ঢাকা, বুধবার, ১১ কার্তিক ১৪২৮, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

রাজধানীর সড়কে বেড়েছে মানুষের চলাফেরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪৪৭ ঘণ্টা, জুলাই ৩, ২০২১
রাজধানীর সড়কে বেড়েছে মানুষের চলাফেরা ‘লকডাউন’ বাস্তবায়ন করতে কাজ করছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। ছবি: শাকিল আহমেদ

ঢাকা: রাজধানীর পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জ মোড় থেকে রিকশায় করে যাচ্ছিলেন অনিক (ছদ্মনাম)।

রাজধানী সুপার মার্কেটের বিপরীতে আসতেই তার রিকশা আটকে দিল সেনা বাহিনীর সদস্যরা।

সুনির্দিষ্ট কারণ দেখাতে না পারায় রিকশা থেকে তাকে নামিয়ে ফেরত পাঠানো হলো আবার বাড়িতে।

অনিকের মতো এমন মানুষের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে রাজধানীতে। কারণে-অকারণে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ছেন তারা। তবে বিভিন্ন স্পটেই তাদের সম্মুখীন হতে হচ্ছে নানা প্রশ্নের।

শনিবার (৩ জুলাই) রাজধানীর সায়েদাবাদ, টিকাটুলী, ওয়ারী, গুলিস্তান, পল্টন এলাকা ঘুরে এ দৃশ্য নজরে পড়ে। গত দুই দিনের তুলনায় শনিবার দেশব্যাপী চলমান ‘লকডাউনের’ তৃতীয় দিনে রাস্তায় জনসাধারণের চাপ বেড়েছে।

সকাল থেকেই টিকাটুলীর সালাউদ্দিন হাসপাতালের সামনে রয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট। সেখানে উপস্থিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তাদের সহযোগিতায় ছিলেন সেনা সদস্যরা।  

করোনার টিকা নিতে ঘর থেকে বেরিয়ে ছিলেন তিন মেডিক্যাল শিক্ষার্থী। একসঙ্গে এক রিকশায় চেপে যাচ্ছিলেন তারা। চেকপোস্টের সামনে আসতেই বাধার সম্মুখীন হতে হয় তাদের।

প্রশ্ন করতেই তারা বললেন, আমরা একই বাসায় থাকি। একসঙ্গে টিকা নেওয়ার ডেট পড়েছে। সুতরাং আমরা এক সঙ্গে যাচ্ছি।

তবে তাদের এ উত্তরে সন্তুষ্ট করতে পারেনি সেখানে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহানাজ হোসেন ফারিবাকে। তিনি তাদের একজনকে রিকশা থেকে নামিয়ে আরেক রিকশায় উঠিয়ে দেন।  

এই চেকপোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে কথা হচ্ছিলো রাজধানীর ওয়ারীর বাসিন্দা আলী হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, একটা কাজে বের হয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আটকে দিছে। কিন্তু কি কাজে বের হয়েছিলেন, তা জানতে চাইলে আমতা আমতা করে হাঁটা ধরেন তিনি।

নারিন্দার বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিন ওষুধ কিনতে বের হয়ে চেকপোস্ট দেখতে এসেছিলেন।  

তিনি বলেন, ওষুধ কিনতে বের হয়েছিলাম। এরপর দেখতে আসলাম, কেমন লকডাউন হচ্ছে! কারণ, রোববার (৪ জুলাই) একটা জরুরি কাজে বের হতে হবে।  

গত দু’দিনের তুলনায় শনিবারের পরিস্থিতির বিষয়ে মাহানাজ হোসেন ফারিবা বাংলানিউজকে বলেন, সরকার আমাদের যে ২১ দফা বিধিনিষেধের নির্দেশনা দিয়েছে, আমরা তার আলোকে কাজ করে চলছি। অকারণে কেউ ঘর থেকে বের হলেই আমরা ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছি। একই সঙ্গে অনেককে জরিমানাও করা হচ্ছে। আমি এখানকার আগে যাত্রাবাড়ীতে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ২৫ জনকে জরিমানা করে এসেছি।

সেখানে দায়িত্বরত বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর মেজর মুহতাসিম তাজ বাংলানিউজকে বলেন, গত দুই দিনের তুলনায় সড়কে জন চলাচল অনেক বেড়েছে। গত দু’দিন মানুষের মধ্যে নিয়ম মানার প্রবণতা ছিল। কিন্তু শনিবার সকাল থেকে কারণ-অকারণে ঘর থেকে বের হচ্ছেন তারা। অনেকে পুলিশ বা গণমাধ্যমের স্টিকার লাগিয়েও বের হচ্ছেন।

এদিকে, ‘লকডাউন’ দেখতে বের হয়ে গত দুই দিনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ৮৭০ জন।
 
কঠোর ‘লকডাউনে’ দেশব্যাপী ৪০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। প্রথমদিনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ১৮২ জনকে এক লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। দ্বিতীয় দিন ২১৩ জনকে সর্বমোট ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৪০ টাকা জরিমানা করা হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৪৭ ঘণ্টা, জুলাই ০৩, ২০২১
ডিএন/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa