ঢাকা, সোমবার, ২ কার্তিক ১৪২৮, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

বরিশালে অসহায়দের খাবার দিচ্ছেন হোটেল মালিক-সাংবাদিকরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭২১ ঘণ্টা, জুলাই ৪, ২০২১
বরিশালে অসহায়দের খাবার দিচ্ছেন হোটেল মালিক-সাংবাদিকরা

ব‌রিশাল: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সারাদেশে চলছে ‘কঠোর লকডাউন’। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জরুরিসেবা ও পণ্যবাহী যানবাহনের বাইরে যাত্রীবাহী বাস, লঞ্চসহ সবধরনের গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিস।

মহামারি করোনার সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিরচেনা কর্মব্যস্ত বরিশাল শহর এখন অনেকটাই ঝিমিয়ে রয়েছে। হাট-বাজার ছাড়া কোথাও নেই কোনো কোলাহল, নেই কোনো কর্মব্যস্ততা। এ অবস্থায় নগরের অসহায়, বাস্তহারা ভাসমান মানুষগুলো দু-মুঠো খাবার যোগাতে হিমশিম খাচ্ছে। আবার বরিশাল নগরের খাবারের দোকানগুলো বন্ধ থাকায় অনেকের আর্থিক সক্ষমতা থাকলেও ইচ্ছে করলেই খাবার যোগাতে পারছেন না। এ অবস্থায় কিছু মানুষ স্ব-উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে এসেছেন অসহায়, বাস্তুহারা ভাসমান মানুষদের খাদ্যের যোগান দিতে।

বরিশাল নগরের গোড়া চাঁদ দাস রোডে অমর্ত্য ফাউন্ডেশনের সহায়তায় কমিউনিটি পাকের ঘরের উদ্যোগে গত ২৫ জুন থেকে এ পর্যন্ত নিয়মিত দুপুরে কর্ম হারানো বাস্তুহারা মানুষদের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

কমিউনিটি পাকের ঘরের প্রধান সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম ফিরোজ মোস্তফা জানান, ‘লকডাউনের’ প্রথম দিকে ২০ জনের দুপুরে ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা করি। কিন্তু রাতে বরিশাল নদী বন্দরে স্থানীয় সাংবাদিকদের উদ্যোগে খাওয়ার ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে দুপুরে ৫০ জনের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, খাবারগুলো আমরা নিজেরাই নিজেদের রান্না ঘরে তৈরি করছি। যতদিন বেঁচে থাকবো এবং সামর্থ্য থাকবে ততদিন এ কর্মসূচি চলবে।

এদিকে তৃতীয় দফায় প্রতিদিন রাতে বরিশাল নদী বন্দরে স্থানীয় সাংবাদিকদের উদ্যোগে দুইশত অসহায়, বাস্তহারা ভাসমান মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এস এম জাকির হোসেন জানান, আমরা গত বছরের প্রথম ‘লকডাউনে’ বরিশাল নদী বন্দরে অসহায়, বাস্তুহারা ভাসমান মানুষের খাবারের ব্যবস্থা শুরু করি। তখন রাতে আমরা এবং দুপুরে বরিশাল নদী বন্দরের তৎকালীন কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠুর উদ্যোগে খাবার খাওয়ানো হতো। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বারের ‘লকডাউনে’ আমরা আমাদের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে রাতে খাবার দিয়ে আসছি অসহায় এসব মানুষদের। বর্তমানে প্রতিদিন রাতে ২০০ থেকে ২২০ জনের খাবার বিতরণ করা হয়ে থাকে।

সাংবাদিক ইউনিয়ন বরিশালের সভাপতি সাইফুর রহমান মিরন বলেন, রাতে নদী বন্দরে খাবার বিতরণের কার্যক্রমটি স্থানীয় সাংবাদিকদের উদ্যোগ শুরু হয়। যেখানে এখন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়িত হচ্ছে। আর তাই আমাদের এ কাজটির নাম দেওয়া হয়েছে “উদ্যোগ”। আমরা গত দুটি ঈদ এদের সঙ্গে কাটিয়েছি। ঈদের সকালে তাদের ভালো কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করছি। শুধু খাবার দেওয়াই নয়, তাদের জামা-কাপড় দেওয়াসহ চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগও মাঝে মধ্যেই আমরাই নিচ্ছি।

এদিকে জেলা প্রশাসনের ‘কঠোর লকডাউন’ কার্যকরের লক্ষ্যে বরিশালে শনিবার থেকেই খাবার হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় প্রশাসন।

এর ফলে বেশ ভোগান্তির মধ্যে পড়েন বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগীর স্বজনরা। আর তাদের ভোগান্তি নিরসনের লক্ষ্যে শনিবার (৩ জুলাই) সকালে ও রোববার (৪ জুলাই) দুপুরে বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় হোটেল মালিকরা।

তারা জানান, শেবাচিম হাসপাতাল থেকেই রোগীদের খাবার দেওয়া হয়ে থাকে। আর স্বজনরা বাইরে থেকে তাদের খাবার কিনে খান। তবে ‘লকডাউনে’ হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়ে যান রোগীর স্বজনরা।  

এজন্য সরকারি নির্দেশনা মেনে হাসপাতালের হোটেলগুলো বন্ধ থাকলেও মালিকদের উদ্যোগে বিনামূল্যে শনিবার সকাল ও রোববার দুপুরে অসহায় রোগীর স্বজনদের খাবার দেওয়া হয়েছে।

হোটেল মালিক ওলি হাওলাদার ও পবিত্র দেবনাথ জানান, হাসপাতালের সামনে বান্দরোড সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত হাওলাদার, রাধুনী, ভোলা, তাওহীদ, মিতালী, গোবিন্দ, ভাই ভাই, জমজম, নন্দিনী ও মদিনা হোটেলের মালিকরা সমন্বিতভাবে এ খাবরের আয়োজন করছেন। যা শেবাচিম হাসপাতালের প্রধান গেট সংলগ্ন হোটেলগুলোর সামনে বসেই পাঁচ থেকে সাতশ’ মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

এদিকে সাধারণ মানুষের সহায়তায় এভাবে বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশ সময়: ১৭২১ ঘণ্টা, জুলাই ০৪, ২০২১
এমএস/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa