ঢাকা, শনিবার, ৭ কার্তিক ১৪২৮, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

বিচারের নামে যুবককে মারধর, আটক ৩

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৫৮ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০২১
বিচারের নামে যুবককে মারধর, আটক ৩ ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার মিরপুরে পরোকীয়ার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম (২৭) নামের এক যুবককে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেছেন স্থানীয় মাতব্বরা।

সোমবার (১২ জুলাই) এ মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দুপুরে তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে মিরপুর থানা পুলিশ।

আটকরা হলেন- মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আকরাম হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য নওয়াব আলী ও আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিক আলী।
ঘটনার পর থেকে সাইফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার (১১ জুলাই) দিনগত রাত ১২টার দিকে মালিহাদ ইউনিয়নের আশাননগর এলাকার সেন্টু আলীর ছেলে ইটভাটার শ্রমিক সাইফুল ইসলাম প্রতিবেশী আনসার সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী এক সন্তানের জননীর (২৫) সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হন। সেই রাতে প্রতিবেশীরা তাদের দু’জনকে আটক করে। পরদিন রোববার (১২ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে আশাননগর মোড়ে তাদের গ্রাম্য সালিশ হয়। সে সময় স্থানীয়দের সামনে এ ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় এজন্য মালিহাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আকরাম হোসেন বিচারের রায় ঘোষণা করেন এবং সাইফুলকে জুতার মালা গলায় দিয়ে অর্ধেক গ্রাম ঘোরান। একইসঙ্গে ৩০টি লাঠির আঘাত এবং তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে পরোকীয়ার কারণে আব্দুল কুদ্দুস তার স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করতে আপত্তি জানালে কুদ্দুসের স্ত্রীকে সালিশি বৈঠকে তালাক দেওয়ানো হয়। পরে স্থানীয়রা সাইফুলের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে দিতে চাইলে ওই নারী আপত্তি জানান। আর এ কারণে তাকে মায়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

জানা যায়, আব্দুল কুদ্দুস ঢাকায় আনসার সদস্য হিসেবে চাকরি করেন। যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সংসার মনোমালিন্য চলছিল। ইতোপূর্বে সাইফুল ভালোবেসে এক নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের দু’বছরের মাথায় তাদের এক কন্যা সন্তানসহ স্ত্রী রেখে চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরোকীয়া করে বিয়ে করেন।

আমিরুল ইসলাম নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পুরো গ্রামের লোকজনের সামনে সাইফুলকে জুতার মালা গলায় দিয়ে নেতারা ঘুরিয়েছেন। সেইসঙ্গে লাঠি দিয়ে অমানবিকভাবে মারধর করা হয়েছে।  

এদিকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় এজন্য এ ধরনের বিচার করা উচিৎ বলে দাবি করেন এলাকাবাসীরা। সমাজের এমন বিচার থাকলে অপরাধ অনেক কমে যাবে বলে তারা মনে করেন।

এ ব্যাপারে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) শুভ্র প্রকাশ দাস বাংলানিউজকে জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিচারের নামে লাঠি দিয়ে মারধরের ভিডিও দেখে আমরা ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থল থেকে জুতোর মালাসহ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন জনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৭৫৫ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০২১
এসআরএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa