ঢাকা, রবিবার, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

নকলায় ভাঙন হুমকিতে সড়ক-বাড়িঘর, পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩০৫ ঘণ্টা, জুলাই ৩, ২০২১
নকলায় ভাঙন হুমকিতে সড়ক-বাড়িঘর, পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক ...

শেরপুর: শেরপুরের নকলা উপজেলায় ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ইছামতি নদীর ভাঙন হুমকির মুখে রয়েছে পিছলাকুড়ি-তাড়াকান্দা সড়ক। সড়কটি উপজেলার উত্তরাঞ্চলের জন্য বাঁধ হিসেবে গণ্য।

সড়কটি ভেঙে গেলে ভিটাবাড়ী হারাবে বেশকিছু পরিবার। জলাবদ্ধতায় পড়বে কয়েকশ পরিবার।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এ ধরনের খবর প্রকাশ হলে, তা নজরে পড়ে শেরপুর জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশিদের। খবর পেয়েই তিনি ছুটে আসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে।  

শুক্রবার (২ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনের সময় উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মো. বোরহান উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান সারোয়ার আলম তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উরফা ইউপির চেয়ারম্যান রেজাউল হক হীরা, উপজেলা প্রকৌশলী আরেফীন পারভেজ, নকলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন সরকার বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর হোসেন, নির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন ও রাইসুল ইসলাম রিফাতসহ স্থানীয় সাংবাদিক, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও হুমকির সম্মুখীন পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতের কারণে তারাকান্দি-পিছলাকুড়ি পাকা সড়কটির দুই তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যেই ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকি কমাতে ওই রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়ে বিকল্প কাঁচা রাস্তা যানবাহন ও মানুষ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত পাকা সড়কটি থেকে আনুমানিক ৫০০ ফুট দূরে নদী ছিলো। কিন্তু রাস্তার পাশ থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গত বছর রাস্তা সংলগ্ন জমিতে ভাঙন শুরু হয়। এবার বর্ষার শুরুতেই রাস্তাটি ভাঙন শুরু হয়। ফলে হুমকিতে আছে শত শত পরিবার।

ভাঙন মুখে অসহায় দরিদ্র নিজাম উদ্দিন জানান, আর ৩/৪ ফুট ভাঙলেই তার বাড়িসহ আরো কয়েকটি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। ফলে ভিটাবাড়ি হারা হবেন তারা, এমনটাই বলেন স্থানীয় অনেকে। স্থানীয়দের ধারণা, পিছলাকুড়ি-তারাকান্দা সড়কটি ধসে গেলে পাহাড়ি ঢলে বন্যার পানিতে নকলা উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ এবং তলিয়ে যাবে রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি।

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সারোয়ার আলম তালুকদার জানান, ২০২০ সালে ক্ষতির সম্মুখিন পরিবারের সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করলে, আপাতত সান্ত্বনা দিয়ে বিদায় করলেও, পরবর্তীতে তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এরপরেও তিনি বার বার মাসিক সভা ও সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করলেও অজ্ঞাত কারণে কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়।  

তিনি আরও জানান, নদীর দুই তীরে এতো এতো জায়গা থাকতে কেন এখানে ভাঙনের সৃষ্টি হলো তা খতিয়ে দেখে উপযুক্ত কারণ খুঁজে বের করে উপজেলার অন্যান্য জায়গায় যেন এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যবস্থা করা উচিত। তবেই নদী ভাঙন রোধ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশিদ বলেন, আমি ভাঙনের কবলে পড়া সড়কটি পরিদর্শন করেছি। ভাঙন রোধে সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি।

বাংলাদেশ সময়: ১৩০০ ঘণ্টা, জুলাই ০৩, ২০২১
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa