ঢাকা, রবিবার, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

জোর অনলাইনে তবুও উত্তরে ৯ হাট

শাওন সোলায়মান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১০৪ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০২১
জোর অনলাইনে তবুও উত্তরে ৯ হাট

ঢাকা: চলমান করোনা মহামারিতে আসন্ন ঈদ উল আজহায় কোরবানির পশু কিনতে অনলাইন মাধ্যমে জোর দিচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। তবুও রাজধানীতে ৮টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা দিয়েছে সংস্থাটি।

সবমিলিয়ে বরাবরের মতো এবার ৯টি পশুর হাট বসতে যাচ্ছে ঢাকার উত্তর অংশে।  

করোনা মহামারিতে শুরু থেকেই অনলাইন মাধ্যমে পশু কিনতে নগরবাসীদের আহবান জানিয়ে আসছে ডিএনসিসি। এজন্য ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-ক্যাব এবং বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএফএ) এর সাথে ‘ডিজিটাল হাট’ চালু করে সংস্থাটি। ধারণা করা হচ্ছিল, সবাইকে অনলাইনে উদ্বুদ্ধ করতে এবং করোনা মহামারিতে জনসমাগম কমাতে এবার ডিএনসিসি এলাকায় পশুর হাটের সংখ্যা কমে আসবে।

তবে সেটি না করে রোববার (১১ জুলাই) এক সভায় প্রথমে গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাটের সাথে ৯টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা অনুমোদন দেয় ডিএনসিসি। পরে ডুমনি এলাকার একটি হাট বাদ দিয়ে সর্বশেষ ৮টি অস্থায়ী হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়। এগুলো হলো- বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং (আফতাব নগর) ব্লক ই-সেকশন ৩ এর খালি জায়গা, কাওলা শিয়াল ডাঙ্গা সংলগ্ন খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন ৬ ওয়ার্ড নম্বর ৬ (ইস্টার্ন হাউজিং) এর খালি জায়গা, উত্তরখান মৈনারটেক হাউজিং প্রকল্পের খালি জায়গা, উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরের বৃন্দাবন থেকে উত্তর দিকে বিজিএমইএ পর্যন্ত খালি জায়গা, ভাটারা (সাঈদ নগর) অস্থায়ী পশুর হাট, মোহাম্মদপুরে বসিলার ৪০ ফুট সড়ক সংলগ্ন রাজধানী হাউজিং-স্বপ্নধারা হাউজিং ও বসিলা গার্ডেন সিটির খালি জায়গা এবং ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন ৩০০ ফুট সড়ক সংলগ্ন উত্তর পাশে সালাম স্টিল লিমিটেড ও যমুনা হাউজিং কোম্পানি এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন খালি জায়গা।  

অনলাইনে পশু কিনতে উদ্বুদ্ধ করে অফলাইনে এতগুলো হাট থাকার বিষয়টিকে সাংঘর্ষিক বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। আসন্ন ঈদ উল আজহায় কোরবানির পশুর অন্তত ৫০ শতাংশ অনলাইনে কেনাকাটা করার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, প্রথমত, সংক্রমণের এখন যে অবস্থা তাতে জনসমাগম হয়, ভিড় হয় এমন কোন কিছুই হওয়া উচিত না। দ্বিতীয়ত, এবার অন্তত ৫০ ভাগ পশু অনলাইনে কেনাবেচা করা উচিত। কিন্তু এতগুলো হাট করা অনলাইন কেনাকাটার করার যে আহবান তার সাথে সাংঘর্ষিক। হলে সর্বোচ্চ একটি হাট হতে পারতো, তাও ঢাকার বাইরে। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠে বড় পরিসরে একটা হাট হতে পারতো; কোন ছোট জায়গায় বা শহরের ভেতরে না। আর এই হাটে ১৮ বছরের বয়সের কম এবং ৫০ বছর বয়সের বেশি কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। যাদের করোনা টীকা নেয়া আছে তাদেরকে প্রবেশে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।  

করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে বলে আশংকা প্রকাশ করেন ডা. লেলিন। তিনি বলেন, এখন সংক্রমণের হার ৩০ শতাংশের আশেপাশে। এটা যদি বাড়ে তাহলে দেশের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। কাজেই আমাদেরকে এই বিষয়ে সতর্ক থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।  

তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে বেশ আত্মবিশ্বাস রয়েছে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলামের। গতকাল হাট সংক্রান্ত সভা শেষে ডিএনসিসি মেয়র আতিক বলেন, প্রতিটি হাটেই শক্তি ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে একশত প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক, দুইশত গেঞ্জি এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক মাস্ক দেওয়া হবে। এছাড়াও ইজারাদারদের পক্ষ থেকে সকল হাটেই হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করা হবে। প্রত্যেকটি হাটে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসি ক্যামেরা এবং তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্রের ব্যবস্থা করা হবে। হাটগুলোতে সামাজিক দূরত্ব যথাযথভাবে বজায় রাখতে হবে, ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়কে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। হাটগুলোর প্রবেশ ও বাহির পথ আলাদা থাকতে হবে এবং নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২১০০ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০২১
এসএইচএস/এজে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa