ঢাকা, রবিবার, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

ভোলাহাটে উপহারের ঘরে ফাটল, সংবাদ প্রকাশের পর তড়িঘরি মেরামত শুরু

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২০৩ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০২১
ভোলাহাটে উপহারের ঘরে ফাটল, সংবাদ প্রকাশের পর তড়িঘরি মেরামত শুরু সংস্কার করা হচ্ছে উপহারের ঘর। ছবি: বাংলানিউজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ১৬০টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪১১ ও তৃতীয় পর্যায়ে ৪শ বাড়ি বরাদ্দ হয়েছে।  

ভূমিহীনরা বিনামূল্যে জায়গাসহ পাকা ঘরের মালিক হতে পেরে যে আনন্দ পেয়েছিল সে আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে উপহারের বাড়িগুলোতে যখন বিভিন্ন অনিয়ম ও ফাটল ধরা পড়ে।

এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত সেগুলো মেরামত শুরু করেছে ভোলাহাট উপজেলা প্রশাসন।

হস্তান্তরকৃত বাড়িগুলোর মেরামতের বিষয়টি জানতে গিয়ে দেখা যায়, ভোলাহাট সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চৌটাদহে ২০টি বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে।  

জানতে চাইলে ঘর নির্মাণে নিয়োজিত রাজমিস্ত্রী জানান, ২ ও ৩ নম্বর ইট দিয়ে বাড়ি গাঁথা হচ্ছে। অপর এক মিস্ত্রী বলেন, ১ ও ২ নম্বর ইট দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। হেলপার দিয়ে তড়িঘড়ি করে পলেস্তার ও ইট গাঁথার কাজের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ আছে বালু ও সিমেন্টের ভাগের অনিয়ম নিয়েও।

উপকারভোগী মাজিরন জানান, দেয়াল বসে যাওয়ার ভয়ে আমি ৩ হাজার ৩শ টাকা দিয়ে ঘরের মেঝে ভরাট করেছি।  

তিনি বলেন, দ্রুত মেঝে ভরার্ট করতে বলেছে অফিসের লোকজন। সবাই নিজ খরচে ঘরের মেঝেতে মাটি ভরাট করেছেন। গোহালবাড়ী ইউনিয়নের হলদেগাছীতে মোট ১৩ জন ভূমিহীন পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার। ঘরে উঠতে উঠতেই ফাটল ধরেছে। উপজেলা প্রকল্প অফিস থেকে তড়িঘড়ি মেরামতের কাজও শুরু করেছেন।

হলদেগাছীর মো. কালু বলেন, আমার ঘর ভেঙে গেলে অফিস থেকে মিস্ত্রী পাঠিয়ে মেরামত করে দেন। তিনি বলেন, আমার পাশের বাড়িতেও ফাটল ধরেছে।

এদিকে দলদলী ইউনিয়নে পঞ্চানন্দপুর মাঠপাড়া গ্রামে দেয়াল গাঁথা শেষ হতে না হতেই ফাটল ধরেছে। সেখানেও মেরামত চলছে লুকোচুরির অন্তরালে। জামবাড়ীয়া ইউনিয়নের আন্দিপুর গ্রামেরও চিত্র একই।

উপকারভোগী মোসা. রহিমা বলেন, ঘরের ভেতর শুয়ে থাকতে ভয় লাগছে। পানি বা বাতাস হলে কখন বুকের ওপর ভেঙে পড়ে। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ে। উপরে পলিথিন দিয়ে পানি থেকে সাময়িক রক্ষা হচ্ছে। ঘরে টিনের ছাউনিতে যে সব কাঠ দেওয়া হয়েছে ওই কাঠ পোকায় খাওয়া। কাঠের গুড়া বিছানা ও খাবার পড়ে। নকশা বহির্ভূতভাবে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় এগুলো পরিণত হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ আবাসস্থলে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. কাউছার আলম সরকার জানান, বাড়ি নির্মাণে সরকারের ডিজাইন ভুল ছিলো। অল্প টাকায় এ বাড়ি নির্মাণ সম্ভব নয়। তবে অনিয়ম-দুনীর্তির বিষয়টি এড়িয়ে তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অনিময়-দুনীর্তির বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, সব কাজ মানসসম্মত হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো অভিযোগ নেই।

বাংলাদেশ সময়: ১২০০ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০২১
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa