ঢাকা, রবিবার, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

জোর করে বাল্যবিয়ে: বাড়ি থেকে নয়, জীবন থেকেই পালিয়ে গেল মিতা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১৫২ ঘণ্টা, জুলাই ৬, ২০২১
জোর করে বাল্যবিয়ে: বাড়ি থেকে নয়, জীবন থেকেই পালিয়ে গেল মিতা

মেহেরপুর: বাল্যবিয়ের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েও নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি কিশোরী মিতা। অভিভাবকরা জোর করে মিতাকে ধরে এনে বিয়ে দেন বহুবিবাহকারী যুবক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে।

আর এই অভিমানে বিয়ের মাত্র একদিন পরেই আত্মহত্যা করে মিতা।

মিতা খাতুন গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামের মহিদুল ইসলামের মেয়ে। সে কাজিপুর মধ্যপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী।

সোমবার (৫ জুলাই) বিকেলে স্বামী রফিকুল ইসলামের বাড়িতে নিজ ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে মিতা। রোববার (৪ জুলাই) পরিবারের চাপে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য হয় সে।

সন্ধ্যার দিকে গাংনী থানার তদন্ত অফসির সাজেদুর রহমান ও ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ বখতিয়ার মিতার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

স্থানীয়রা জানান, মিতার স্বামী রফিকুল ইসলাম এর আগেও একাধিক বিয়ে করেছেন। কোনো স্ত্রীকে তিনি ভাত-কাপড় দেননি। আগের সবগুলো স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।

মিতা খাতুনের নানা ইন্নাল হক জানান, পরিবারের সম্মতিক্রমে তাদের বিয়ে হয়। ছেলেও ভাল কিন্তু মিতা কেন আত্মহত্যা করল বুঝতে পারছি না।

কাজিপুর মধ্যপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবীবা দিপা বলেন, মিতা খাতুন নবম শ্রেণির একজন ছাত্রী। অত্যন্ত মেধাবী ও ভদ্র সে। কোনো ছেলদের সঙ্গে কখনো তাকে আমি কথা বলতে দেখিনি। তার এই সুন্দর জীবনটা নিয়ে খেলা করা হয়েছে। সত্যিই খুব দুঃখজনক ঘটনা এটা।

গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ বজলুর রহমান জানান, আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ০১৫০ ঘণ্টা, জুলাই ০৬, ২০২১
এনটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa