ঢাকা, রবিবার, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

গাজীপুর সিটিতে আবর্জনার পাহাড়, কয়েক কিমি জুড়ে দুর্গন্ধ

মো. রাজীব সরকার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৭৪৫ ঘণ্টা, জুলাই ২, ২০২১
গাজীপুর সিটিতে আবর্জনার পাহাড়, কয়েক কিমি জুড়ে দুর্গন্ধ

গাজীপুর: গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আবর্জনার স্তূপ গত কয়েক বছরে পাহাড়ে পরিণত হয়েছে। আবর্জনার এ পাহাড় থেকে বাতাসে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, আর দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।

এতে দুর্ভোগে নগরবাসী।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী থানাধীন ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাইমাইল এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ঘেঁষেই বিশাল আবর্জনার পাহাড় তৈরি হয়েছে। একদিনেই হয়নি। গত ৮-১০ বছর ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে ফেলতেই তৈরি হয়েছে এই পাহাড়টি। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অঞ্চলের সব ময়লা-আবর্জনা গাড়ি দিয়ে এনে ফেলা হচ্ছে ওই স্থানে। পরে ভেকু দিয়ে ওইসব আবর্জনা উঁচু করে পাহাড়ে পরিণত করা হয়েছে। এখন মাটি থেকে প্রায় ৭০-৮০ ফুট উচ্চতা আবর্জনার এই পাহাড়ের। এসব আবর্জনার থেকে বের হচ্ছে দুর্গন্ধ। বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। এতে দূষিত হচ্ছে বায়ুমণ্ডল ও পরিবেশ। দুর্গন্ধে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।

আশপাশের বসত বাড়িতে, বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে ওই সব ময়লা-আবর্জনা। এছাড়াও মাছির যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে আশপাশে বসবাসরত লোকজন। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চলাচলরত যানবাহনের যাত্রীদের শরীরেও বসছে আবর্জনা থেকে উঠে আসা মাছি। আশপাশের দোকানপাট ও খাবার হোটেলেও এসব মাছি বসে রোগ-জীবাণু ছড়াচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে গত ৮-১০ বছর ধরে মহাসড়কটিতে যাত্রীদের চলাচল করতে হয় নাক মুখ চেপে ধরে। এতে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।  

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই এবং নির্দিষ্ট জায়গা কেনার চেষ্টা চলছে এমন কথা বলেই দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও সিটি করপোরেশনের এসব বর্জ্য দিয়ে জৈব সার, গ্যাস, পেট্রোল ও বিদ্যুৎ তৈরিরও কথা জানান সিটি করপোরেশন। কিন্তু এসব কাজের কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।  

এই আবর্জনার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চার লেন উত্তীর্ণকরণ কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে। ফলে ওই স্থানটিতে কাজ করতে পারছে না সাসেক-সড়ক-সংযোগ-প্রকল্প। দ্রুত এই স্থান থেকে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করে এবং এসব আবর্জনা সরিয়ে নিতে জোর দাবি জানান এলাকাবাসী। নগরবাসীর ক্ষোভ সিটি করপোরেশনের রাস্তাঘাট ও ড্রেনের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন দিকে উন্নয়ন হলেও আবর্জনা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা এখনো বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

বাইমাইল এলাকার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে বসবাসরত শচীন্দ্র চন্দ্র দাস বলেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে পরিবার নিয়ে এখানে বসবাস করছি। ১০-১২ বছর ধরে আমাদের বাড়ির পাশে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এসব আবর্জনার দুর্গন্ধে এখানে টিকে থাকাটা খুবই কষ্টকর। আর অন্য কোথাও জায়গা জমি নেই থাকলে চলে যেতাম। আবর্জনায় চাপা পড়ে আমার একটি ঘর ভেঙে গেছে। বর্জ্যের কারণে ঘর, দুয়ার, খাবার এমনকি শরীরেও সব সময় বসে থাকে মাছি। মাছির যন্ত্রণায় খাওয়া-দাওয়া করতে পারিনা, ঘরেও থাকতে পারিনা। বাড়ির চেয়ে প্রায় ১০০ ফুট উঁচু হয়ে গেছে আবর্জনা।

চায়না নামের এক নারী বলেন, এই জমি ছাড়া মাথা গোঁজার মতো কোথাও আমাদের জমি নেই। থাকলে সেখানে চলে যেতাম। আবর্জনার মধ্যে থাকা যায় না। অনেক কষ্টে, দুর্ভোগে এখানে পড়ে আছি।  

এ ব্যাপারে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এস এম সোহরাব হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, এখন পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর, মিরের বাজার যাওয়ার পথে ও বাইমাইল এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। চীনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। শীঘ্রই একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এজন্য সিটি করপোরেশনের হাতিয়াবহ এলাকায় ১০০ বিঘা জমি কেনা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় এসব বর্জ্য কাজে লাগিয়ে জৈব সার, পেট্রোল ও বিদ্যুৎ তৈরি করা হবে। এ প্রকল্প চালু হতে কতদিন লাগবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ সময়: ০৭৪৫ ঘণ্টা, জুলাই ০২, ২০২১
আরএস/কেএআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa