ঢাকা, সোমবার, ২ কার্তিক ১৪২৮, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

‘কঠোর লকডাউনে’ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ফাঁকা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৫৬ ঘণ্টা, জুলাই ২, ২০২১
‘কঠোর লকডাউনে’ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ফাঁকা ছবি: বাংলানিউজ

টাঙ্গাইল: করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারাদেশে ‘কঠোর লকডাউন’ জারি করেছে সরকার। আর এটি বাস্তবায়নে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

ফলে টাঙ্গাইলে কঠোর লকডাউন পালনও করছে সাধারণ মানুষ।  

এতে জেলা শহরে খোলা নেই কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। এছাড়া পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যাও নেই বললেই চলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে।  
এ কারনে পুরো মহাসড়টিই ফাঁকা।  

শুক্রবার (০২ জুলাই) দুপুরে কালিহাতী উপজেলার সল্লা থেকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া পর্যন্ত সরেজিমন গিয়ে এমন চিত্রই দেখা যায়।

কালিহাতী উপজেলা এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকা ফাঁকা। দু’একজন যাত্রী দাঁড়িয়ে রয়েছেন যানবাহনের অপেক্ষায়। তারা যাবেন বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায়। এসেছেন কালিয়াকৈর থেকে।  

এর মধ্যে হাফিজুল নামে এক ব্যক্তি বাংলানিউজকে জানান, কোনো যানবাহন না থাকায় কালিয়াকৈর থেকে ভেঙে ভেঙে নাগরপুর উপজেলা দিয়ে টাঙ্গাইল শহর হয়ে এলেঙ্গা পর্যন্ত এলে তাকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি পুলিশ আটক করে। এখন তারা বাধ্য হয়ে অন্য যানবহনের অপেক্ষা করছেন।

কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ওই মহাসড়ক ছিল পুরোটাই ফাঁকা। নেই কোনো গণপরিবহন বা সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এছাড়া পণ্যবাহী যানবাহন সংখ্যায় খুবই কম।

এদিকে টাঙ্গাইলের করোনা সংক্রমণ দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় লকডাউন অমান্য করে বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়ক ব্যবহার করে গণপরিবহন যাতে টাঙ্গাইলে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নিতে পাশের গাজীপুর ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসককেও (ডিসি) অনুরোধ জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের ডিসি  ড. মো. আতাউল গণি।  

বৃহস্পতিবার (০১ জুলাই) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে লকডাউন বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সমন্বয় সভা শেষে এ অনুরোধ করেন ডিসি ড. মো. আতাউল গণি।

তিনি জানান, কঠোর লকডাউন অমান্য করে কেউ যেন টাঙ্গাইলে প্রবেশ না করতে পারেন— সে লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জ ও গাজীপুরের ডিসিককে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ ডিসিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্তে সব সময়ের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত রাখার অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে বিধিনিষেধ অমান্য করে কোনো গাড়ি সেতুতে উঠতে না পারে। এছাড়া টোল আদায়ে বাসেককে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একজন সদস্য (সচিব পদ মর্যাদার) জেলার করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করছেন।

ডিসি ড. মো. আতাউল গণি জানান, কঠোর লকডাউনের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন পয়েণ্টে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ১১৩টি চেকপোস্ট বসিয়ে লকডাউন কার্যকর করা হচ্ছে। জেলায় লকডাউন বাস্তবায়নে ২৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সাতটি দল (প্রতি টিমে নয়জন সেনা সদস্য), প্রতি দলে আটজন সদস্যেরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) তিনটি পেট্রোল দল, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ২০ জন সদস্য, পুলিশ এবং আনসারের ৮০০ সদস্য মাঠে রয়েছে।

টাঙ্গাইলে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে থাকা বঙ্গবন্ধু সেনানিবাসের ক্যাপ্টেন ইসতিয়াক বাংলানিউজকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা এবং সেনা প্রধানের তত্ত্বাবধানের লকডাউন সফল করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে সেনাবাহিনী। সবাইকে মাস্ক পরাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে কঠোরভাবে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। জরুরি কাজ ছাড়া অফিস বা ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। কেউ লকডাউন অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৫ ঘণ্টা, জুলাই ০২, ২০২১
এসআরএস
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa