ঢাকা, সোমবার, ৯ কার্তিক ১৪২৮, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

ঘেরের পাড়ে অপরিকল্পিত ঘর, ভেঙে পড়ার ভয়ে স্থানান্তর  

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮০৪ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০২১
ঘেরের পাড়ে অপরিকল্পিত ঘর, ভেঙে পড়ার ভয়ে স্থানান্তর   আশ্রয়ণ পকল্পের ঘর। ছবি: বাংলানিউজ

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের তৈলকুপি গ্রামে অপরিকল্পিতভাবে ঘেরের পাড়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৩টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু ঘরগুলো উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তরের আগেই ঘেরের পাড় ধসে পড়ার উপক্রম হয়।

 

এছাড়া ঘরগুলো বসবাসের জন্য নিরাপদ না হওয়ায় আগেই রাতের আঁধারে সাতটি ঘর ভেঙে অন্য ইউনিয়নে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, কলারোয়া উপজেলার লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের তৈলকুপি এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ১৩টি ঘর অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়। গভীর বালুপূর্ণ ঘেরের পাড়ে ঘর নির্মাণ করায় ঘরগুলো হস্তান্তরের আগেই ধসে পড়ার উপক্রম হয়। যেখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করা অনিরাপদ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

লাঙ্গলঝাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার নুরুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়নের ১৩টি পরিবারকে জমি ও ঘর দেওয়ার লক্ষ্যে খাস জমিতে প্রশাসনের মতামতের ভিত্তিতে এ সব ঘর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মিত ঘরের পেছন ও পশ্চিম পাশে বালুপূর্ণ বড় ঘের থাকায় ধসে পড়ার উপক্রম হয়। ঘরগুলো এখনো উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়নি। তবে ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এখান থেকে সাতটি ঘর ভেঙে প্রশাসন অন্য ইউনিয়নে স্থানান্তর করেছে।

কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে পুকুরের পাড়ে নির্মিত হয়েছিল। উপকারভোগীদের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ১৩টি ঘরের মধ্যে সাতটি ঘর জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরা-১ আসনের এমপি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাদিয়ালী গ্রামে স্থানান্তর করা হচ্ছে। আগের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সময়ে ঘরগুলো নির্মিত হলেও এখনো উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।

কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু জানান, তৈলকুপি গ্রামে ১৩টি ঘর নির্মাণ করা হয় পুকুরের পাড়ে। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমি জেরিন কান্তা ঘরগুলো নির্মাণ করেন। অল্প দিনের মধ্যেই ঘরগুলো ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে পুকুর ভরাটের জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে আরো ছয় লাখ টাকা খরচ করা হয়। গত এক সপ্তাহ আগে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৈলকুপি গ্রামের সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঝুঁকিপূর্ণ ঘরগুলো ড্রেজার মেশিন দিয়ে ভেঙে অন্য ইউনিয়নে স্থানান্তর করেছেন।  

বাংলাদেশ সময়: ০৮০০ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০২১
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa