ঢাকা, রবিবার, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

জামালপুরে পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভাঙছে বসতভিটা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৩৯ ঘণ্টা, জুলাই ৯, ২০২১
জামালপুরে পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভাঙছে বসতভিটা নদী ভাঙন। ছবি: বাংলানিউজ

জামালপুর:  উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, দশানী নদীর পানি বেড়ে নদী তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (৯ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্ট এলাকায় যমুনার পানি বিপৎসীমার মাত্র ৬১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত চারদিনে জেলার ইসলামপুরে প্রায় শতাধিক ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে বাহাদুরাবাদ নৌ-থানা, দেওয়ানগঞ্জ-খোলাবাড়ী ও দেওয়ানগঞ্জ রাজীবপুর সড়ক। নদ নদীর পানি বাড়তে থাকায় নদীপারের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি হুমকির মুখে রয়েছে।

শুক্রবার  সরেজমিনে দেখা গেছে, চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের ২ নম্বর ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর হলকা, হাবড়াবাড়ী গুচ্ছ গ্রাম, টিনেরচর এলাকায় প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি যমুনার গর্ভে বিলীন হয়েছে। নদী ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে প্রায় এক হাজার পরিবার। এসব পরিবার যমুনার ভাঙনে হতাশায় রয়েছেন। চিকাজানি ইউনিয়নের খোলাবাড়ী, হাজরাবাড়ী, চর মাগুরী হাট, মণ্ডল বাজার, বাহাদুরাবাদ নৌ-থানা ও দেওয়ানগঞ্জ-খোলাবাড়ী প্রধান সড়ক হুমকির মুখে রয়েছে।

ইসলামপুরের চিকাজানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মমতাজ উদ্দীন আহাম্মেদ জানান, প্রতিবছরে যমুনার ভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে চিকাজানি ইউনিয়নের মানচিত্র। বিগত ৩ বছরে ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর ডাকাতিয়া গুচ্ছগ্রাম, হান্নান মাস্টারের গ্রাম, হাজারীপাড়া, ২ নম্বর ওয়ার্ডের খোলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, খোলাবাড়ী জামে মসজিদ, ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর মাগুরী হাট নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৪ হাজার ভোটার দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, রানীগঞ্জ, খাটিমাড়ী, ফুলছড়িসহ নানা জায়গায় বসবাস করছে। চলতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই হুমকির মুখে রয়েছে দেওয়ানগঞ্জ-খোলাবাড়ী সড়ক, মণ্ডল বাজারসহ দেওয়ানগঞ্জ-রাজীবপুর সড়ক।

অপরদিকে দশানী নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের ঝালোর চর, চর বাহাদুরাবাদ, পৌল্লাকান্দি, ঝালোরচর প্রাচীন জামে মসজিদ ও ঐতিহ্যবাহী ঝালোরচর হাট। হাতীভাঙ্গা ইউনিয়নের সবুজপুর, পশ্চিম কাঁঠারবিল, চরআমখাওয়া ইউনিয়নের জিঞ্জিরাম নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে, পশ্চিম সানন্দবাড়ী, লম্বাপাড়া, সবুজপাড়া, ডাংধরা ইউনিয়নের পাথরের চর, মাখনের চর এলাকা।  

বাহাদুরাবাদ নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, যমুনার পানি বাড়তে থাকায় নদীর পাড় ভাঙছে, পশ্চিমে বালুরচর পড়ায় পূর্ব পাশে পানির স্রোত থাকায় নৌ-থানা হুমকিতে রয়েছে।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাঈদ জানান, বাহাদুরাবাদের ঝালোরচর হাট ও মসজিদের ব্যাপারে ভাঙন রোধ করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর এলজি সড়কগুলোর বিষয় উপজেলা প্রকৌশলী রিপোর্ট করলে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবগত করতে পারবো।

দেওয়াগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ জানান, বর্ষা মৌসুম শুরুতেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নদীর তীরবর্তী এলাকা ভাঙন শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন দপ্তরে রিপোর্ট করা হবে। এরই মধ্যে ঝালোরচর মসজিদ পরিদর্শন করা হয়েছে। এটি রক্ষার্থে জিও ব্যাগ ফেলার জন্য নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৩৫ ঘণ্টা, জুলাই ০৯, ২০২১
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa