ঢাকা, বুধবার, ৪ কার্তিক ১৪২৮, ২০ অক্টোবর ২০২১, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

ডিএসসিসির অভিযানে ২২ মামলায় ৫ লাখ টাকা জরিমানা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০০০ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০২১
ডিএসসিসির অভিযানে ২২ মামলায় ৫ লাখ টাকা জরিমানা

ঢাকা: এডিস মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে অভিযানে ২২ মামলায় ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত।  

শনিবার (১০ জুলাই) দিনব্যাপী এডিস মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬ জন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (আনিক) ও করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।



অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতসমূহ ২১৬টি ভবন ও নির্মাণাধীন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং ২০টি ভবন ও নির্মাণাধীন স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় এবং অননুমোদিতভাবে দোকান খোলা রাখা ও যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করাই সর্বমোট ২২ মামলায় ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।

করপোরেশনের ১, ২, ৩, ৫, ৯ ও ১০ নম্বর অঞ্চলের আনিকরা ও সম্পত্তি বিভাগের দুই জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নগরীর ধানমন্ডির জিগাতলা, হাজারীবাগ, শাজাহানপুর, কদমতলা, কে এম দাস লেন, অভয় দাস লেন, মাতুয়াইল ও শ্যামপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।  

অঞ্চল-১ এর আনিক মেরীনা নাজনীন ধানমন্ডি এলাকায় অভিযানকালে ১৫টি স্থাপনা পরিদর্শন করেন। এ সময় গণপূর্ত অধিদপ্তরের একটি ও বাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সুবাস্তুর একটি নির্মাণাধীন ভবনসহ মোট ৪টি ভবনে মশার লার্ভা পাওয়ায় মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবির ত্রপা ১১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর শাহজাহানপুরের আমতলা এলাকায় ৫০টি ভবন পরিদর্শন করেন। এ সময় ৬টি ভবনে মশার লার্ভা পাওয়ায় ৬টি মামলা দায়ের ও ১ লাখ ৬ হাজার টাকা জরিমানা করেন।   নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ কদমতলা ওয়াসা রোড, মদিনাবাগ, উত্তর মুগদা এলাকায় ২৮টি বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং দুটি বাড়িতে মশার লার্ভা পাওয়ায় দুই মামলায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ সময় ‘লকডাউনের’ মধ্যে একটি জুতার দোকান খোলা রাখায় সেখানেও অভিযান চালিয়ে ১টি মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও অভিযানকালে ৬টি বাড়ির মেঝেতে (আন্ডারগ্রাউন্ডে) পানি জমা থাকায় সেগুলোতে দ্রুত সময়ের মধ্যে বালু ভরাট করার লিখিত মুচলেকার মাধ্যমে সতর্ক করা হয়।

অঞ্চল-৩ এর আনিক বাবর আলী মীর হাজারীবাগ ও জিগাতলায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে তিনি ১০টি স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং হাজারীবাগ ও জিগাতলা এলাকায় দুটি নির্মাণাধীন ভবনে মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অঞ্চল ৫ এর আনিক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সরকার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের অভয় দাস লেন ও কে এম দাস লেন এলাকায় ৩০টি বাড়ি ও নির্মাণধীন ভবন পরিদর্শন করেন। এ সময় দুটি ভবন ও দুটি দোকানে লার্ভা পাওয়ায় মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অঞ্চল-৯ এর আনিক মো. খায়রুল হাসান মাতুয়াইল এলাকায় ৩০টি নির্মাণাধীন ভবন ও কারখানা পরিদর্শন করেন। এ সময় একটি বাড়ির সামনে রাস্তায় বর্জ্য ফেলে যান চলাচল ও লোকজনের চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করায় তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও ৫টি নির্মাণাধীন ভবনে মশার প্রজননস্থল দেখতে পাওয়ায় আদালত সেসব বাড়ির মালিকদের একদিনের সময় বেঁধে দেন। আগামী রোববারের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তাদের বাড়িগুলো সিলগালা করা হবে বলে সতর্ক করা হয়।  

অঞ্চল ১০ এর আনিক মোহাম্মদ মামুন মিয়া শ্যামপুরের লাল মসজিদ রোড, বালুর মাঠ ও বড়ইতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে আদালত ৫৩টি স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং লাল মসজিদ রোডের দুটি নির্মাণাধীন ভবনে মশার মশার লার্ভা পাওয়ায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অভিযান রোববারেও চলমান থাকবে বলেও সিটি কর্পোরেশন থেকে জানানো হয়।  

বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৮ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০২১
আরকেআর/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa