ঢাকা, শনিবার, ৭ কার্তিক ১৪২৮, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

চেকপোস্টে থামালেই ‘জরুরি’ অজুহাত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৩১ ঘণ্টা, জুলাই ২, ২০২১
চেকপোস্টে থামালেই ‘জরুরি’ অজুহাত চেকপোস্টে থামালেই ‘জরুরি’ অজুহাত

ঢাকা: করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে চলছে সারাদেশে কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিন। সড়ক অনেকটাই ফাঁকা।

জরুরি সেবা ও পণ্যবাহী যানবানবাহন ছাড়া তেমন যানবাহনের চলাচল নেই। তবে রাজধানীর প্রধান সড়কে প্যাডেল রিকশার চলাচল রয়েছে।

তবুও জরুরি কাজের অজুহাত দিয়ে কেউ কেউ অহেতুক ঘর থেকে বের হচ্ছেন। তবে সড়কে থাকা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্টে গিয়ে আটকে যাচ্ছেন তারা। উপযুক্ত কারণ না হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

রাজধানীর বিভিন্ন চেকপোস্টে নিয়োজিত পুলিশ-র‌্যাব-আনসার ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রথমেই চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বুঝিয়ে বলছেন, এরপর ঘর থেকে বের হওয়ার কারণ জানতে চাইছেন। জরুরি কারণটি যুক্তিসঙ্গত হলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আর যারা অহেতুক কারণ উপস্থাপন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (০২ জুলাই) কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিন সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকা চেকপোস্ট ঘুরে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা যায়।

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর, হাউজবিল্ডিং, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, বনানী, গুলশান, বাড্ডা, মহাখালী, রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট থাকতে দেখা গেছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার। অপরদিকে সকাল থেকে বৃষ্টি। মূলত এই কারণে সড়কে খুব বেশি মানুষ বের হতে দেখা যায়নি। তবে আমরা চেকপোস্টে বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। জরুরি কারণ না হলে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে ঘর থেকে বের হয়ে যারাই চেকপোস্টের সামনে আসেন, তাদের সবাই আমাদের কাছে জরুরি প্রয়োজনগুলো উল্লেখ করছেন। জরুরি নানা কাজের অজুহাত দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে চাইছেন। এদিকে অনেক প্রাইভেটকার ফাঁকা সড়কে চলাচল করছে। সেগুলো আটক করা হচ্ছে। কারণ লকডাউনের নির্দেশনায় জরুরি সেবা ও পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া কোনো যানবাহন সড়কে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবুও অনেকে বিনা কারণে যানবাহন বের করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর প্রবেশ মুখ আব্দুল্লাহপুরে রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) চেকপোস্ট। সেখানে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে রেইনকোর্ড পরে আবার কেউ ছাতা মাথায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। সড়কে যানবাহনের দিকে নজদারি করছিলেন।

আব্দুল্লাহপুর চেকপোস্টের দায়িত্বরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাসীব বাংলানিউজকে বলেন, বৃষ্টি হোক আর ঝড়, আমরা দায়িত্বে নিয়োজিত আছি। তবে শুক্রবার হওয়ার কারণে এই সড়কে আজ তেমন যানবাহন চলাচল করছে না। তবে রিকশাগুলোতে আসা যাত্রীদের জরুরি কারণ জেনেই তাদের যেতে দেওয়া হচ্ছে।

রাজধানীর হাউজবিল্ডিং, জসিম উদ্দিন বিমানবন্দর, খিলক্ষেত এলাকায় সড়ক একেবারেই ফাঁকা, অনেক সময় পরপর একটি দু’টি মোটরসাইকেল বা প্রাইভেটকার চলাচল করতে দেখা গেছে। এছাড়া শুক্রবার বিধায় জরুরি সেবা ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলও সীমিত। তবে সড়কের পাশে থাকা বাস স্ট্যান্ডগুলোতে যাত্রীর অপেক্ষায় রিকশা চালকদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

ঢাকা রেডিসন হোটেলের আগে ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনের পরে পুলিশ চেকপোস্টে কঠোরভাবে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা গেছে। সেখানে গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তীর নের্তৃত্বে সব ধরনের যানবাহন তল্লাশি করা হয়। ঘর থেকে বের হওয়ার উপযুক্ত কারণ দেখাতে না পাড়ায় এই চেকপোস্টে দুপুর পর্যন্ত একটি প্রাইভেটকারকে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও সড়কে চলাচলরত সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল দেখলেই তাদের থাকিয়ে তল্লাশি ও বের হওয়র কারণ জানতে চাওয়া হয়। উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে অনেকেই যেতে পারছেন।

গুলশান বিভাগের উপ কমিশনার ডিসি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বাংলানিউজকে বলেন, মানুষ এখনও বোঝেন না। হাসপাতালে রোগী দেখতে যাবে বলে একটি প্রাইভেটকার সড়কে বের হয়েছে। তাকে থামিয়ে কারণ জানতে চাইলে এমন অহেতুক কারণ উপস্থাপন করেছেন। তাই ওই গাড়িটি ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘর থেকে যারাই বের হচ্ছেন, পুলিশ চেকপোস্টে এসে তাদের অহেতুক কারণগুলো জরুরি হিসেবে দেখাচ্ছেন।

এদিকে বনানী বাস কাউন্টারের সামনে সেনাবাহিনীর চেকপোস্ট দেখা গেছে। সেখানে সড়কে চলাচলরত সব যানবাহনগুলো থামিয়ে বের হওয়ার কারণ জানতে চাইছেন। উপযুক্ত কারণ দেখাতে না পাড়ায় কয়েকটি প্রাইভেটকার আটক করা হয়েছে। তবে উপযুক্ত কারণ হলেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে এই চেকপোস্টে।

এ বিষয় বনানী চেকপোস্টের দায়িত্বে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর মেজর আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে কঠোর লকডাউন চলছে, দ্বিতীয় দিনেও আমরা ঘর থেকে বের হওয়া মানুষদের শুরুতেই পরিস্থিতি সম্পর্কে বুঝিয়ে বলছি। তাদের বলা কারণ একেবারেই অহেতুক হলে তাতের বিরুদ্ধে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।  

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুরো সপ্তাহ আমরা পুলিশ-র্যাব, আনসার বিজিবিসহ সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অর্পিত দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত থাকবো।

এদিকে, রাজধানীর সড়কগুলো একেবারে ফাঁকা থাকায়। কিছু কিছু প্রাইভেটকার বেপরোয়া গতীতে চলাচল করছে। কারণ সড়কে চেকপোস্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকলেও সিগন্যাল না থাকায় তেমন ট্রাফিক পুলিশ নিয়োজিত থাকতে দেখা যায়নি। সবাই বর্তমানে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিযোজিত। এদিকে শুক্রবার দুপুরে বনানি সিগন্যালে বেপরোয়ক গতিতে আসা একটি প্রাইভেটকার সামনের একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের চালক ছিটকে পড়ে যায় এবং তার ডান পা ভাঙাসহ গুরুত্বর আঘাত পায়। ঘটনাস্থলে থাক কয়েকজন রিকশা চালক তাকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেলটি বর্তমানে বনানী থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেখানকার দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা।

বাংলাদেশ সময়: ১৬২৫ ঘণ্টা, জুলাই ০২, ২০২১
এসজেএ/এমআরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa