ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ কার্তিক ১৪২৮, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা হোটেল-রেস্তোরাঁ, লোকসানে ব্যবসায়ীরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৪৫ ঘণ্টা, জুলাই ১, ২০২১
স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা হোটেল-রেস্তোরাঁ, লোকসানে ব্যবসায়ীরা

ঢাকা: চলমান সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথম দিনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা হয়েছে হোটেল রেস্তোরাঁ। কিন্তু সেবাগ্রহীতা না থাকায় বেকার সময় পার করছেন হোটেল-রেস্তোঁরার কর্মীরা।

অন্যদিকে রেস্তোঁরা খোলা রাখায় হোটেল ভাড়া, ইউটিলিটি চার্জ কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সবই দিতে হচ্ছে মালিকদের। গ্রাহক না থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে সাত দিনের ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ শুরু হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল-রেস্তোরাঁকে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রির (শুধুমাত্র অনলাইনে/টেক ওয়ে) অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে পুরান ঢাকার বাবুবাজার, নয়াবাজার, বংশাল, গুলিস্তান, পল্টন, বিজয়নগর, শান্তিনগর, মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকার হোটেল ও রেস্তোরাঁ ঘরে দেখা গেছে, এসব এলাকার বেশিরভাগ হোটেল বন্ধ রাখতে দেওয়া গেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেসব হোটেল ও রেস্তোরাগুলো খোলা হয়েছে সেগুলোতেও বেচা বিক্রি নেই। কর্মচারীরা অলস সময় পার করছেন। হোটেলের ভেতরে কাউকে বসতে দেওয়া হচ্ছে না। খাবারের টেবিলে চেয়ার উল্টিয়ে রাখা হয়েছে। শুধু পার্সেল দেওয়া হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ হোটেল-রেস্তোরাঁয় হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা নেই। এমনকি কর্মীরা পর্যন্ত মাস্ক ব্যবহারে উদাসীন। গ্রাহকরা কোনো সময় বিষয়টি নজরে আনলে তারা থুঁতনি থেকে সেটি মুখে টেনে তুলছেন। পরক্ষণে আবার একই অবস্থা।

জনসন রোডের আদি ইসলামিয়া রেস্তোরাঁর ম্যানেজার ফারুক আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, রেস্তোঁরা পরিচালনা করার জন্য সরকার যেসব নির্দেশনা দিয়েছে, আমরা সেগুলো মেনেই রেস্তোঁরা খোলা রেখেছি। আজ থেকে আমরা ভেতরে বসার ব্যবস্থা রাখছি না। এজন্য টেবিলে চেয়ার উল্টিয়ে রাখা হয়েছে। শুধু পার্সেল দেওয়া হচ্ছে। ফলে আমাদের বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে। এভাবে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কষ্টকর। কবে মহামারী দূর হবে সেদিনের আশায় রয়েছি আমরা।

তিনি বলেন, কাস্টমার আসবে কীভাবে সরকার তো কাউকে ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না। এখন বিষয়টা এমন দাঁড়িয়েছে যে, পেটে ক্ষুধা সামনে খাবার কিন্তু হাত ও পা বাঁধা।

প্রেসক্লাবের সামনে তোপখানে রোডের ক্যাফে বৈশাখী রেস্তোঁরার ম্যানেজার তেলু ভূঁইয়া বাংলানিউজকে জানান, হোটেল খোলা রেখে কী করবো যদি কাস্টমার না আসে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। একদিন আগেও যেখানে বিক্রি হতো প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। সেখানে বিক্রির যে অবস্থা তা দিয়ে পণ্যের দামও উঠবে না। তারপর ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ইউটিলিটি বিল কীভাবে দেবো? তার থেকে সরকার যদি হোটেল বন্ধ রাখতে তা হলেই ভালো হতো। আমাদের এখন বেঁচে থাকাই বড় দায়।  

গত বুধবার সকালে বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে সারা দেশে সাত দিনের জন্য কঠোর লকডাউন চলবে। লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়নে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসারসহ সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। এই সময়ে জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচল এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।  

প্রজ্ঞাপনে ২১ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো—সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহনসহ সব প্রকার যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলও বন্ধ থাকবে। শপিংমল/মার্কেটসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে। সব পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। জনসমাবেশ হয় এই ধরনের সামাজিক (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান, জন্মদিন, পিকনিক পার্টি ইত্যাদি) রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে। খাবারের দোকান, হোটেল সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রয় (অনলাইন/টেক ওয়ে) করতে পারবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৪১ ঘণ্টা, জুলাই ০১, ২০২১
জিসিজি/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa