ঢাকা, সোমবার, ৯ কার্তিক ১৪২৮, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

সিলেট চা শিল্পাঞ্চলে জুনে ৮৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত 

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন, ডিভিশনাল সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২৩৬ ঘণ্টা, জুলাই ২, ২০২১
সিলেট চা শিল্পাঞ্চলে জুনে ৮৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত 

মৌলভীবাজার: বর্ষায় ভরে উঠেছে চা বাগান। অশান্ত আষাঢ়ের ধারা গায়ে মেখে চা গাছের পাতাগুলো চির সবুজ হয়ে উঠার পাশাপাশি বাড়ছে উৎপাদন।

ফলে চা শিল্পাঞ্চলে দেখা দিয়েছে গাছে গাছে দ্রুত কুঁড়ি আসার গতিশীলতা।

এদিকে, সিলেট আবহাওয়া অফিস গত ১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে ৬৭০ দশমিক ৪ মিলিমিটার। আর শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস থেকে জুন মাসে ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে সিলেট বিভাগের অপর এলাকায় বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম। ফলে চা বাগানের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন চা সংশ্লিষ্টরা।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া সহকারী অমর তালুকদার বাংলানিউজকে বলেন, চলতি বছরের জুন মাসের ৩০ দিনের মধ্যে ২৮ দিন সিলেটে বৃষ্টিপাত হয়েছে। মোট বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে ৬৭০ দশমিক ৪ মিলিমিটার। সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে ৪ জুন ১০৪ দশমিক ২ মিলিমিটার, ২৭ জুন ১০০ মিলিমিটার এবং ৩০ জুন ৮০ দশমিক ৮ মিলিমিটার।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়া সহকারী তাজুল ইসলাম মাসুম বাংলানিউজকে বলেন, চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে জুন মাসের ৩০ দিনের মধ্যে ২৩ দিন বৃষ্টিপাত হয়েছে। আমাদের রেকর্ডকৃত বৃষ্টির পরিমাণ ১৬৭ মিলিমিটার। এর মধ্যে বেশি পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে যথাক্রমে ২ জুন ৩৫ মিলিমিটার, ৬ জুন ৩৬ মিলিমিটার এবং ২৫ জুন ১৮ মিলিমিটার।  

এদিকে, সিলেট এবং শ্রীমঙ্গলে বৃষ্টিপাতের তুলনামূলক স্বাভাবিক হলেও বৃষ্টি নেই হবিগঞ্জ এলাকায়।

বৃন্দাবন চা বাগানের সিনিয়র ব্যবস্থাপক নাসির উদ্দিন খান বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমাদের লস্করপুর ভ্যালিতে (হবিগঞ্জ এলাকায়) সিলেট ভ্যালির মতো বৃষ্টিপাত নেই। আমরা সব সময় দেখে আসছি আমাদের ভ্যালিতে বৃষ্টি দেশের অন্যান্য ভ্যালি থেকে কম হয়। সিলেট ভ্যালিতে বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ার কারণ ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা এটি। ভারতের চেরাপুঞ্জির প্রভাবটা সিলেটে এসে যুক্ত হবার ফলেই সিলেট ভ্যালিতে বৃষ্টিপাত বেশি। ফলে আমরা সিলেট এলাকার চা বাগানগুলোর মোট উৎপাদন থেকে পরিবেশগতকারণেই পিছিয়ে আছি। ’

তিন বছরের পরিসংখ্যান তথ্য উল্লেখ করে নাসির উদ্দিন বলেন, আমাদের বৃন্দাবন চা বাগানে গত তিন বছরের বৃষ্টিপাতের রেকর্ড দেখলে সহজেই বুঝতে পারবেন যে, ভৌগলিকগতকারণে বৃষ্টিপাত বছর বছর কমে আসছে। চলতি বছরের পুরো জুন মাসে আমাদের বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ১৩ দশমিক ৪২ ইঞ্চি অর্থাৎ ৩৪০ দশমিক ৮৬ মিলিমিটার। গতবছর ২০২০ সালের জুন মাসে এ বৃষ্টি ছিল ২২ দশমিক ০৮ ইঞ্চি অর্থাৎ ৫৬০ দশমিক ৮৩ মিলিমিটার। আর ২০১৯ সালের জুন মাসে বৃষ্টিপাত ছিল ২৩ দশমিক ৯২ ইঞ্চি অর্থাৎ মিলিমিটারের হিসেবে দাঁড়ায় ৬০৭ দশমিক ৫৬। তিন বছরের এই ছক দেখে বুঝা যায়, তুলনামূলকভাবে বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাচ্ছে।  

তিনি বলেন, ‘ড্রাই সিজনে (খরা মৌসুমে) ইরিগেশন (সেচ) দিয়ে আমরা ইয়াং টিগুলো (শিশু চা চারা) বাঁচিয়ে রাখতে চেষ্টা করি। কিন্তু হাজার হাজার একর ম্যাচিউর টিতে (প্রাপ্তবয়স্ক চা গাছ) সেই ইরিগেশন কখনই সম্ভব নয়। তাহলে প্রাকৃতিক বৃষ্টিপাত থেকে আমরা বঞ্চিত হয়ে পড়ছি। ’ 

‘এখন বর্ষাকাল। ক’বছর আগে এই এমন বর্ষাকালে বাগানের ছড়াগুলোতে আমরা পানির জন্য এক সেকশন (চা বাগানের সুনির্দিষ্ট এলাকা) থেকে অন্য সেকশনে যেতে পারতাম না। কিন্তু এখন পানি-ই নেই। যেখানে আগে কোমরপানি থাকতো, এখন অল্প পরিমাণ পানি রয়েছে। আমাদের বাগানের ছড়াগুলোতেও এখন একেবারে পানি নেই। ক্লাইমেটিক কন্ডিশনের (জলবায়ুর অবস্থা) কারণে ওয়াটার লেভেল (পানির স্তর) শুকিয়ে যাচ্ছে’ বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন বৃন্দাবন চা বাগানের সিনিয়র ব্যবস্থাপক নাসির।

বাংলাদেশ সময়: ১২৩৬ ঘণ্টা, জুলাই ০২, ২০২১
বিবিবি/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa