ঢাকা, শনিবার, ৭ কার্তিক ১৪২৮, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

না খেয়ে কী স্ত্রীসহ উপোস করে মরবো?

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৭১৪ ঘণ্টা, জুলাই ১১, ২০২১
না খেয়ে কী স্ত্রীসহ উপোস করে মরবো?

লক্ষ্মীপুর:  চুল-দাঁড়ি সব পাক ধরেছে। ঠিকমত হাঁটতেও পারেন না ।

এক সময় বাদাম বিক্রি করলেও শরীরে শক্তি-সামর্থ না থাকায় তাও আর হয়ে উঠছে না। একটা মাত্র ছেলে ছিলো, বিয়ে করার পর সেও চলে যায় শ্বশুরবাড়ি। উপায় না পেয়ে মানুষের কাছে হাত পাততে হচ্ছে। কিন্তু বিপত্তি সেখানেই ‘লকডাউনের’ কারণে মানুষ ভিক্ষাও দিতে চায় না, যেন সবাই অভাবী। এভাবেই নিজের অভাব ও কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন বৃদ্ধ মুনাফ মাল (৭৫)।

জানালেন একমাস ধরে অসুস্থ তিনি। তারপরও বেরিয়েছেন রাস্তায়। ঘরে স্ত্রী অপেক্ষা করছেন চাল নিয়ে গেলে হবে রান্না। কিন্তু ‘লকডাউনের’ কারণে দোকানপাট বন্ধ থাকায় পাচ্ছেন না তেমন সহযোগিতা। এতে দুঃচিন্তায়, হতাশায় ভুগছেন তিনি।

মুনাফ মাল এক সময় বাদাম বিক্রি করতেন। কিন্তু বয়স হয়ে যাওয়ায় এখন আর কাজ করতে পারছেন না। তাই তো ভিক্ষা করে চলছে বৃদ্ধ মুনাফ মাল ও স্ত্রী ফয়েজের নেছার (৬০) সংসার।

বৃদ্ধ মুনাফ মালের বাড়ি ছিলো উপকূলীয় জেলা ভোলায়। সেখানে নদী তার বাড়ি ঘর ভেঙে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে লক্ষ্মীপুরে সদর উপজেলার শাকচর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মালেগো বাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন।

মুনাফ মালের একটি মাত্র ছেলে। সেও তাদের রেখে চলে যায় ২ বছর হলো। তিনি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ঘর-বাড়ি করে থাকেন। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের খবর নেয় না তিনি।

মুনাফ মাল বলেন, দীর্ঘ ১ মাস অসুস্থ ছিলাম। ঘরে কোনো খাবার নেই। তাই তো অসুস্থ শরীর নিয়ে ভিক্ষা করতে লক্ষ্মীপুর বাজারে এসেছি। কিন্তু মানুষ তেমন ভিক্ষা দিচ্ছে না। এতে বাড়িতে চাল নেওয়ার দুঃচিন্তায় পড়ে গেছি। এ জেলার বাসিন্দা না হওয়ায় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকেও কিছু পাচ্ছি না। তাই তো কষ্টে দিন কাটছে আমাদের। চোখে-মুখে অন্ধকার দেখি, কী করে চলবে। না খেয়ে কী স্ত্রীসহ উপোস করে মরবো?

বাংলাদেশ সময়: ০৭১৪ ঘণ্টা, জুলাই ১১, ২০২১
এসএইচডি/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa