ঢাকা, রবিবার, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

৩৫ মণ ওজনের মিঠুনের দাম ২৫ লাখ টাকা

মোমেনুর রশিদ সাগর, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮৩১ ঘণ্টা, জুলাই ৬, ২০২১
৩৫ মণ ওজনের মিঠুনের দাম ২৫ লাখ টাকা ৩৫ মণ ওজনের মিঠুন

গাইবান্ধা: মিঠুন বাবা থাম, দুষ্টমি করে না। বলছি এদিকে আয়।

বাবা কথা শোন। এভাবে ডাকতে শুনলে বিভ্রান্ত হবেন কেউ। আসলে ছোট থেকে নিবিড় যত্ন আর আদরে বড় করে তোলা প্রিয় ষাঁড়টিকে এভাবেই ডাকেন কৃষক শাহজাহান আলী। ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৩৫ মণ। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবারের কোরবানির ঈদে বিক্রি করার। তাই দাম হাঁকছেন ২৫ লাখ টাকা।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের জিরাই গ্রামে বেড়ে ওঠা এ ষাঁড়টিকে একনজর দেখতে শাহজাহানের বাড়িতে প্রতিদিন ভিড় করছেন উৎসুক ক্রেতাসহ সাধারণ মানুষ। বিশালাকার ষাঁড়টিকে ঘর থেকে বের করতে প্রয়োজন হয় অন্তত তিনজন মানুষ। তারা তিন দিক থেকে রশি টেনে একে নিয়ন্ত্রণ করেন।  

কথা হয় শাহজাহান আলীর সঙ্গে তিনি জানান, গৃহপালিত প্রাণী হলেও সন্তানের মত স্নেহ-যত্নে তিন বছর ধরে একে লালন পালন করছেন। তাই আদর করে নাম রেখেছেন মিঠুন। প্রতিদিন নিজ হাতে গোসলসহ সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। গরমে ২৪ ঘণ্টা ওর জন্য ফ্যানের ব্যবস্থা রয়েছে। সময়ের ব্যবধানে সেই ছোট্ট মিঠুন এখন ৩৫ মণের বিশাল আকৃতির ষাঁড়।

মিঠুনের খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে শাহজাহান জানান, কাঁচা ঘাস, ভূষি, খড় ইত্যাদির পাশাপাশি শুধু মাছ-মাংস ছাড়া তিনি নিজে যা খান তাই খাওয়ান মিঠুনকে। এ তালিকা থেকে বাদ যায়নি আম, কাঁঠাল, লিচু, কলা, ভাত, ডাল, সেমাই, রুটি। নিজের সংসারের দৈনন্দিন খরচের পাশাপাশি প্রতিদিন মিঠুনের খাবারের জন্য খরচ করতে হয় ৬ থেকে ৭শ টাকা। তবুও বেশি লাভের আশায় মিঠুনকে দেওয়া হয়নি মোটাতাজা করণের ইনজেকশন বা দ্রুত বর্ধনের জন্য কোনো ফিড। প্রতিদিন বহু মানুষ বাড়িতে আসেন মিঠুনকে একনজর দেখতে। অনেকে মিঠুনের ছবি তোলেন, কেউ আবার মিঠুনের সঙ্গে নেন সেলফিও।

মিঠুনকে বিক্রির কারণ ও দামের বিষয়ে তিনি জানান, গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মিঠুনকে প্রতিপালন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই এই কোরবানির ঈদে মিঠুনকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ পর্যন্ত মিঠুনকে বিক্রির জন্য কোনো হাটে না তুললেও অনেক ক্রেতাই মিঠুনকে কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ পর্যন্ত অনেক দামের মধ্যে স্থানীয় এক ক্রেতা সর্বোচ্চ ১৭ লাখ টাকা মিঠুনের দাম দিতে চেয়েছেন। তবে শাহজাহান আলী ২৫ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চান আদরের মিঠুনকে।

মিঠুনকে বিক্রির বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি বিদায় অনেক কষ্টের তবুও বাস্তবতা আমাদের মেনে নিতে নয়। একটি সন্তান লালন-পালন করে বড় হয়ে যেভাবে বাবা-মার অবলম্বন হয়। তেমনি মিঠুনকে বিক্রি করে সেই টাকায় সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে চাই।  

বাংলাদেশ সময়: ০৮৩০ ঘণ্টা, জুলাই ০৬, ২০২১
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa