ঢাকা, রবিবার, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

তিস্তা নদীর ভাঙনে চার শতাধিক পরিবার সর্বস্বান্ত

ফজলে ইলাহী স্বপন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯২২ ঘণ্টা, জুলাই ৭, ২০২১
তিস্তা নদীর ভাঙনে চার শতাধিক পরিবার সর্বস্বান্ত তিস্তার ভাঙন কবলিত এলাকা

কুড়িগ্রাম: উজানে ভারীবর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলার ৮টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙনের কবলে মাত্র ৭ দিনের ব্যবধানে সর্বস্ব হারিয়েছে অন্তত চার শতাধিক পরিবার।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ও জিও টিউব দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালালেও প্রতিনিয়ত তিস্তা নদীর গর্ভে চলে গেছে শত শত বিঘা আবাদি জমি, গাছপালা, জলাশয়, পুকুরসহ দুটি মসজিদ।

বাপ-দাদার ভিটাসহ শেষ সম্বলটুকুও নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় ভাঙন কবলিত মানুষেরা আশ্রয় নিয়েছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উঁচু রাস্তা ও আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে।  সহায়সম্বল  হারানো ভাঙন কবলিতদের আহাজারিতে তিস্তা পাড়ের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী ও রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ কর্মকার বাংলানিউজকে জানান, তিস্তার প্রবল ভাঙন গত এক সপ্তাহে জেলার রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৪ শতাধিক পরিবারের সর্বস্ব গ্রাস করেছে। বর্তমানে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে উলিপুরের থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াই পিয়ার ও বজরা ইউনিয়নের পশ্চিম বজরা এলাকায়।

এছাড়াও রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াসাম, সরিষাবাড়ি ও খিতাব খাঁ গ্রামে প্রচণ্ড ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ৫ দিনে উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াই পিয়ার গ্রামে ৬১টি ভাঙন কবলিত পরিবারকে উলিপুর উপাজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মাহমুদ হাসান বাংলানিউজকে জানান, তিস্তা ব্রিজ থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার ব্যাপী উন্মুক্ত স্থানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে ৮টি পয়েন্ট চিহ্নিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ও জিও টিউব দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালালেও তীব্র স্রোতের মুখে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। রাজারহাট উপজেলার গতিয়াসাম, সরিষাবাড়ি ও খিতাব খাঁ গ্রামে প্রচণ্ড ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে এই তিন এলাকায় জিও ব্যাগ ও জিও টিউব দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধ করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে এর আপার সাইডে আবার নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, তিস্তা নদীতে প্রায় ৮টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙন রোধে আমরা বিভিন্ন স্থানে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব স্থাপন করে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে নদী গতিপথ পরিবর্তন করে নতুনভাবে আবার ভাঙন শুরু করেছে। এ ব্যাপারে আমরা একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি, সেটি অনুমোদন হলে তিস্তা নদী তীরবর্তী মানুষ ভাঙন ও বন্যার কবল থেকে রেহাই পাবে।

বুধবার (০৭ জুলাই) ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন কালে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক এম এ মতিন জানান, ভাঙন রোধে এটা একটা সাময়িক ব্যবস্থা। তিস্তার ভাঙন রোধে প্রধানমন্ত্রী সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছেন, যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে এই জনপদের মানুষের আর্থিক, সামাজিক সবক্ষেত্রেই পরিবর্তন ঘটবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯১৮ ঘণ্টা, জুলাই ০৭, ২০২১
এফইএস/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa