ঢাকা, শনিবার, ৭ কার্তিক ১৪২৮, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

কঠোর সরকার, চলছে কেন্দ্রীয় মনিটরিং

ইসমাইল হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২৩৪ ঘণ্টা, জুলাই ১, ২০২১
কঠোর সরকার, চলছে কেন্দ্রীয় মনিটরিং

ঢাকা: করোনা ভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯)-এর বিস্তার রোধকল্পে আরোপিত বিধি-নিষেধ বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে নানান উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয়ভাবে মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম মনিটরিং ও সমন্বয় করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ বা লকডাউন শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (১ জুলাই)। প্রাথমিকভাবে তা চলবে সাত দিন। তবে করোনার সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় সরকার বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কঠোর হচ্ছে। সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কঠোর হতে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথম দিন মাঠে কঠোর ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিনা কারণে ঘরের বাইরে বের হওয়ায় সারা দেশে গ্রেফতারও করা হয় হাজারের বেশি। গ্রেফতার আতঙ্কে মানুষের বের হওয়ার সংখ্যাও ছিল কম।  

বিধিনিষেধের প্রথম দিন সরকারি অফিস-আদালত বন্ধ ছিল। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খোলা ছিল। মন্ত্রিপরিষদ সচিব সারাদেশের ডিসি-ইউএনওদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে জেলা-উপজেলার মানুষের চিকিৎসা এবং ত্রাণ কার্যক্রমের খবর নিচ্ছেন বলে জানা যায়। সচিবালয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়গুলো ছিল কর্মকর্তা ও কর্মচারী শূন্য।  

চলমান বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের কার্যক্রম সমন্বয় ও মাঠ পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করতে প্রথম দিনই কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি সমন্বয় সেল গঠন করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে এই সেল গঠন করে আদেশ জারি করা হয়।  

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের করোনা ভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯)-এর বিস্তার রোধকল্পে ১-৭ জুলাই পর্যন্ত সময়কালে সরকার সরকারি/বেসরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। এ প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সমন্বয় সেল গঠন করা হলো।  

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ) শেখ রফিকুল ইসলামকে আহবায়ক করে এই সমন্বয় সেল গঠন করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় যুগ্মসচিব মোমেনা খাতুন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্মসচিব উম্মে সালমা তানজিয়া, জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্মসচিব আবু হেনা মোস্তফা জামান। এছাড়াও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে একজন প্রতিনিধি থাকবেন।

এই সেলের কার্যপরিধিতে বলা হয়, গঠিত সেল কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধধকল্পে আরোপিত বিধি-নিষেধ বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের কার্যক্রম সমন্বয় ও মাঠ পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করবে। সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত রাখবে।

জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে উপযুক্ত প্রতিনিধি মনোনয়ন প্রদানের অনুরোধ করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আর চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব/সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসককে পাঠানো হয়েছে।  

করোনা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয় করতে একই দিনে দুই জেলায় দুইজন সচিবের দায়িত্ব পুর্নবণ্টন করা হয়েছে। বিপিএটিসির রেক্টর মো. মনজুর হোসেনকে নরসিংদী জেলায় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেনকে রাজশাহী জেলায় দায়িত্ব দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস স্বাক্ষরিত আদেশ জারি করা হয়েছে।  

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আদেশে বলা হয়, কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জেলা পর্যায়ে চলমান ত্রাণ কার্যক্রম সুসমন্বয়ের লক্ষ্যে সরকারের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের ৬৪ জেলায় প্রদান করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবরা কাজে তার মন্ত্রণালয়/বিভাগ/দপ্তর সংস্থার উপযুক্ত সংখ্যক কর্মকর্তাকে সম্পৃক্ত করতে পারবেন। নিয়োগকৃত কর্মকর্তারা জেলার সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার কাজ তত্ত্বাবধায়ন ও পরিবীক্ষণ করবেন। জেলা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিবীক্ষণ সমন্বয় সাধন করবেন। সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ অথবা অন্যবিধ বিষয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে/বিভাগ/সংস্থাকে লিখিত আকারে জানাবেন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

এরআগে গত ১ এপ্রিল কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জেলা পর্যায়ে চলমান ত্রাণ কার্যক্রম সুসমন্বয়ের লক্ষ্যে সরকারের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের ৬৪ জেলায় প্রদান করা হয়।  

অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাথে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের অত্যাবশ্যকীয় কার্যক্রম সমন্বয় করার জন্য একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।  

বাংলাদেশ সময়: ২২৩৪ ঘণ্টা, জুলাই ০১, ২০২১
এমআইএইচ/এমএমএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa