ঢাকা, সোমবার, ২ কার্তিক ১৪২৮, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১০ম বর্ষপূর্তি পালিত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০০৯ ঘণ্টা, জুলাই ১১, ২০২১
মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১০ম বর্ষপূর্তি পালিত

ফেনী: মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১০ম বর্ষপূর্তি পালিত হয়েছে। রোববার (১১ জুলাই) সকালে স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’ ও ‘অন্তিম’ এ ফুল দিয়ে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানায় রাজনীতিবিদ, শিক্ষকসহ বিভিন্ন সংগঠন।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এ বছর সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি হিসেবে স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’ ও ‘অন্তিম’ এ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

রোববার (১১ জুলাই) সকাল ১১টায় প্রথমে স্মৃতিস্তম্ভ ‘অন্তিম’ ও পরে ‘আবেগ’ এ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পক্ষ থেকে।  

এরপর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আইটি বিশেষজ্ঞ মাহবুব রহমান রুহেল, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা আওয়ামী লীগ, আবু তোরাব উচ্চ বিদ্যালয়, উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সমিতি, উপজেলা যুবলীগ, উপজেলা ছাত্রলীগ, মায়ানী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রজন্ম মিরসরাই।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আইটি বিশেষজ্ঞ মাহবুব রহমান রুহেল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ইয়াছমিন আক্তার কাকলী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এম আলাউদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, সহ-সভাপতি সরোয়ার উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া, মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহমদ নিজামী, ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ, মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন মাস্টার, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এম সাইফুল্লাহ দিদার, আবু তোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মাইনুর ইসলাম রানা, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল ভূঁইয়া, উপজেলা ছাত্র লীগের আহ্বায়ক মাসুদ করিম রানা, যুগ্ম আহবায়ক জাফর ইকবাল নাহিদ ও মায়ানী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নূরের ছাপা নয়ন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, ‘মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে যে সব শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সব সময় তাদের পরিবারের পাশে থাকবে। মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ট্র্যাজেডিতে নিহত কোনো শিক্ষার্থীর পরিবারের যদি ঘর প্রয়োজন হয় তাহলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দেওয়া শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মাহবুব রহমান রুহেল বলেন, ‘মিরসরাই ট্র্যাজেডি পুরো বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিলো। চালকের অদক্ষতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছিলো।  

এসময় ১১ জুলাইকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ঘোষণার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।  

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাল্যবিয়ে বেড়ে গেছে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা মোবাইল গেমস ও মাদকে আশক্ত হয়ে পড়ছে। তাই অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।

পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সবাইকে মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার অনুরোধ করেন তিনি।

২০১১ সালের ১১ জুলাই মিরসরাই স্টেডিয়াম থেকে বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল ফাইনাল খেলা শেষে ফেরার সময় শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি পিকআপভ্যান বড়তাকিয়া-আবু তোরাব সড়কের সৈদালী এলাকায় পাশের একটি ডোবায় উল্টে যায়।  

যেখানে ৪৪ জন স্কুল ছাত্রসহ ৪৫ জন নিহত হয়। মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী নিহত হওয়া আবু তোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’ আর দুর্ঘটনাস্থলে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ ‘অন্তিম’।

বাংলাদেশ সময় : ২০০৬ ঘণ্টা, জুলাই ১১, ২০২১
এসএইচডি/আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa