অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে নৌকা। এরপরও যাত্রীদের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো প্রবণতা নেই। এখানকার মানুষের মাঝে করোনা ভীতি কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

কাজিপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, গত কয়েকদিনে আমাদের নাটুয়ারপাড়াতেই অনেক মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তারপরও মানুষ সচেতন হচ্ছে না।  

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম ভুঁইয়া বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ অতিদরিদ্র এবং নিরক্ষর। তারা জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হয়। নৌ-রুটেই যাতায়াত করতে হয়। স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।  

কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য একাধিকবার মাঝি ও ইজারাদারদের সতর্ক করা হয়েছে। তারপরও তারা মানছে না। মানুষ নিজেরা সচেতন না হলে বিজিবি-আর্মি দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানানো কখনো সম্ভব নয়। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি, যাতে তারা সচেতন হয়।  

অপরদিকে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, নৌরুটগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও বেশি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৬৫২ ঘণ্টা, জুলাই ১৩, ২০২১
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa