ঢাকা, রবিবার, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

‘কঠোর লকডাউনে’ ব্যাপক দুর্ভোগে শ্রমিকরা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩০৩ ঘণ্টা, জুলাই ১, ২০২১
‘কঠোর লকডাউনে’ ব্যাপক দুর্ভোগে শ্রমিকরা

ঢাকা: করোনা ভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণের কারণে সরকারের দায়হীন ‘কঠোর লকডাউনে’ শ্রমিক, শ্রমজীবী, দিনমজুর তথা ব্যাপক জনগণ চরম দুর্ভোগে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. এম এ করিম ও সাধারণ সম্পাদক  ব্রিঃজেঃ(অবঃ) ডা. এম জাহাঙ্গীর হোসাইন বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ অভিযোগ করেন।

তারা বলেন, সরকার জনগণের কোন রকম দায়দায়িত্ব গ্রহণ না করে ‘কঠোর লকডাউন’ চাপিয়ে দিয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশের ভয় দেখিয়ে জনগণকে গৃহবন্দী করে রাখতে চাইছে। দ্রব্যমূল্য বিশেষতঃ যখন মোটা চাল ৪৮-৫০ টাকা, ডাল ১০০-১১০ টাকা, তেল ১৫০ টাকা, আলু ২৫ টাকা; তখন শ্রমজীবী জনগণ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দুবেলা দুমুঠো ডাল ভাত জুটাতে পারে না, সেরকম অবস্থায় খাবার ছাড়া এই মানুষদের ঘরে থাকার কথা বলা তাদের সাথে উপহাস ছাড়া আর কি হতে পারে!

গত একবছরে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন। ৬২ শতাংশ শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। সরকারের সদ্য পাসকৃত বাজেটেও এই দরিদ্র জনগণের জন্য কিছুই রাখা হয়নি, এমন কি জনগণের সামাজিক নিরাপত্তায় রেশনিং চালুর প্রেক্ষিতেও কোন বরাদ্দ হয়নি। অথচ কালোটাকার মালিকদের সুযোগ ও কর্পোরেট ব্যবসায়ীদের জন্য কর কমানো হয়েছে।

নেতৃদ্বয় বলেন, সরকার জনগণের জীবন ও জীবিকার দায়কে অস্বীকার করলেও সাম্রাজ্যবাদী লগ্নিপুঁজি ও দালালপুঁজির সাথে সম্পর্কিত গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প ও প্রতিষ্ঠান ঠিকই খোলা রাখা হয়েছে। অথচ শ্রমিকদের যাতায়াতের কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের জনগণ সাধারণত মাসের ৭/৮ তারিখের দিকে বেতন পেয়ে থাকে কিন্তু এবার মাসের শুরতেই লকডাউন দেওয়ায় এদের অনেকেই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। ইতোমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে চলমান লকডাউন আরও বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে। অথচ চলমান লকডাউনে সরকার ত্রাণ তৎপরতারও কোন উদ্যোগ নেওয় হয়নি।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা আজ মুনাফার হাতিয়ার আর মানুষের জীবন জীবিকা, চলাচলের স্বাধীনতা তথা সংঘবদ্ধ হওয়ার সুযোগকে আরও নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় কঠোর বিধিনিষেধ, লকডাউন বা শাটডাউনের নামে নিয়ন্ত্রণকে বিভিন্নভাবে জোরদার করা হচ্ছে। করোনা মহামারির পাশাপাশি জুলাই মাসে বন্যার পূর্বাভাসে দেশের শ্রমিক কৃষক মেহনতি জনগণের জীবন দিশেহারা। তারউপর ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর একমাসের মাথায় জুলাই মাস হতে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন মানবেতর জীবনযাপন করা জনগণের নিকট তা ‘মরার উপর খাড়ার ঘাঁ’ তুল্য।

তারা আরো বলেন, সরকারের এহেন স্বৈরতান্ত্রিক গণবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জনগণ যাতে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তুলতে না পারে সেজন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ কালকানুন জারি করে জনগণের বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করার পাশাপাশি বিনাবিচারে হত্যা, খুন, গুম, ক্রসফায়ার চালিয়ে ভীতি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। একই কায়দায় করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার জনগণকে সম্পৃক্ত করার পরিবর্তে সেনা, বিজিবি, পুলিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে জনগণকে ঘরে রাখতে চাইছে, তা কোনভাবেই করোনা মোকাবেলায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হতে পারে না। এবং তার ফলাফলও আশানুরূপ হবে না।

নেতৃবৃন্দ করোনাভাইরাস মোকাবেলায় লকডাউন কার্যকরে ঘরে ঘরে খাদ্য, নগদ অর্থ, বিনামূল্যে চিকিৎসা, নিত্যপণ্যে মূল্য কমানো ও সর্বস্তরে রেশনিং চালু, সকল উপজেলায় পিসিআর ল্যাব স্থাপন করে পর্যাপ্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা, ন্যূনতম জেলা পর্যায় পর্যন্ত আইসিইউ বা নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ও ভেন্টিলেটরসহ সকল চিকিৎসা সুবিধার নিশ্চয়তা বিধান, লকডাউনে শ্রমজীবী ও কর্মজীবী জনগণের বেতন ও বোনাস প্রদান নিশ্চিত করা, করোনা পরিস্থিতিতে জনগণের নিকট হতে গ্যাস, বিদ্যুত, পানির বিল আদায় বন্ধ, সকল ধরনের কৃষি ঋণ মওকুফ, এনজিওদের কিস্তি আদায় বন্ধ ও সুদ মওকুফ, ঢাকাসহ সারাদেশে ডেঙ্গু রোগের বিস্তার মোকাবেলায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল কানাকানুন বাতিল করার দাবি জানান।

সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত গঠমাধ্যমে বিবৃতিটি পাঠিয়েছেন।

বাংলাদেশ সময়: ২৩ ঘণ্টা, জুলাই০১, ২০২১
ইইউডি/এমএমএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa