ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ কার্তিক ১৪২৮, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

মোড়ে মোড়ে আড্ডা, চলে লুডুর জুয়া!

মিরাজ মাহবুব ইফতি, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০২২০ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০২১
মোড়ে মোড়ে আড্ডা, চলে লুডুর জুয়া!

ঢাকা: লকডাউনে পাড়া-মহল্লার গলির বেশিরভাগ চায়ের দোকানের একটি শাটার বন্ধ করে খোলা রাখতে দেখা যায়। এসব দোকানের সামনে স্থানীয় এলাকাবাসীর আড্ডা নিয়মিত ঘটনা।

টহলে থাকা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি দেখলেই অলিগলি ও বাসা-বাড়িতে ঢুকে যান তারা। সুযোগ পেলেই পাড়া-মহল্লার মোড়ে মোড়ে বসে মোবাইলে খেলা হয় লুডুর জুয়া।

শুক্রবার (৯ জুলাই) লকডাউনের নবম দিনে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর কালশী মোড় ও মিরপুর ১২, ১১, ১০ নম্বর এলাকার পাড়া-মহল্লা ও বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

লকডাউনের মধ্যে মিরপুর-১১ রহমত ক্যাম্প এলাকার রাস্তার মোড়ে মোড়ে একসঙ্গে জড়ো হয়ে অনেককেই লুডু খেলতে দেখা যায়। মো. আরমান বলেন, আমরা এখানে বসে মোবাইলে লুডু খেলি আর তো কিছু করি না। পুলিশের গাড়ি এলে আমরা আমাদের মতো করে সরে যাই। পুলিশ চলে গেলে আবার এসে বসে লুডু খেলা শুরু করি। লকডাউনে অন্য কোথাও যেতে পারি না এজন্য বাসার সামনে বসে বসে মোবাইলে লুডু খেলি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রহমত ক্যাম্প এলাকার এক বাসিন্দা বাংলানিউজকে বলেন, এই এলাকার চার-পাঁচ জায়গায় লুডুর জুয়ার আসর বসে। লুডুর আসরেই মোবাইলে জুয়া খেলা হয়। বেশি জুয়ার আসর বসে এই এলাকার একটি সেলুনে।

এছাড়াও এসব এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশের চায়ের দোকান, টেইলার্স, খাবারের দোকান, লন্ড্রি ও বিভিন্ন ব্যাংকের বুথের সামনে আড্ডা।

রাজধানী পল্লবীর কালশী রোডের দোকানি মো. মামুন বলেন, লকডাউনে সবকিছু বন্ধ থাকলেও আমাদের দোকান ভাড়া অন্য খরচ তো আর বন্ধ নেই। সংসার চালাতে হয়। পরিবার নিয়ে খেয়ে পরে বাঁচতে হবে। কেউ তো আর আমাদের সাহায্য করে না। এ কারণেই লুকিয়ে লুকিয়ে বেচাকেনা করি।

কারচুপি কারিগর মো. নাসিম বলেন, কতক্ষণ ধরে বসে থাকা যায়। বিকেল হয়েছে তাই হাঁটাচলা করার জন্য বাইরে বের হয়েছি। আমরা যারা কারচুপির কাজ করি আমাদের মার্কেট খোলা থাকলে ইনকাম হয়। লকডাউনে মার্কেট বন্ধ, তাই আমাদের ইনকাম ও বন্ধ। কাজ না করলে খাবো কী।

এসব বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, লকডাউনে মানুষজনকে ঘরে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা। পল্লবী থানা এলাকায় যেসব গাড়ির টহল দিচ্ছে সে সময় মানুষজন ঘরে ঢুকে যাচ্ছে। ওই এলাকা থেকে টহলরত গাড়ি চলে যাওয়ার পরে আবার মানুষজন বেরিয়ে পড়ছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি পারভেজ বলেন, মোবাইলে লুডুর জুয়ার আসরের বিষয়ে আমরা যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।

বাংলাদেশ সময়: ০২১৫ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০২১
এমএমআই/এএ
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa