ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

গার্মেন্টস শ্রমিকদের টিকার আওতায় আনার দাবি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৪৫ ঘণ্টা, জুলাই ৬, ২০২১
গার্মেন্টস শ্রমিকদের টিকার আওতায় আনার দাবি

ঢাকা: গার্মেন্টস শ্রমিকদের করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় আনা ও চাকরির নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে ওএসকে গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন।

ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত এক যুক্ত বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, চলমান লকডাউন সমস্ত শ্রম সেক্টর বন্ধ থাকলেও মালিকদের চাপের কারণে গার্মেন্টস সেক্টর চালু রেখেছে সরকার। মালিকদের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা ও কঠার স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ খাত চালু রাখার কথা বলা হলও মালিকরা তা মানছেন না।

কারখানার আশেপাশে থাকা শ্রমিকরা পূর্বের মতো পায়ে হেঁটে কারখানায় এলেও দূরে অবস্থান করা শ্রমিকরা পড়ছেন বিপাকে। অনেক কারখানায় সেই সব শ্রমিকদের জন্য পরিবহনর ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন ব্যক্তিগত যান অতিরিক্ত টাকায় ভাড়া করে শ্রমিকরা কারখানায় যাতায়াত করছেন। এতে শ্রমিকদের পরিবহন ব্যয় ও রাস্তায় রাস্তায় ভোগান্তি  বাড়লেও মালিকরা এর কোনো দায় দায়িত্ব নিচ্ছে না। উপরন্তু পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে কোনো শ্রমিক কারখানায় উপস্থিত হতে না পারলে তাদর চাকুরিচ্যুতির হুমকি দিচ্ছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

নেতৃদ্বয় অভিযাগ করে বলেন, বিদেশি পুঁজি ও দেশীয় দালাল পুঁজির মুনাফার বলি হিসেবে সরকার গার্মেন্টস শ্রমিকদের করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতেও কাজ করতে বাধ্য করছে। এতে সরকার গার্মেন্টস শ্রমিকদের দিয়ে বিলিয়ন ডলার রেমিটন্স আয় করার কথাও বলছে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের দিয়ে জাতীয় আয় বাড়নোর অজুহাতে এ শিল্প চালু রাখার খোঁড়া যুক্তিও মালিকরা সরকারের কাছে উপস্থাপন করছে। অথচ সেই সব শ্রমিকদের মহামারি থেকে রক্ষার জন্য ভ্যাকসিন নিশ্চিত করাসহ মহামারি মোকাবলায় কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সরকার ও মালিক কেউ গ্রহণ করেনি। বরং অনেক কারখানায় দেখা যাচ্ছে, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করা হচ্ছে। লকডাউনজনিত সমস্যার কারণে অনক কারখানায়  দুই একদিন  অনুপস্থিত থাকলে তাদের হাজিরা, বোনাস বাতিল ও মজুরি কর্তনসহ চাকুরিচ্যুতির হুমকি দিচ্ছে।

এ অবস্তায় নেতৃদ্বয় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় স্বার্থ বা শ্রমিকদের স্বার্থের চেয়ে সরকার মালিকদের স্বার্থকেই মূল বিবেচনায় রেখেছে। দেশের বৃহৎ একটি শিল্প খাতোর বিপুল সংখ্যক শ্রমিকদের অরক্ষিত রেখে শুধু মালিকদের মুনাফার বলি হতে দেওয়া দেশের জন্য একটি বিধংসী তৎপরতা। তাই অবিলম্বে সকল গার্মেন্টস শ্রমিকদের করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় আনা, বিনামূল্য মাস্ক ও সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান, ঈদুল আজহার এক সপ্তাহ পূর্বে সকল বকেয়াসহ চলিত মাসের মজুরি ও ঈদ বোনাস, নিত্যপণ্য মূল্য কমানো ও শ্রমিকদের জন্য রেশনিং চালু, জরুরি পরিষেবায় নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য ঝুঁকি ভাতা প্রদান করতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৪৫ ঘণ্টা, জুলাই ০৬, ২০২১
ইইউডি/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa