ঢাকা, রবিবার, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

ভদ্রাবতী নদীতে ১১টি সুতিজালের বাঁধ: দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ

স্বপন চন্দ্র দাস, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৭৩৩ ঘণ্টা, জুলাই ৬, ২০২১
ভদ্রাবতী নদীতে ১১টি সুতিজালের বাঁধ: দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ সুতিজালের বাঁধ। ছবি: বাংলানিউজ

সিরাজগঞ্জ: চলনবিলের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ছোট্ট নদীর নাম ভদ্রাবতী। এ নদীর মাঝে মাঝেই মাছ শিকারের জন্য দেওয়া হয়েছে সুতিজালের একাধিক বাঁধ।

এতে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে দুকূল উপচে আশপাশের গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে চলনবিলে বন্যার পানি না এলেও ভদ্রাবতী নদীর উপচে পড়া পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা তালম ইউনিয়নের ১১টি ও পার্শ্ববর্তী নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ১০টি গ্রামের মানুষ।  

সোমবার (৫ জুলাই) সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কলামুলা ভাদাই ব্রিজ থেকে শুরু করে তালম নাগরপাড়া পর্যন্ত ভদ্রাবতী নদীর  বিভিন্ন স্থানে ১১টি সুতি জালের বাঁধ দেওয়া হয়েছে। সুতি জালের বাঁধের ফলে পানি প্রবাহিত হতে না পেরে এলাকার জমিসহ রাস্তাঘাট ডুবে গেছে।  

এদিকে গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণের পাশাপাশি ভদ্রাবতী নদীর উপচে পড়া পানিতে বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ। পানিতে ডুবে গেছে বোনা আমনসহ জমির বিভিন্ন ফসল। নিমজ্জিত হয়েছে রাস্তাঘাটও। অনেকের বাড়িতেও উঠেছে পানি। এতে নানা দুর্ভোগে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষ।



রেজাউল করিম নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, প্রায় এক মাস ধরে এই পানিতে আমার ঘরবাড়ি ডুবে থাকায় দেয়াল ভেঙে পড়েছে। আমি আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। এছাড়াও আমার বাড়ির মতো আরও অনেক বাড়ি ঘর পানিতে ডুবে আছে।  

কলামুলা গ্রামের বেল্লাল হোসেন বলেন, এই পানির কারণে আমাদের আবাদী জমি নষ্ট হয়েছে। সামনে রোপা ধান রোপণ করবো। আমরা কোনোভাবেই বীজতলা তৈরি করতে পারছি না।  

কোলাকুপা গ্রামের ফিরোজ উদ্দিন বলেন, সুতি জালের বাধায় পানি নামতে না পেরে রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। কলা গাছের ভেলা তৈরি করে পরিবারের সদস্যরা পারাপারে ব্যবহার করছি। এভাবে আর কতদিন চলতে হবে জানি না।  

ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, প্রভাবশালী মাছ ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থে ভদ্রাবতী নদীতে সুতিজাল দিয়ে বাঁধ সৃষ্টি করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বার বার নিষেধ করলেও তারা আমাদের কারও কথা শোনে না।  



তালম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্বাস-উজ-জামান সুতি জাল উচ্ছেদের দাবি জানিয়ে বলেন, কতিপয় ১০ থেকে ১১ জন লোকের মাছের ব্যবসার সুবিধার জন্য বৃহৎ স্বার্থের ক্ষতি হতে দেব না। এলাকায় এই সুতিজালের কারণে অনেক ক্ষতি হচ্ছে। এটা অতি তাড়াতাড়ি উচ্ছেদ করতে হবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশগুল আজাদ বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি। সুতি জাল দিয়ে মাছ ধরা সম্পন্ন নিষেধ। সুতি জাল উচ্ছেদের অভিযান চলমান আছে।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাউল করিম বাংলানিউজকে বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। সাংবাদিদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ০৭৩০ ঘণ্টা, জুলাই ০৬, ২০২১
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa