ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

প্রণোদনা পেয়েও মজুরি পরিশোধে গার্মেন্টস মালিকদের তালবাহানা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৫৭ ঘণ্টা, জুলাই ১৩, ২০২১
প্রণোদনা পেয়েও মজুরি পরিশোধে গার্মেন্টস মালিকদের তালবাহানা

ঢাকা: সরকারের প্রণোদনা নিয়েও মজুরি পরিশোধে বিভিন্ন রকম তালবাহানা করেছেন অনেক গার্মেন্টস মালিকরা, এমন অভিযোগ করেছে ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ। একই সঙ্গে সংগঠনটি ঈদের আগে মজুরি ও বোনাস দেওয়া এবং কর্মহীন শ্রমিকদের নগদ আর্থিক সহযোগিতার দাবি জানিয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাবিবুল্লাহ বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম এক যৌথ বিবৃতিতে আরও বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করেন।

তারা বলেন, করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত ‘কঠোর বিধিনিষেধ বা লকডাউনের’ সুযোগে মালিকদের দুরভিসন্ধি ও অবহেলার কারণে শ্রমিকরা মজুরি-বোনাস নিয়ে দুর্ভোগের পাশাপাশি ছাঁটাই এবং লে-অফের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

সরকারের প্রণোদনা নিয়েও মজুরি পরিশোধে বিভিন্ন তালবাহানা করেছেন অনেক গার্মেন্টস মালিকরা। গত বছর গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের জন্য সরকারের কাছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনাসহ নানামুখী সুযোগ-সুবিধা আদায় করেও সব শ্রমিকদের পূর্ণমজুরি ও বোনাস পরিশোধ করেননি।

গার্মেন্টস শিল্প রক্ষার নামে মূলত লগ্নিপূজির স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি আনুকুল্যে গার্মেন্টস গত বছরও বন্ধ ছিল না, আর এবছর গার্মেন্টস লকডাউনের আওতামুক্ত। উপরন্তু মালিকদের প্রতি সদাশয় সরকার রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কর্ম ঘণ্টা ও ওভারটাইম সংক্রান্ত শ্রমআইনের ১০১, ১০২ ও ১০৫ নম্বর ধারা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে মালিকদের বেপরোয়া শ্রমশোষণের সুযোগ করে দিয়েছে।

তারা আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতিতেও শ্রমিকদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের ফলে গত অর্থবছরের তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আয়ে সাড়ে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়। তারপরও মালিকরা শ্রমিকদের মজুরি-বোনাস দিতে বিভিন্ন রকম কুটকৌশল ও ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে শ্রমিকদের বঞ্চিত করার পাঁযতারা চালাচ্ছেন। গণপরিবহন আগামী ১৫ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত থেকে এক সপ্তাহের জন্য চলাচল করার সিদ্ধান্ত জানালেও আগে ও পরের বন্ধের কারণে শ্রমিকরা মজুরি ও ভাতা না পেয়ে আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন।
নেতারা আরও বলেন, যাত্রীবাহী লঞ্চ, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান লকডাউনের কারণে বন্ধ এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের লোকাল গার্মেন্টস, রিকশা-ঠেলা-দিনমজুর, স’মিল, চাতাল, মুদ্রণ, দোকান কর্মচারী, নির্মাণ, বারকি, দর্জি, স্বর্ণশিল্পী, গৃহকর্মী, ক্ষৌরকার, পাদুকা শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের কর্মজীবী অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে করোনার কারণে গত এক বছরে নতুন করে আড়াই কোটি মানুষ গবিব হয়েছেন এবং ৬২ শতাংশ শ্রমিক বেকার হয়েছেন। কিন্তু শ্রমিক ও শ্রমজীবীদের এই দুঃসহ সময়ে না কোনো মালিক তাদের সহায়তা করছেন। না তারা পাচ্ছেন সরকারি সহায়তা। এমন কি বন্ধ পাটকল-চিনিকলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনাও পরিশোধ করা হয়নি।

শ্রমিক ও শ্রমজীবীদের জীবন ও জীবিকার নিশ্চয়তা বিধান না করে ‘লকডাউন’ চাপিয়ে দেওয়া সরকারের দায়হীনতার পরিচয় বহন করে। যাদের চুলায় জ্বলে না আগুন, কলসিতে থাকে না চাল, ঘর ভাড়ার থাকে না টাকা তাদের হাত স্যানিটাইজার, মাস্ক ব্যবহার বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা জীবনের সঙ্গে উপহাস ছাড়া আর কি!

মালিকদের অবহেলার কারণে ঈদ যেন শ্রমিকদের জন্য আশঙ্কা ও উত্তেজনার বিষয় না হয় সে বিষয়ে নজর রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন নেতারা।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জে সেজান জুসের কারখানায় মুনাফালোভী মালিকের অনিয়ম, অবহেলা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার মালিক তোষণনীতির কারণে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে নিহত সব শ্রমিকদের আইএলও কনভেনশন-১২১ অনুযায়ী একজীবনের আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ, আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুর্নবাসন, নিখোঁজ শ্রমিকদের অবিলম্বে উদ্ধার এবং তার সংখ্যা প্রকাশ, অগ্নিকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দায়ী সব পক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ সব কারখানা বন্ধ করে দেওয়া এবং সব শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও জানান তারা।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৫৭ ঘণ্টা, জুলাই ১৩, ২০২১
ইইউডি/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa