ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

দুধকুমারের ভাঙনের হুমকিতে ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৫১ ঘণ্টা, জুলাই ৬, ২০২১
দুধকুমারের ভাঙনের হুমকিতে ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুধকুমার নদের ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ছবি: বাংলানিউজ

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১টি উচ্চ বিদ্যালয়সহ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুধকুমার নদের ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে।  

যেকোনো মুহূর্তে দুধকুমারের গর্ভে চলে যাবে পাইকের ছড়া ইউনিয়নের দুই নম্বর পাইকের ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।



এছাড়াও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে পাইকডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, আব্দুল করিম (১৫০০) প্রাথমিক বিদ্যালয়, গনাইর কুঠি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এক নম্বর চর ধাউরার কুঠি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ চরভূরুঙ্গামারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হেলোডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর ধলডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর তিলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়।
দীর্ঘদিন ধরে দুধকুমারের ভাঙনের কবল থেকে বিদ্যালয়গুলো রক্ষায় স্থানীয় অধিবাসীরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন নিবেদন জানালেও কোনো কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বিলীন হতে চলেছে।

এবছর কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে হয়তো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।  দুই নম্বর পাইকের ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি থেকে দুধকুমার নদের ভাঙন এখন মাত্র কয়েক ফুট দূরত্বে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বিদ্যালয়টি দুধকুমার গর্ভে বিলীনের আশংকায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা।

বিদ্যালয়টির ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাসুমা খাতুন ও প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সীমা জানায়, স্কুলটি ভেঙে গেলে আমাদেরকে অনেক দূরের স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করতে হবে, তখন দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে আমাদের যাতায়াতের খুব কষ্টদায়ক হবে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মজিবর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, স্কুলটি যদি দুধকুমারের গর্ভে চলে যায় তাহলে, এলাকার শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে। এছাড়া স্কুলটিকে বর্তমান স্থান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিলেও এই এলাকার শিশুদের শিক্ষা অর্জনে সমস্যা হবে এবং অনেক শিক্ষার্থীর ঝরেপড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদ বাংলানিউজকে বলেন, গত বছর দুধকুমার নদের ভাঙনে বিদ্যালয়ের অর্ধেক মাঠ নদীতে চলে গেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এবারের বর্ষায় বিদ্যালয়টি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিদ্যালয়টিকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে। স্কুলটি রক্ষায় বাঁধ নির্মাণসহ মাটি ভরাটের দাবি জানান তিনি।

এছাড়া দক্ষিণ চরভূরুঙ্গামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যে স্থানে রয়েছে সেটাও নিরাপদ নয়। এক নম্বর চর ধাউরারকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙতে থাকায় বিদ্যালয় দুটি ২০০ থেকে ৩০০ গজ দূরত্বের মধ্যে ভাঙন চলে এসেছে।  

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানাবো।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপক কুমার দেব শর্মা বাংলানিউজকে বলেন, দুই নম্বর পাইকের ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়েও ব্যবস্থা নিতে শিগগিরই জানানো হবে।  

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ভাঙনকবলিত বিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ থেকে কেউ অবগত করেনি।

তবে, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৫৬ ঘণ্টা, জুলাই ০৬, ২০২১
এফইএস/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa