ঢাকা, রবিবার, ১ কার্তিক ১৪২৮, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

‘আশ্রয়ণ প্রধানমন্ত্রীর ড্রিম প্রজেক্ট, কোনো অবহেলা সহ্য করবো না’

মহিউদ্দিন মাহমুদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৪১ ঘণ্টা, জুলাই ৯, ২০২১
‘আশ্রয়ণ প্রধানমন্ত্রীর ড্রিম প্রজেক্ট, কোনো অবহেলা সহ্য করবো না’

ঢাকা: আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর ড্রিম প্রজেক্ট হিসেবে উল্লেখ করে এ প্রকল্পে বাড়ি নির্মাণে কোনো অনিয়ম-অবহেলা সহ্য করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন।

শুক্রবার (৯ জুলাই) মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ কথা বলেন তিনি।

এদিন সকাল থেকে প্রথম দফায় সারাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাকে পাঁচটি ব্লকে ভাগ করে পরিদর্শন শুরু করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাঁচটি টিম। আগামী কয়েক দিন আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ও নির্মাণাধীন বাড়িগুলোর অবস্থা দেখতে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা সদর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম চষে বেড়াবে এসব টিম। এরমধ্যে একটি টিমে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন নিজেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

পরিদর্শনকারী টিমগুলোকে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় নির্মিত এবং নির্মাণাধীন বাড়িগুলোর নির্মাণশৈলী-গুণগতমান, অনুমোদিত ডিজাইন-প্রাক্কলন অনুযায়ী হয়েছে কিনা তা যাচাই করার ও ছবিসহ প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জে আশ্রয়ণের বাড়ি পরিদর্শনকালে প্রকল্প পরিচালক মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা জানেন যে প্রধানমন্ত্রীর ড্রিম প্রজেক্ট হলো আশ্রয়ণ প্রকল্প। এটা প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প। একটা গরিব লোক যিনি ঘর পাচ্ছেন এটা তার একটা স্বপ্নের সূচনা হয়। কাজেই এটা নিয়ে আমরা কোনো অবহেলা করবো না এবং কোনো অবহেলা সহ্য করবো না।

তিনি বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে বিনে পয়সায় ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে বিনে পয়সায় জমি ও ঘরের মালিকানা দেওয়া হচ্ছে। যেটাকে আমরা বলি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেল’। প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স।

বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ কমিটি করে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক।

সারাদেশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি পরিদর্শন শুরু করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা পাঁচটা টিম করে দিয়েছি। সারাদেশে আজকে থেকে পরিদর্শন শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব জেলাতে যাবে। বিশেষ করে যেখানে এ কথাগুলো (অনিয়মের অভিযোগ) উঠছে।

বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ বিষয়ে মাহবুব হোসেন বলেন, দুই পর্যায়ে বাড়ি হস্তান্তরের পরে এখন বিভিন্ন মিডিয়াতে মাঝে মধ্যেই আমরা দেখি বিশেষ করে কয়েকটা জেলায়। তার মধ্যে মুন্সিগঞ্জ একটা জেলা যেখানে আজকে আমরা এসেছি। আসার উদ্দেশ্য হলো যে তথ্য আমরা পেয়েছি সেটা যাচাই করা।

মুন্সিগঞ্জে একটি এলাকায় কিছু বাড়ির ফ্লোর ফেটে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রকল্প পরিচালক মাহবুব হোসেন বলেন, এটা নিয়ে আমরা কমিটি গঠন করেছি। প্রাথমিকভাবে আমি যে তথ্য পেয়েছি ওখানে ইটের সলিং দেওয়ার কথা সেটা তারা দেয়নি এবং ঢালাইটাও মানসম্মত না। সেটি পাওয়ার পর কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী মেরামত শুরু করা হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ সদরে এ কাজের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত ছিল তারা সবাই ওএসডি হয়েছেন। চাকরিবিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাহবুব হোসেন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি সবাই মিলে কিন্তু কাজটা করছেন। এ করোনাকালীন এক লাখ ১৮ হাজার ৩৮০টি ঘর দেওয়া এটা কম কথা নয়। তাদের কাজকে আমরা অবশ্যই সাধুবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। কিন্তু আমাদের মনটাই খারাপ হয়, যখন আমরা দুই চারটা সমস্যার কথা শুনি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান, মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ বি এম সরওয়ার-ই-আলম সরকারসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মাঠ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অতিবৃষ্টি, বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নির্মাণে অনিয়মের কারণে বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়ণের বেশ কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি নির্মাণে ত্রুটির বিষয়টি সামনে আসতেই নড়ে চড়ে বসেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণে অনিয়ম, অবহেলা ও অর্থ আত্মসাৎকারীদের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে এগোচ্ছে। অভিযোগ তদন্ত করে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে সরকার। এরইমধ্যে পাঁচজন সরকারি কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে।

একইসঙ্গে আশ্রয়ণের অভিযোগগুলো তদন্তে সারাদেশে নির্মিত ও নির্মাণাধীন বাড়িগুলো পরিদর্শনে নেমেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাঁচটি টিম।

‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেল’ বাস্তবায়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত সর্বমোট এক লাখ ১৮ হাজার ৩৮০টি পরিবারকে দুই শতাংশ খাস জমিসহ দুই কক্ষ বিশিষ্ট আধা পাকা বাড়ি দেওয়া হয়েছে।

‘বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশে দুই লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার ও জমি আছে ঘর নেই অথবা অত্যন্ত জরাজীর্ণ ঘর এ রকম পাঁচ লাখ ৯২ হাজার ২৬১টি পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে বাড়ি নির্মাণ করে দেবে সরকার।

আরও পড়ুন...
** আশ্রয়ণের বাড়ি পরিদর্শনে গ্রামে গ্রামে ছুটছে পিএমও টিম
** আশ্রয়ণ প্রকল্প: পরিদর্শনে নামছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টিম
** আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়ম: ফেঁসে যাচ্ছেন শতাধিক কর্মকর্তা! 


বাংলাদেশ সময়: ১৮৩৭ ঘণ্টা, জুলাই ০৯, ২০২১
এমইউএম/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa