ঢাকা, রবিবার, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

আড়াইহাজারের জঙ্গি আস্তানায় যা ছিল

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭১১ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০২১
আড়াইহাজারের জঙ্গি আস্তানায় যা ছিল

নারায়ণগঞ্জ: জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের নোয়াগাঁও এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযানে চালিয়ে তিনটি বোমা নিষ্ক্রিয় করাসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় সেখানে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দও শুনতে পান উপস্থিত সংবাদকর্মীরা।

রোববার (১১ জুলাই) দিনগত ১২টার দিকে নোয়াগাঁও এলাকার জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়ির অভিযান সমাপ্ত হয়। বাড়িটি উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের মিয়া সাহেবের বাড়ি নামে সবাই চেনে। বাড়ির পাশে রয়েছে নোয়াগাঁও জামে মসজিদ। এই মসজিদেই মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ করতেন আব্দুল্লাহ আল মামুন, যিনি এই বাড়িতে থেকে বোমা তৈরি করতেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, নোয়াগাঁও এলাকায় অভিযানে তিনটি বোমা নিষ্ক্রিয় করেছি। জঙ্গিরা ইতোমধ্যে পোস্টের মাধ্যমে আমাদের পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে। তবে হুমকি আমলে নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি।  

অভিযানের পর বাড়িটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে একটি কক্ষে যেখানে মামুন থাকতেন সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা বই। জিহাদী বইও আছে এর মধ্যে। বিছানা তছনছ করে রাখা। এই কক্ষে বসেই বোমা তৈরির কাজ করতেন এই মামুন। শক্তিশালী আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বোমা তৈরিতে মামুন ছিলেন পারদর্শী।

এলাকাবাসী জানান, মামুন অনেকদিন ধরেই মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে নিয়ে এলাকাবাসীর কখনো কোনো সন্দেহ হয়নি। তিনি এলাকায়ই থাকতেন। এখানে নিয়মিত মসজিদে তার দায়িত্ব পালন করতেন। শনিবার (১০ জুলাই) মসজিদে নামাজের সময় তাকে দেখেছেন তারা।

এদিকে তার কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, একটি বিছানা রয়েছে। এছাড়া আর তেমন কোনো আসবাবপত্র নেই। এলাকায় মানুষের সঙ্গেও নিয়মিত মেলামেশা করতেন এবং কথা বলতেন তিনি।

ডিআইজি আসাদুজ্জামান জানান, গত ১৭ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে শক্তিশালী একটি বোমা উদ্ধার ও বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়। ওই ঘটনা তদন্তে একটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মোটরসাইকেসহ আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, ওই বোমা আড়াইহাজারে এই আস্তানায় তৈরি করা হয়। নোয়াগাঁও মিয়াবাড়ি এলাকায় একটি মাদরাসার পাশে এই বাড়িই সেটি।  

মামুন জঙ্গি গ্রুপের সঙ্গে জড়িত। তিনি জঙ্গি গোষ্ঠীর সামরিক গ্রুপের সদস্য। এদের এমন সামরিক সদস্যের সংখ্যা খুবই লিমিটেড হয়। তারা সাধারণত কোনো হামলা সংগঠিত করতে তার পরিকল্পনা করেন।

ডিআইজি জানান, মামুন নব্য জেএমবির সদস্য। তারা বিভিন্ন পয়েন্টে হামলার জন্য বোমা তৈরি করছিলেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাৎক্ষণিকভাবে নোয়াগাঁও এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ অভিযানে আরও একজনকে আটক করা হয়। তাদের টার্গেট ছিল পুলিশ।  

ডিআইজি আসাদুজ্জামান জানান, নিষ্ক্রিয় করা তিনটি বোমাই ছিল শক্তিশালী আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস)। সেগুলো খুব শক্তিশালী। দু’টি বোমার শব্দে পুরো এলাকা কম্পিত হয়। আরেকটি একটু কম শক্তিশালী। এসব বোমা এই কারখানার মামুন নিজেই তৈরি করতেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৫০১ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০২১
এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa