ঢাকা, রবিবার, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

টিকার খোঁজ নিতে ৪ জন বেরিয়ে গুনলেন জরিমানা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট   | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৪১ ঘণ্টা, জুলাই ৬, ২০২১
টিকার খোঁজ নিতে ৪ জন বেরিয়ে গুনলেন জরিমানা

ঢাকা: করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারঘোষিত কঠোর লকডাউনের ষষ্ঠ দিনে সড়কে বেড়েছে জনসাধারণের চলাচল। গত কয়েকদিনের তুলনায় এদিন রাজধানীতে ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি রিকশায় মানুষের বাড়তি যাতায়াত দেখা গেছে।

বিভিন্ন সিগন্যালে বাড়তি যানবাহনের চাপে জটলাও ছিল।

মঙ্গলবার (৬ জুলাই) রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় লকডাউনের অন্য দিনের তুলনায় জনসাধারণের বাড়তি চাপ দেখা গেছে। মোড়ে ডাব-শরবত এমনকী চায়ের দোকানও ঘিরে রয়েছে মানুষের ভিড়।

এ অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে শাহবাগ মোড়ে বারডেম হাসপাতালের সামনে মৎস্যভবনগামী রাস্তার মাথায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এর পরপরই শাহবাগ মোড়ে আলাদা সড়কের মাথায় অবস্থান নিয়ে চেকপোস্ট পরিচালনা করে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ সদস্যরা।

এসময় প্রতিটি চেকপোস্টে গাড়ি ও রিকশা থামিয়ে জনসাধারণকে বাইরে বের হওয়ার কারণ জানতে চান। মানুষজনের সবাই কোনো না কোনো কারণ উল্লেখ করলেও আশানুরূপ উত্তর না পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়।

র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, আগের তুলনায় সড়কে মানুষের চলাচল কমেছে। জরুরি ছাড়া খুব কম মানুষই বের হচ্ছেন। তবে যথোপযুক্ত জবাব ছাড়া কাউকে পার হতে দেওয়া হচ্ছে না। যথোপযুক্ত কারণ ছাড়া যারাই বের হচ্ছেন তাদের জরিমানাসহ আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কারা বের হতে পারবেন কারা পারবেন না তা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে জানিয়েছে। এর আওতায় না পড়লে আমরা আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছি। এছাড়া, যারা বাইরে বেরিয়েছেন তাদের কেউ স্বাস্থ্যবিধি না মানলেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

করোনার এই প্রাদুর্ভাবের সময়ে সবাইকে ঘরে থাকার কথা উল্লেখ করে ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হবেন না, যারা বের হবেন তারা মাস্ক পরুন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

এদিকে, বাইরে বেরিয়ে জরিমানা গুনেছেন তাদের অনেকেই অযথা জরিমানা করার অভিযোগ করেছেন। খায়রুল হুদা নামে একজন জানান, চলমান লকডাউনের মধ্যেই কাকরাইলের বাসা থেকে সকালে গিয়েছিলেন ধানমন্ডি ন্যাশনাল ব্যাংকে। ফেরার পথে তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা করে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

তার দাবি, করোনায় তো ব্যাংক খোলা। জরুরি লেনদেনের জন্যই গিয়েছিলাম ব্যাংকে। এরপরও জরিমানা গুনতে হলো।

তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, জরুরি লেনদেনের জন্য তিনি অবশ্যই যেতে পারবেন। তবে তিনি যেটা করেছেন এক চেকের টাকা উত্তোলনের কথা বলে তিনজনকে নিয়ে বের হয়েছিলেন, যা এই মুহূর্তে অগ্রহণযোগ্য।

আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ী জানান, ঢাকার নবাবগঞ্জ ও মোহাম্মদপুরে তার ওষুধের দোকান রয়েছে। তার দুই ভাই দুবাই থাকে। তারা কিছুদিন আগে দেশে ফিরেছে, সম্প্রতি তারা আবার দুবাই ফিরবেন। ভাইদেরসহ ভ্যাকসিনের খোঁজ নিতে প্রাইভেটকারে করে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে যাচ্ছিলেন। শাহবাগ মোড়ে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতে তার এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, ভ্যাকসিন যিনি নেবেন তিনি খোঁজ-খবর নিয়েই এ সময়ে উচিত ঘর থেকে বের হওয়া। কিন্তু তারা এক গাড়িতে চারজন এসেছেন তাদের দু’জনের ভ্যাকসিন প্রয়োজন নেই, সেজন্য একজনকে জরিমানা করা হয়েছে।

এসময় আরো কয়েকজন রিকশাযাত্রীকে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। যারা জরুরি কাজে বের হলেও রিকশায় অপরিচিতদের সঙ্গে শেয়ারে ভাড়ায় উঠেছেন এদের কয়েকজন জরুরিসেবার নাম করে বের হলেও উপযুক্ত কাগজপত্র কিংবা আইডি কার্ড দেখাতে পারেননি।

এসময় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত সর্বমোট ১৩ জনকে ৭ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করেন। পলাশ কুমার বসু বলেন, কেউ স্টেডিয়ামে খেলার সরঞ্জাম কিনতে, কেউ পুরান ঢাকায় কেনাকাটা করতে, আবার এক চেক ভাঙাতে ব্যাংকে যাচ্ছেন একসঙ্গে তিনজন। এমন কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৩৭ ঘণ্টা, জুলাই ০৬, ২০২১
পিএম/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa