ঢাকা, বুধবার, ১১ কার্তিক ১৪২৮, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

‘মুই মইরা গ্যালেও ‍আমনেগো বাসায় যামু না’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট   | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১০৫ ঘণ্টা, জুলাই ৮, ২০২১
‘মুই মইরা গ্যালেও ‍আমনেগো বাসায় যামু না’

বরিশাল: বরিশাল নগরের ব্যস্ততম ‍একটি সড়কের পাশে  শিশু গৃহকর্মীকের প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ ‍উঠেছে ‍এক নারীর বিরুদ্ধে। ‘মুই মইরা গ্যালেও আর ‍আমনেগো বাসায় যামু না’- এক নারী যখন রাস্তায় হাত টানটিলেন আর চড়-থাপ্পড় মারছিলেন তখন শিশুটি বারবার একথা বলছিল।

একথা শুনেই বিষয়টিতে নাক গলান পথচারীরা। তখন ওই নারী নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলে দাবি করেন।

যদিও পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পাশেই থাকা ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা ওই শিশুকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ হেফাজতে দেন।  

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে ১১ টার মধ্যে বরিশাল নগরের চৌমাথা বাজার সংলগ্ন ‍সড়কে ‍এ ঘটনা ঘটে। শিশু গৃহকর্মী মনির (১১) বাবুগঞ্জ উপজেলার পিতা মন্টু হাওলাদারের মেয়ে।  

প্রত্যক্ষদর্শী রফিকুল ইসলাম হাওলাদার জানান, শিশুটি চৌমাথা বাজার সংলগ্ন সড়কটি পার হচ্ছিল। ‍এসময় ‍একজন নারী ও একটি ছেলে ‍এসে তার হাত ধরে টান দেয় ‍এবং কিছু বলার পরপরই চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করে। মেয়েটি চিৎকার করে বলতে থাকে ‘মুই মইরা গ্যালেও ‍আর ‍আমনেগো বাসায় যামু না’। মেয়েটির কথা শুনে ‍আশপাশের লোকজন তাদের কাছে ‍এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে মারধরের কারণ ‍জানতে চান। ‍ 

বিনা কারণে মেয়েটিকে মারধর করায় ওই নারীকে পুলিশে দেওয়ার কথা বলতেই তিনি ‍আরো ক্ষেপে যান ‍এবং পুলিশকে ‍উদ্দেশ্য করে গালি দেন। তখন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা ‍এগিয়ে ‍এসে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলেন।

মমতাজ নামে আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মেয়েটিকে মারধরের সময় স্থানীয়রা ‍এগিয়ে গেলে নারীর সঙ্গে থাকা ছেলেটি জানায়, তার বাবা ডিবির বড় অফিসার।

প্রত্যক্ষদর্শী আবুল কালাম জানান, মেয়েটিকে মারধরের সময় ‍আশপাশে লোকজনের ভিড় হয়ে গেলে পাশে থাকা ট্রাফিক পুলিশের লোকজন সেখানে ‍আসে। তারা ওই মেয়েটিকে পাশের পুলিশ বক্সে নিয়ে যায় ‍এবং শিশুটিকে থানা পুলিশের কাছে দিয়ে দেয়।

এদিকে শিশু গৃহকর্মীর দাবি তাকে গালমন্দ ও নির্যাতন করায় সে ‍আর ওই বাসায় ফিরে যাবে না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারীর স্বামী জেলা ডিবির পরিদর্শক মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, অসহায় হওয়ায় কয়েকদিন আগে অভিভাবকরাই শিশুটিকে তাদের বাসায় রেখে যান। আর শিশুটিকে গৃহকর্মী হিসেবে রাখাও হয়নি। এদিকে তার স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় সকালে সে রিপোর্ট দেখানোর জন্য বাইরে বের হয়েছে। এই সুযোগে শিশুটি ঘরের বাইরে বের হয়ে যায়।

এদিকে কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম বলেন, যতদূর জানতে পেরেছি ৬ দিন আগে সে ওই বাসায় এসেছে। সেখানে বকাঝকা করায় মেয়েটি বাসা থেকে আজ সকালে বের হয়ে যায়। পরিদর্শকের পরিবারের লোকজন খুঁজতে বের হয়। ঘটনাস্থলে এসে শিশুটিকে পেলে তারা বাসায় নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু মেয়েটি না যেতে চাইলে টানা-হেঁচড়া করা হয়, যে বিষয়টি দৃষ্টিকটূ ছিল। এরপর পুলিশ খবর পেয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। শিশুটি বর্তমানে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রয়েছে, তার পরিবার এসে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বলেন, যেহেতু শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেহেতু নিয়মানুযায়ী ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। অভিযোগ, ভিকটিমের জবানবন্দি ও বাবা-মায়ের অভিযোগ সবকিছু শুনেই ঘটনার তদন্ত করে যা সামনে আসবে সেভাবেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন সবার জন্য সমান। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ সময়: ২১০৫ ঘণ্টা, জুলাই ০৮, ২০২১
এমএস/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa