ঢাকা, রবিবার, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

এখনো অজানা মগবাজার বিস্ফোরণের কারণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭০৮ ঘণ্টা, জুলাই ৫, ২০২১
এখনো অজানা মগবাজার বিস্ফোরণের কারণ

ঢাকা: রাজধানীর মগবাজারের আউটার সার্কুলার রোডে রেখানীড় ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিভিন্ন সংস্থার গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চলেছে।

তবে ঠিক কী কারণে এবং কোথা থেকে ভয়াবহ এ বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে তা ঘটনার নয় দিনেও খুঁজে বের করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির কর্মকর্তারা।  

ধসে পড়া ভবনের ভেতরে তিতাস গ্যাস সংযোগের একটি পাইপ লাইনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা গ্যাস ডিটেক্টর যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করে ঘটনাস্থলে মিথেন গ্যাসের উপস্থিতিও পেয়েছে। এসবের ওপর ভিত্তি করে ভবনের নিচে জমে থাকা গ্যাস থেকেই ভয়াবহ এমন বিস্ফোরণ হতে পারে বলেও জানিয়েছে তদন্ত কমিটিগুলো। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কেউই বিস্ফোরণের উৎপত্তিস্থল বা সূত্রপাত খুঁজে বের করতে পারেনি।  

এদিকে সোমবার (৫ জুলাই) দুপুরে মগবাজারে বিস্ফোরণে ধসে পড়া রেখানীড় ভবনের ধ্বংসস্তূপ পর্যবেক্ষণ করতে আসেন পেট্রোবাংলা ও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিউশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের গঠিত পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটির সদস্যরা। ঘটনাস্থলে তদন্তকারী সদস্যরা বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন।  

যদিও বিগত দিনে ঘটনার পর পর প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস দাবি করে আসছিল এ ভবনে তিতাসের কোনো গ্যাস পাইপ লাইনের সংযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবে ঘটনাস্থলে তিতাসের গ্যাস সংযোগ পাইপ লাইনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। আকস্মিকভাবে গত রোববার (৪ জুলাই) ভবনের নিচ থেকে গ্যাস ও ধোয়া বের হতেও দেখা যায়। পরবর্তীতে তিতাসের প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে গিয়ে টানা নয় ঘণ্টা চেষ্টার পর গ্যাস সংযোগ পাইপ শনাক্ত করে এবং তা সিলগালা করে লিকেজ বন্ধ করে দেয়।

তিতাসের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রেখানীড় ভবনটি তার সীমানা থেকে সামনে ১৪ ফুট জায়গা বাড়িয়েছে। এদিকে গ্যাস পাইপ লাইনের যে উৎস বা অস্তিত্ব পাওয়া গেছে তা ওই ভবনের নিচে শনাক্ত হয়েছে। তবে এখন সার্বিক বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে তিতাসের তদন্ত কমিটির সদস্যরা।  

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর পেট্রোবাংলার গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক জি এম শাহনেওয়াজ পারভেজ বাংলানিউজকে বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি। তবে আমরা বিস্ফোরণের উৎস কোথায়? আশপাশের কোনো গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে এমন হয়েছে কিনা বা রাস্তার পাশে সুয়ারেজের কাজ চলছে সেখান থেকে হয়েছে কিনা বা ভবনে থাকা কোনো এসি বিস্ফোরণ থেকে হয়েছে কিনা এসব বিষয় মাথায় রেখেই কাজ করছি। তদন্ত শেষে পরবর্তীতে একটি সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হবে।  

তিতাস গ্যাসের একটি সংযোগ পাইপ লাইনের সন্ধান পাওয়া গেছে, ওই লাইনে লিকেজের কারণে কোনো বিস্ফোরণ হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছি। গ্যাস লাইনটি বৈধ না অবৈধ ছিল সে বিষয়টিও আমরা খতিয়ে দেখছি। এ লাইনটি ভবনের নিচে কীভাবে গেল সে বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি। ভবনের নকশার সঙ্গে মিলিয়ে দেখে পরবর্তীতে এ বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।  

এদিকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিউশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের তদন্ত কমিটির সদস্য বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, আমরা ঘটনাস্থল থেকে যা দেখলাম তা আমরা অবজারভেশনে রেখেছি। আগে দু’টি কমিটি ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে বিভিন্ন বিষয়ে তারা জানিয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে বলা যাবে।

গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে উল্লেখ করে পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলে মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি আমরা পেয়েছি। গ্যাস থেকে এমন বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। কিন্তু বিস্ফোরণস্থল বা উৎস সম্পর্কে এখনো আমরা নিশ্চিত হতে পারেনি।  

তিনি আরও বলেন, আমরা এ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। সবদিক বিবেচনা করেই তদন্ত কার্যক্রম চলছে।  

গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজার ওয়ারলেসগেট এলাকায় একটি ভবনে বিস্ফোরণে ১১ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন অর্ধশতাধিক।

বিস্ফোরণের ঘটনায় গত ২৯ জুন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে রমনা থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ। ভবন মালিকের সার্বিক অব্যবস্থাপনা, অতি পুরোনো বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও ত্রুটিপূর্ণ গ্যাস ব্যবস্থাপনার কারণে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য থানা পুলিশের কাছ থেকে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।  

ঘটনার পর পর বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, পুলিশ, বিস্ফোরক পরিদপ্তর, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিউশন অ্যান্ড ড্রিস্টিভিউশন কোম্পানি লিমিটেড ও পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে পৃথক পাঁচটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।  

বাংলাদেশ সময়: ১৭০৫ ঘণ্টা, জুলাই ০৫, ২০২১
এসজেএ/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa