ঢাকা, সোমবার, ২ কার্তিক ১৪২৮, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

লকডাউনে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছেন না

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১০০ ঘণ্টা, জুলাই ১, ২০২১
লকডাউনে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছেন না লকডাউনে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছেন না। ছবি: জি এম মুজিবুর

ঢাকা: দেশে চলছে সাত দিনের বিধি-নিষেধ বা কঠোর লকডাউন। প্রথম দিনের কঠোর লকডাউনে সকালে থেকে মানুষের চলাফেরা কম।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে জরুরি সেবা, ব্যক্তিগত যানবাহন ও রিকশার চলাচল বাড়তে থাকে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছেন না। এবার মানুষ অনেক সচেতন।

বৃহস্পতিবার (০১ জুলাই) সকালে রাজধানীর মিরপুর ১৪, ১২, ১১, ১০ ও ২ নম্বর এলাকার পাড়া-মহল্লা ও বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় সকাল থেকেই মোড়ে মোড়ে বসেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট। এসব চেকপোস্টে পরিবহন দেখলেই গতি রোধ করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানতে চাচ্ছেন কেন বের হয়েছেন, কোথায় যাবেন। সুনির্দিষ্ট কারণ ও প্রমাণ দিতে পারলেই পরিবহনগুলো ছাড়া হচ্ছে চেকপোস্ট থেকে।

সকাল পৌনে ৮টার দিকে গার্মেন্টসে যাচ্ছিলেন রহিমা বেগম। তিনি বলেন, লকডাউনে আমাদের গার্মেন্টস খোলা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের প্রতিদিন গার্মেন্টসে প্রবেশ করতে হয়। ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয়। প্রবেশ পথে ও গার্মেন্টসের ভিতর রাখা হয়েছে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা।

মিরপুর ১০ নম্বরে সকাল ৮টার দিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কে এম মিজানুর রহমান অপেক্ষা করছিলেন অফিসের গাড়ির জন্য। তিনি বলেন, আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এয়ারলাইন্সে কাজ করি। অফিসের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছি। আমাদের অফিস খোলা, তাই অফিস যাব। সকাল থেকে যা দেখলাম লকডাউন পরিস্থিতি খুবই ভালো। মানুষজন নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এভাবে লকডাউন চলতে থাকলে কিছুটা হলেও করোনা সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব।

রিকশাচালক ইদ্রিস আলী বলেন, এই কঠোর লকডাউন আরও আগে দেওয়া উচিত ছিল। এখন দিল করোনাভাইরাস তো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন দেখার বিষয় লকডাউন দিয়ে সংক্রমণ কতটা ঠেকাইতে পারে সরকার।

তিনি আরও বলেন, লকডাউন এ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্ত মানুষ। আমাদের জন্য সরকার কি করবে? গত দুই বছর ধরে ঈদ এলেই শুরু হয়ে যায় করোনা সংক্রমণ রোধের লকডাউন। এবারও কোরবানির ঈদের আগে দেওয়া হল কঠোর লকডাউন।

মিরপুর ২ নম্বর গোলচত্বরে দায়িত্বরত মিরপুর বিভাগ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সাজেদুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যথাযথভাবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে।

মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে দায়িত্বরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মুজিবর বাংলানিউজকে বলেন, মিডিয়ার প্রচারের কারণে সরকারি প্রজ্ঞাপন মানুষ যথাযথভাবে মানছেন। সকাল থেকেই লক্ষ্য করছি মানুষজন প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছেন না। বিগত দিনের লকডাউন এর তুলনায় এবার মানুষ অনেক সচেতন।  

দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করতে বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) থেকে সাতদিনের সরকারি ‘বিধি-নিষেধ’ বা ‘কঠোর লকডাউন’ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই সাতদিন সব অফিস, যানবাহন ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে। সরকারি বিধি-নিষেধ ও মানুষের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মাঠে টহলে থাকবে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব এবং আনসার সদস্যরা। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিধি-নিষেধের সময় বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না। এরই মধ্যে পুলিশ জানিয়েছে, বিনা কারণে বাড়ির বাইরে গেলেই করা হবে গ্রেফতার।

বাংলাদেশ সময়: ১০৫৫ ঘণ্টা, জুলাই ০১, ২০২১

এমএমআই/এমআরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa