ঢাকা, রবিবার, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

রাজধানীর মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট, পুলিশের তল্লাশি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৩৮ ঘণ্টা, জুলাই ৬, ২০২১
রাজধানীর মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট, পুলিশের তল্লাশি রাজধানীর মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট, পুলিশের তল্লাশি। ছবি: শাকিল আহমেদ

ঢাকা: করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে রাজধানীসহ সারাদেশে চলছে ‘কঠোর লকডাউন’। তবে লকডাউনের ষষ্ঠ দিনে জরুরি সেবা ও পণ্যবাহী যানবাহনের পাশাপাশি সড়কে মানুষের চলাচল বেড়েছে।

সাধারণ মানুষ তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও বিভিন্ন কাজের জন্য ঘর থেকে বের হচ্ছেন।

এদিকে যারাই সরকারের ‘বিধিনিষেধ’ উপেক্ষা করে অহেতুক ঘর থেকে বের হচ্ছেন, তাদের পড়তে হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেকপোস্ট গুলোতে। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছেন তারা। বের হওয়ার যুক্তিসংগত কারণ না হলেও তাদের আইনের আওতায় আনছেন কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ও প্রশাসন।  

মঙ্গলবার (৬ জুলাই) সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট। সড়কের যানবাহন চলাচলের সুবিধায় ব্যারিকেড দিয়ে জরুরি সেবা ও পণ্যবাহী যানবাহন ও সাধারণ যানবাহনের জন্য আলাদা লেন করা হয়েছে। এসব লেন তৈরিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ ও ক্রাইম বিভাগের সদস্যরা কাজ করছেন। চেকপোস্টে ঘর থেকে বের হওয়া সব মানুষকেই  তল্লাশির আওতায় আনা হচ্ছে। তবে জরুরি সেবা ও পণ্যবাহী যানবাহনগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

মগবাজারের বাসিন্দা আদনান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেলস বিভাগে কাজ করেন।  

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, বাসার গলি থেকে বের হলেই কয়েক জায়গাতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। মোড়ে মোড়ে চেকপোস্টে সবাইকে একই কথা পুলিশকে বারবার বলতে হচ্ছে৷ তবে পরিচয়পত্র দেখে তারা ছেড়েও দিচ্ছেন।  

এদিকে, রাজধানীর উত্তরা আব্দুল্লাহপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত, বনানী, মহাখালী, মগবাজার, মালিবাগ এলাকায় অনেকেই সড়কের পাশে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তারা মূলত মোবাইল ভিত্তিক পরিবহন সেবা দিয়ে থাকেন। লকডাউনে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ বন্ধ থাকলেও কিছু মোটরসাইকেল চালক বের হয়েছে যাত্রী পরিবহনের জন্য।  

বিমানবন্দর মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক জসীম উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে আমরা গাড়ি চালাতে পারছি না। আমাদের না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। এদিকে ‘কঠোর লকডাউন’ আরো সাতদিন বাড়ানো হয়েছে। এখন রেব না হলে না খেয়ে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, চেকপোস্টগুলোতে আটকালে জরিমানা করে পুলিশ। এমনিতেই ইনকাম নেই, তার ওপর জরিমানা গুনতে হলে আমাদের আর কিছু করার থাকবে না।  

এদিকে সড়কে প্যাডেলচালিত রিকশার চলাচল অনেক বেশি দেখা গেছে। তবে অনেকেই যাত্রী অপেক্ষায় বসে সময় কাটাচ্ছেন সড়কের বিভিন্ন স্থানে।  

মগবাজারে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা রিকশা চালক আলমগীর বলেন, ‘সকাল থেকে গাড়ি নিয়া বাহির হইছি,  তিনটা ক্ষেপ মারছি। এখন বইসা আছি। যাত্রী কম, অনেকক্ষণ দাঁড়াইয়া থাকলে যাত্রী পাই। ’

বাংলাদেশ সময়: ১৬৩৫ ঘণ্টা, জুলাই ০৬, ২০২১
এসজেএ/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa