ঢাকা, সোমবার, ২ কার্তিক ১৪২৮, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

নব্য জেএমবির গ্রেফতার সদস্যরা স্লিপার সেল হিসেবে কাজ করতো

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২৪৮ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০২১
নব্য জেএমবির গ্রেফতার সদস্যরা স্লিপার সেল হিসেবে কাজ করতো ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: নারায়ণগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা সংশ্লিষ্ট নব্য জেএমবির গ্রেফতার সদস্যরা স্লিপার সেল হিসেবে কাজ করতো বলে জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মো আসাদুজ্জামান।  

সোমবার (১২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানান তিনি।

 

সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রোববার বিকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থেকে নব্য জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে ডেভিড কিলার এবং রাতে কেরানীগঞ্জ থেকে কাউসার হোসেন ওরফে মেজর ওসামাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জে দুটি পৃথক জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে  ৩টি শক্তিশালী আইইডি এবং বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছি গ্রেফতার হওয়া এই দুই জঙ্গি সদস্য স্লিপার সেল হিসেবে কাজ করতো।

বাংলাদেশের নব্য জেএমবির আমীর মাহাদী হাসান ওরফে আবু আব্বাস আল বাঙালি। তার সঙ্গে এই দুইজন নিয়মিত যোগাযোগ রাখতো। তারা দুজন বোমা তৈরির কারিগর ও প্রশিক্ষণ। দুজন জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলেও তারা স্লিপার সেল হিসেবে আমিরের অধীনে কাজ করতো।

তিনি বলেন, গত ১৭ মে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড সংলগ্ন পুলিশ বক্সে বোমা ফেলে যায় সন্ত্রাসীরা। পরবর্তীতে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। এই বোমার তদন্ত করতে গিয়ে রোববার বিকেলে ও রাতে দুজনকে গ্রেফতার করে সিটিটিসির স্পেশাল একশন গ্রুপ। তাদের দেওয়া তথ্যে রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও বন্দর থানায় অভিযান চালিয়ে আইইডি ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় এবং তিনটি আইইডি নিষ্ক্রিয় করা হয়।  

গ্রেফতার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে ডেভিড কিলারকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামান বলেন, নারায়নগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সে যে বোমাটি রাখা হয়েছিল সেটি তার আস্তানায় তৈরি করে তার এক সহযোগীর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে এসেছিল।  

তিনি জানান, মো. কাউসার হোসেন ওরফে মেজর ওসামা জানায় সে দীর্ঘদিন থেকে নব্য জেএমবি'র সামরিক শাখার প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সে সংগঠনের সামরিক শাখার অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে অনলাইনে ও অফলাইনে যোগাযোগ রক্ষা করে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দিত।

গ্রেফতার জঙ্গিদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি ছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান বলেন, গত ঈদের পর পর গত ১৭ মে তারা পুলিশ বক্সে বোমা রেখে এসেছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিল তাদের অন্যতম টার্গেট। এছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা করাও তাদের টার্গেট ছিল।

গ্রেফতার দুই জঙ্গি বিভিন্ন গ্রুপের। তাদের মধ্যে কোনো যোগসাজশ ছিল কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রেফতার জঙ্গিরা স্লিপার সেল হিসেবে কাজ করে আসছে। তাদের আমিরের নির্দেশে আলাদা আলাদাভাবে কাজ করতো। তাদের মধ্যে আপাতত কোনো যোগসাজশ আমরা লক্ষ্য করেনি। তবে আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলমান রয়েছে।  

গ্রেফতার জঙ্গিরা কত দিন ধরে এক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত? জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা গত ১৫ মে একটি হামলার চেষ্টা করেছে। গতকাল তাদের আমরা গ্রেফতার করি। গ্রেফতারের পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আজকের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠিয়েছি। আবেদন মঞ্জুর হলে এ বিষয়ে তাদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। দুই জঙ্গিকে ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কলকাতা পুলিশ তিন জনকে আটক করেছে। কলকাতা পুলিশ বলেছে, কলকাতায় বসে তারা বাংলাদেশ জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কলকাতা পুলিশ বলেছে, তারা বাংলাদেশ পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করেছে। কলকাতায় গ্রেফতার হওয়া তিন বাংলাদেশির নাম পরিচয় সিটিটিসি জানে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশ তিন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে এমন তথ্য আমাদের জানা নাই। তবে আমরা আটকের তথ্য পেয়েছি। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করবো।

গ্রেফতার দুই আসামির বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও বন্দর থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হবে। দুই মামলায় তাদের দুজনের দশ দিন করে রিমান্ড আবেদন চেয়ে আদালতে পাঠাবে সিটিটিসি।  

এর আগে, জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুরের কাজীপাড়ায় ঘিরে রাখা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, রিমোট কন্ট্রোল উদ্ধার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

রোববার (১১ জুলাই) দিনগত রাত ২ টা ৫০ মিনিটে অভিযান শুরু করে মধ্য রাত সাড়ে ৩টার দিকে অভিযান শেষ করে সিটিটিসি। এর আগে ওই বাড়িটি ঘিরে রেখেছিল সিটিটিসি ইউনিট।  

এর আগে, রোববার (১১ জুলাই) বিকাল ৪ টার দিকে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে নব্য জেএমবির সামরিক শাখার প্রশিক্ষক আব্দুল আল মামুন ওরফে ডেবিট কিলারকে একটি মোটরসাইলেকসহ গ্রেফতার করে সিটিটিসি ইউনিট। এছাড়াও পল্লবী থানার একটি মামলায় পলাতক আসামি মো. কাউসার হোসেন ওরফে মেজর ওসামা ওরফে নাইমকে রোববার (১১ জুলাই) রাত ৮টার দিকে কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। নাইম জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তিনি নব্য জেএমবির সদস্য এবং তিনি বোমা বানান ও বোমা তৈরির প্রশিক্ষকও। তিনি এখানে পার্শ্ববর্তী মসজিদে ইমামতি করতেন।

আরো পড়ুন...

** আড়াইহাজারের জঙ্গি আস্তানায় যা ছিল
** মদনপুরে বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার, জঙ্গি ওসামা নাঈম গ্রেফতার 
** জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা আরেক স্পটে অভিযান শুরু
** আড়াইহাজারে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান: হামলার হুমকি!
** আড়াইহাজারে জঙ্গি আস্তানা ৩ বোমা নিষ্ক্রিয়, আরেক স্পটে অভিযান
** আড়াইহাজারের জঙ্গি আস্তানায় ৩ বিস্ফোরণ
** আড়াইহাজারে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়ি ঘেরাও

বাংলাদেশ সময়: ১০৪৮ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০২১
এসজেএ/কেএআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa