ঢাকা, রবিবার, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতেও করোনামুক্ত বাগেরহাট জেলা কারাগার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬১৬ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০২১
সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতেও করোনামুক্ত বাগেরহাট জেলা কারাগার জেলা কারাগার।

বাগেরহাট: করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিনিয়তই বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা। লকডাউন, জরিমানা, মাস্ক বিতরণ ও সচেতনতামূলক নানা কার্যক্রমেও কমানো যাচ্ছে না সংক্রমণ ও মৃত্যুহার।

শহর থেকে গ্রাম সবখানেই করোনা রোগী ও স্বজনদের হাহাকার।  

এই পরিস্থিতিতেও করোনামুক্ত রয়েছে বাগেরহাট জেলা কারাগার। কারাগারে হাজতি প্রবেশের নিয়ম কানুন ও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় করোনামুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষ।

বাগেরহাট জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর পর্যন্ত বাগেরহাট জেলা কারাগারে ৬৫০ জন বন্দি রয়েছে। এর মধ্যে ৬২২ জন পুরুষ, ২৬ জন নারী ও ২ জন শিশু রয়েছে তাদের মায়ের সঙ্গে। সাড়ে ছয়শ  হাজতির বসবাস, প্রতিনিয়ত হাজতি বের হওয়া ও প্রবেশ করা এই প্রতিষ্ঠানটি করোনামুক্ত থাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছেন জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের।

বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার একেএম মাসুম বলেন, কারাগার খুবই স্পর্শকাতর একটি জায়গা। এখানে প্রতিনিয়তই নতুন বন্দি আসেন, আবার মুক্তি পেয়ে চলে যান। অল্প জায়গায় অধিক মানুষের বসবাস এখানে। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে এই কারাগারকে সংক্রমণমুক্ত রাখতে আমরা সব ধরনের সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছি। একজন বন্দি এলে, আমরা প্রথমে তাকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও নতুন মাস্ক ব্যবহার করিয়ে ভেতরে প্রবেশ করাই। সেখানে আলাদা একটি কক্ষে নিয়ে গোসল ও তার কাপড় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করানো হয়। পরে ১৪ দিনের জন্য আলাদা একটি জায়গায় কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ না হওয়ার আগে তাকে অন্য কারও সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয় না। ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ হলে তাদের ওয়ার্ডে দেওয়া হয়।  

এছাড়াও করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে আমরা বন্দিদের সঙ্গে তাদের স্বজনদের দেখা সাক্ষাতের বিষয়টিও অনেক সতর্কতার সঙ্গে করিয়েছি। আমাদের প্রচেষ্টা ও সবার সহযোগিতায় কারাগার এখনও করোনামুক্ত রয়েছে। আশাকরি ভবিষ্যতেও করোনামুক্ত থাকবে।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কেএম হুমায়ুন কবির বলেন, কারাগার একটি ঘনবসতি জায়গা। এখানে যদি কেউ করোনা আক্রান্ত হন, তাহলে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হবে। তাই প্রথম থেকেই এখানে প্রয়োজনীয় নিয়ম কানুন মানতে বলা হয়েছে। আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করছি কারাগারে। কারা কর্তৃপক্ষকে করোনা সংক্রমণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এভাবে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ আজিজুর রহমান বলেন, কারাগার পরিদর্শন করেছি। সেখানে কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে একটি সভা করা হয়েছে। সরকারি নিয়মনীতি মানার জন্য তাদের অনুরোধ করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসকরা নিয়মিত পরিদর্শনও করছেন। কারাগার কর্তৃপক্ষের সতর্কতা ও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় এখন পর্যন্ত করোনামুক্ত রয়েছে। এটা নিশ্চয়ই ইতিবাচক। এভাবে চলতে পারলে ভবিষ্যতেও বাগেরহাট জেলা কারাগার করোনামুক্ত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৬১৫ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০২১
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa