ঢাকা, সোমবার, ২ কার্তিক ১৪২৮, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

বকেয়া মজুরি, উৎসব ভাতা ও চাকরি নিশ্চিতের দাবি হোটেল শ্রমিকদের

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৩০ ঘণ্টা, জুলাই ৩, ২০২১
বকেয়া মজুরি, উৎসব ভাতা ও চাকরি নিশ্চিতের দাবি হোটেল শ্রমিকদের

ঢাকা: সরকার ঘোষিত ‘কঠোর বিধিনিষেধে’র নামে ‘লকডাউনের’ সিদ্ধান্তকে দায়িত্বহীন আখ্যা দিয়ে বকেয়া মজুরি, উৎসব ভাতা ও চাকরি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন হোটেল শ্রমিকরা।

শনিবার (৩ জুলাই) গণমাধ্যমে এক বিবৃতিতে এমন দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন।

সংগঠনের সভাপতি আক্তারুজ্জামান খান ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘কঠোর বিধি-নিষেধের নামে লকডাউনের কারণে বাংলাদেশের প্রায় সব হোটেল বন্ধ রয়েছে। এতে হোটেল সেক্টরের প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে অনাহার-অর্ধাহারে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষত যখন মোটা চাল ৪৮/৫০ টাকা, ডাল ১০০/১১০ টাকা, তেল ১৫০ টাকা, আলু ২৫ টাকা তখন দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বতির এই সময়ে শ্রমজীবী জনগণ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দু-বেলা দুমুঠো ডাল ভাত জুটাতে পারে না, সেরকম অবস্থায় খাবার ছাড়া এই মানুষদের ঘরে থাকার কথা বলা তাদের সঙ্গে উপহাস ছাড়া আর কি হতে পারে!

দেশের শ্রমিকদের নিয়ে গবেষণা করে এমন একটি সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে- গত বছরে করোনার কারণে হোটেল রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় ১০ লাখ শ্রমিক কর্মচ্যুত হয়েছে। আগে দেশের ১২ শতাংশ লোক অতি দরিদ্র সীমা ও ২০ শতাংশ দরিদ্র সীমার নিচে অবস্থান করতো। সেই সংখ্যা বর্তমানে দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে।

করোনাকালীন ৯৮ শতাংশ হোটেল রেস্টুরেন্ট শ্রমিক, ৯০ শতাংশ পরিবহন ও নির্মাণ শ্রমিক, ৫৯ শতাংশ বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক, ৫৬ শতাংশ গার্মেন্টস শ্রমিক, ৩১ শতাংশ বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের শ্রমিক এবং সব খাতের ৭০ শতাংশ শ্রমিক করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশ শ্রমিক জমানো টাকা ব্যয় করেছেন, ৫৩ শতাংশ শ্রমিক ধারদেনা করছেন, ৭ শতাংশ শ্রমিক সম্পদ বিক্রি করেছেন, ২৯ শতাংশ শ্রমিক অর্ধাহারে, ১০ শতাংশ শ্রমিক মাঝেম ধ্যে না খেয়ে এই মহামারি মোকাবিলা করছে।

তারা বলেন, সরকারের সদ্য পাসকৃত বাজেটেও এই দরিদ্র জনগণের জন্য কিছুই রাখা হয়নি। এমন কি জনগণের সামাজিক নিরাপত্তায় রেশনিং চালুর পরিপ্রেক্ষিতেও কোনো বরাদ্দ হয়নি। এরকম অবস্থায় সরকার জনগণের কোনো রকম দায়দায়িত্ব গ্রহণ না করে ‘কঠোর বিধি-নিষেধ’ চাপিয়ে দিয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশের ভয় দেখিয়ে শ্রমিক-জনতাকে গৃহবন্দি  করে রাখতে চাইছে।

তারা বলেন, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প ও প্রতিষ্ঠান ঠিকই খোলা রেখেছে। সেই সঙ্গে  খাবার দোকান হোটেল রেস্টুরেন্ট সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অনলাইন/টেকওয়ের জন্য খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ মালিকরা হোটেল শ্রমিকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করেনি।

পরিবহন সংকটে জীবিকার তাগিদে হোটেল শ্রমিকদের দূর-দুরান্ত পথ পায়ে হেঁটে কাজে যোগ দিতে হচ্ছে। পথে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছে। সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে যে প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা ছিল তাও পুলিশের বাধার কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পুলিশের বাধার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হোটেল শ্রমিকরা চাকরি হারা হয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে ঝুকিপূর্ণ জীবন-যাপনে পতিত হচ্ছে।

তারা আরো বলেন, এবার মাসের শুরুতেই ‘লকডাউন’ দেওয়ায় এদের অনেকেই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে এবং আসন্ন ঈদুল আজহায় বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী উৎসব ভাতা ও শাটডাউন শেষে ফিরে এলে আগের কর্মস্থলে চাকরি বহাল থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে চলমান ‘লকডাউন’ আরও বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে। অথচ চলমান ‘লকডাউনে’ সরকারের পক্ষে ত্রাণ তৎপরতারও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

নেতা বলেন, করোনা মোকাবিলায় ‘লকডাউন’ কার্যকরে ঘরে ঘরে খাদ্য, বাড়ি ভাড়া মওকুফ, ১০ হাজার টাকা নগদ প্রণোদনা দেওয়া, বিনামূল্যে চিকিৎসা, নিত্যপণ্যে মূল্য কমানো ও সর্বস্তরে রেশনিং চালু, সব উপজেলায় পিসিআর ল্যাব স্থাপন করে বিনামূল্যে পর্যাপ্ত করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা, ন্যূনতম জেলা পর্যায় পর্যন্ত আইসিইউ বা নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ও ভেন্টিলেটরসহ সব চিকিৎসা সুবিধার নিশ্চয়তা বিধান, লকডাউনে শ্রমজীবী ও কর্মজীবী জনগণের বেতন ও বোনাস দেওয়া নিশ্চিত করা, করোনা পরিস্থিতিতে হোটেল শ্রমিকদের কাছ থেকে গ্যাস, বিদ্যু্ৎ, পানির বিল আদায় বন্ধ, এনজিওদের কিস্তি আদায় বন্ধ ও সুদ মওকুফ, আগের কর্মস্থলে চাকরি নিশ্চিত করার দাবিও জানান।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৩০ ঘণ্টা, জুলাই ০৩, ২০২১
ইইউডি/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa