ঢাকা, সোমবার, ২ কার্তিক ১৪২৮, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

‘ডিপোরমুখ সেতু’ লক্ষাধিক মানুষের জন্য অভিশাপ

মঈন উদ্দীন বাপ্পী, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮২০ ঘণ্টা, জুলাই ৮, ২০২১
‘ডিপোরমুখ সেতু’ লক্ষাধিক মানুষের জন্য অভিশাপ

রাঙামাটি: রাঙামাটির দুর্গম এবং সবচেয়ে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ি। বর্তমান সরকার এই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে আমতলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কবিরপুর এলাকায় কাচালং নদীর উপর ‘ডিপোরমুখ সেতু’ নির্মাণ করে।

সেতুটি নির্মাণের উদ্দেশ্য হলো- বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে লংগদু উপজেলার গুলশাখালী, ভাসাইন্যাআদাম এবং বগাচত্ত্বর ইউনিয়নের বাসিন্দারা সহজে যোগাযোগ করতে পারে।
 
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাঘাইছড়ি উপজেলার আমতলী  ইউনিয়ন এবং লংগদু উপজেলার গুলশাখালীসহ তিন ইউনিয়নের বাসিন্দারা নৌকায় কাচালং নদী পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করে। সঙ্গত কারণে বাঘাইছড়ি-লংগদু উপজেলার দু’পারের জনগণের জন্য একটি সেতু সময়ের দাবি হলেও অপরিকল্পিতভাবে সেতুটি নির্মাণের কারণে নৌপথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু তাই নয় যোগাযোগ রক্ষার্থে যতো বড় সেতুর প্রয়োজন তার চেয়ে অত্যন্ত ছোট। তৈরি করা হয়েছে দুর্বল কাঠামো দিয়ে। নদীর পাড় ভাঙলে সেতুটি ধসে কাচালং নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

আমতলী ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা ও একই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রুবেল আলম বাংলানিউজকে বলেন, সেতুটি নির্মাণের পর থেকে আন্দোলন করেছি। সেতুটি যে উচ্চতায় নির্মাণ করা হয়েছে সেই উচ্চতায় কাচালং নদীর পানি উঠে। পানি বাড়লে সেতুটি তলিয়ে যাবে।

আমতলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নূর তৌহিদ বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের এলাকায় যে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে তা অত্যন্ত ছোট। কাচালং নদীর দু’পারের সংযোগ অক্ষুন্ন রাখতে আরো বড় ও উঁচু সেতুর দরকার। তিনি আরও বলেন, সেতুটির পাটাতনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভেঙে গেছে রেলিং। আমার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেতুর ফাটাতন এবং রেলিংগুলো মেরামত করে দিয়েছে। তারপরও সেতুটি নিরাপদ না। সেতুটি নিচের দিকে দেবে গেছে।

আমতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাসেল চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, স্থানীয়রা অভিযোগ করলে আমি নিজ উদ্যোগে সেতুটি মেরামত করি। কোনো সমস্যা নেই। সেতু দিয়ে চলাচল করতে সড়ক নির্মাণ করে দিচ্ছি। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানিতে যাতে সড়ক তলিয়ে না যায় সেজন্য সড়ক আরও উঁচু করা হচ্ছে।

লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু নাছির বাংলানিউজকে জানান, সেতুটি নির্মাণ ছিলো অপরিকল্পিত। তৈরির আগে ভেঙে গেছে। নৌকা চলাচল করতে পারবে না। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নদীপথে বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে লংগদু উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে। যদি সেতুটি মজবুতভাবে নির্মাণ করা হতো তাহলে আমাদের তিন ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতো।

বাঘাইছড়ি উপজেলা ত্রাণ কর্মকর্তা (পিআইও) দেলোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে জানান, আমি সম্প্রতি এ পদে যোগদান করেছি তাই এ বিষয়ে কিছুই জানি না।

বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে গত ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে সেতুটি নির্মাণ করার কথা থাকলেও গত বছর বন্যার কারণে সেতুর কাজ করা যায়নি। তাই চলতি বছরের জুন মাসে কাজটি শেষ করা হয়েছে। সেতুটি নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ৩৪ লাখ টাকা।

ইউএনও আরও বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগগুলো শুনেছি। আমার প্রশ্ন হলো স্থানীয়রা আগে কেন বিষয়টি নিয়ে এগিয়ে আসেনি।

ইউএনও জানান, তারপরও সেতুটির তদন্তের ব্যাপারে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছি। সদস্যরা হলেন, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, উপজেলা স্থানীয় সরকার (এলজিইডি)  প্রকৌশলী এবং উপজেলা ত্রাণ কর্মকর্তা (পিআইও)। তারা সেতুটির বিষয় নিয়ে তদন্ত করবেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন। তদন্ত প্রতিবেদনের উপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ০৮১৯ ঘণ্টা, জুলাই ০৮, ২০২১
এনটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa