ঢাকা, রবিবার, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

‘স্বাভাবিক জীবনে ফেরার মতো অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৫২ ঘণ্টা, জুলাই ১১, ২০২১
‘স্বাভাবিক জীবনে ফেরার মতো অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি’ খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

ঢাকা: আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বিবেচনায় আমরা পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি বলে মন্তব্য করেছেন নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

ঈদের আগে চলমান কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করে গণপরিবহন চলবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন।

 

রোববার (১১ জুলাই) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নৌ সেক্টরে করোনা টিকা দেওয়ার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে খালিদ মাহমুদ এ মন্তব্য করেন।

ঈদ উপলক্ষে চলমান বিধিনিষেধে শিথিলতা আসবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধের সময়মীমা রয়েছে। আমাদের টেকনিক্যাল কমিটিতে যারা আছেন তাদের পরামর্শে সরকার যদি মনে করে বিধিনিষেধ এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সেটিও হতে পারে। সবকিছুই এখন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। একটা কথা বার বার বলেছি আমাদের জীবনে ঈদ অনেকবার আসবে যদি আমরা বেঁচে থাকি। আমাদের এ অবস্থা থেকে বের হতেই বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে, সেটি সবার মানা উচিত।

নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, বিধিনিষেধ চলমান থাকলে গণপরিবহন চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। আর বিধিনিষেধ যদি প্রত্যাহার হয় সেটা কীভাবে প্রত্যাহার হবে, যদি সীমিত আকারে হয়, সীমিত আকারেই চলবে। যদি পুরোপুরি উঠে যায় পুরোপুরিই চলবে। আমার মনে হয় যে পরিস্থিতি আছে সেখানে আমাদের পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি।

বিধিনিষেধের মধ্যে ফেরিতে যাওয়ার ভিড় দেখা গেছে, ঈদে তাদের নিবৃত করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফেরিতে মানুষ চলে যাচ্ছে, সেখানে ব্যাপক সমাগম হচ্ছে। আমাদের গণতান্ত্রিক দেশ, আমরা তো এ মানুষগুলোর ওপর আক্রমণাত্মক হতে পারি না। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার সেটিই নিচ্ছে। এর বাইরে আমাদের একটি বিষয়ই বলার আছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য এবং সরকারের বিধিনিষেধ মানার জন্য। এটাকে ঘিরে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য না দেওয়ার জন্য আমি সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাবো।  

নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, বিধিনিষেধে যেটা আছে গণপরিবহন, ব্যক্তিগত গাড়ি পারাপারের জন্য ফেরি চলবে না। ফেরি চলবে অ্যাম্বুলেন্স, সরকারি কার্যক্রম, গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ প্রয়োজনে। কিন্তু এ বিশেষ প্রয়োজনের জন্য আমাদের ফেরিগুলো যখন ঘাটে ভিড়ে তখন মানুষগুলো হুমড়ি খেয়ে পড়ে। সেই মানুষগুলোর ওপর তো আমরা আক্রমণাত্মক হতে পারি না। সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, সচিবালয় থেকে সেই সিদ্ধান্ত দেওয়া কঠিন। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।  

ঈদে ফেরি চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ফেরি কখনো বন্ধ করিনি, ফেরি এখনও চালু আছে। আমাদের বিশেষ ক্ষেত্রে আমরা এটাকে ব্যবহার করেছি। আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে, অ্যাম্বুলেন্স, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিশেষ প্রয়োজনে কিছু মুভমেন্ট দরকার হয় সেজন্য ফেরি সচল ছিল।  

তিনি বলেন, আমরা কিন্তু সরকারের বিধিনিষেধের বিষয়ে কঠোর ছিলাম। সর্বসাধারণকে আমরা বিধিনিষেধ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছি। অনেকগুলো দেশ রেড জোনে আছে, দীর্ঘদিন এভাবে পড়ে থাকলে আমরা পিছিয়ে যাবো। তাই সব নাগরিকের সচেতন হতে হবে। আমরা জানি ঘরে থাকা কঠিন, যুদ্ধক্ষেত্রেও মানুষ ঘরে থাকতে চায় না। কিন্তু এটাও একটা যুদ্ধ, এটাকে না মানার পরিস্থিতি কিন্তু ভয়াবহ হয়ে গেছে। গ্রামে অনেকে করোনা টেস্ট করছে না, অনেকে মারা যাচ্ছেন, আমরা জানতেই পারছি না। এটি এখন ছড়িয়ে গেছে। সেজন্য সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ মেনে চললে আমরা তার সুফল পাবো, গতবারও কিন্তু সেটি পেয়েছি।  

বাংলাদেশ সময়: ১৭৫১ ঘণ্টা, জুলাই ১১, ২০২১
এমআইএইচ/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa