ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ কার্তিক ১৪২৮, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

মাশরুম কিনতে ৫০০, অ্যাংলেট কিনতে বেরিয়ে জরিমানা ৩০০

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট   | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮২৫ ঘণ্টা, জুলাই ৪, ২০২১
মাশরুম কিনতে ৫০০, অ্যাংলেট কিনতে বেরিয়ে জরিমানা ৩০০ ছবি: বাদল

ঢাকা: রাজধানীর পুরানা পল্টন থেকে একটি রিকশাযোগে শান্তিনগর যাচ্ছিলেন মো. ইব্রাহিম। তার সঙ্গে একই রিকশায় ছিলেন তার প্রতিবেশী একজন।

পথে কাকরাইল মোড়ে র‌্যাবের চেকপোস্ট তাদের রিকশাটি থামায়।  

ভ্রাম্যমাণ আদালতের জিজ্ঞাসাবাদে ইব্রাহিম বলেন, তিনি মাশরুম কিনতে বাজারে যাচ্ছিলেন। আর তার প্রতিবেশী নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য কিনতে যাচ্ছিলেন।  

এদিকে, করোনা পরিস্থিতিতে কঠোর লকডাউনে মাশরুম কিনতে যাওয়া অযৌক্তিক মনে করে তাকে ৫শ টাকা জরিমানা করা হয়। এদিকে তার সঙ্গে থাকা প্রতিবেশীকে একাই বাজারে যেতে দেওয়া হয়।  

রোববার (৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে চলা অভিযানে মো. ইব্রাহিম নামে ওই ব্যক্তিকে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।  

তিনি বলেন, এই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রথমে তিনি বলেন মাশরুম কিনতে বাজারে যাচ্ছি। তখন বিষয়টি অযৌক্তিক বলে বিবেচনা করে তাকে আটক করা হলে পরে তিনি আবার বলেন আসলে তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে বাজারে যাচ্ছেন।  

ইব্রাহিম নামে ওই ব্যক্তির দুই ধরনের বক্তব্যের জন্য তাকে ৫শ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।  

এদিকে, পরপরই আরও একটি রিকশায় দুই যাত্রীকে তল্লাশি করা হয়। তাদের মধ্যে আব্দুল কাদের শান্ত একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে কাজ করেন। সঙ্গে তার অফিসের সহকর্মী জুলফিকার ইসলাম ছিলেন। তারা দু’জন তাদের গ্রাহকের পাসপোর্ট জমা দিতে যাচ্ছিলেন বলে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানান।  

এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের আইডিকার্ড (পরিচয়পত্র) দেখতে চান নির্বাহী ম্যাজিস্টেট। এতে আব্দুল কাদের শান্ত তার পরিচয়পত্র দেখাতে পারলেও সঙ্গে থাকা জুলফিকার তার পরিচয়পত্র দেখাতে পারেনি। এতে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৫শ টাকা জরিমানা করে।  

জরিমানা গুনে জুলফিকার ইসলাম বাংলানিজউকে বলেন, আমার সঙ্গে আইডি কার্ড নেই। ই-মেইলে আছে, তা এখনো ছাপানো হয়নি।  

এদিকে, ফুটবল খেলবেন বলে অ্যাংলেট কিনতে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন সাজেদুল ইসলাম। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে তার বক্তব্য এমনটাই উপন্থাপন করেন। এতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধ। তারপরও অ্যাংলেট কিনতে যাবেন কেন? এখন পরিস্থিতি জীবন বাঁচানোর। এই সময় ফুটবল খেলার জন্য অ্যাংলেট কেনা খুব জরুরি বলে মনে হচ্ছে না।  

সাজেদুর ইসলামকে ৩শ টাকা জরিমানা করেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।  

এ বিষয়ে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নের্তৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কঠোর লকডাউনে সরকারের দেওয়া বিধিনিষেধ কেউ অমান্য করছে কিনা সে বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করছি। এরপরও বিধিনিষেধ অমান্য করে অনেকেই বাসা থেকে বের হচ্ছেন।  

আমরা দেখেছি, কেউ তার আত্মীয়ের বাসায় খাবার নিয়ে যাচ্ছেন, কেউ মাশরুম কিনতে বাজারে যাচ্ছেন, কেউ ফুটবল খেলার জন্য পায়ে পরার অ্যাংলেট কিনতে যাচ্ছেন, কেউ আবার ঘুরতে বের হয়েছেন।  

যারাই বিধিনিষেধ অমান্য করছে তাদেরই আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। আর যারা জরুরি প্রয়োজনে যৌক্তিক কারণে বের হয়েছেন তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।  

তবে কঠোর লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি ও নিষেধ যাতে সবাই মানে সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। এখানে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।  

তিনি বলেন, বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ অমান্য করে ঘরর থেকে বের হওয়ার অপরাধে ১৭ জনকে ৭ হাজার ৫শ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান চলমান।  

বাংলাদেশ সময়: ১৮২২ ঘণ্টা, জুলাই ০৪, ২০২১
এসজেএ/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa