ঢাকা, রবিবার, ১ কার্তিক ১৪২৮, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

বিটুমিন উৎপাদনে ২৬ শতাংশ কর অন্যায় অযৌক্তিক অন্যায্য

নিউজ ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০৫৯ ঘণ্টা, জুলাই ১, ২০২১
বিটুমিন উৎপাদনে ২৬ শতাংশ কর অন্যায় অযৌক্তিক অন্যায্য

সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণের অন্যতম উপকরণ দেশি বিটুমিন উৎপাদনে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত করহার নির্ধারণকে অন্যায়, অযৌক্তিক ও অন্যায্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন শীর্ষ ব্যবসায়ী ও কর-বিশ্লেষকরা।  

তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী শিল্প সুরক্ষা চাইলেও কিছু সরকারি কর্মকর্তা সঠিকভাবে কাজ করেন না।

সরকারের ভেতর একটি গোষ্ঠী দেশি শিল্পের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে। শিল্পমালিকরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছেন। বিটুমিনে কর কমাতে হবে। বিটুমিন নিয়ে এক দেশে দুই নিয়ম হতে পারে না। আমদানিতে বিশাল ছাড় দিয়ে নজিরবিহীন কর-বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ধরনের রাজস্বনীতি দেশীয় শিল্পের স্বার্থবিরোধী, সরকারের শিল্প সুরক্ষা নীতির পরিপন্থি। এতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মনীতি ভঙ্গ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রীতিনীতিবিরুদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, বিটুমিনসহ সব দেশীয় শিল্প খাতকে সুরক্ষা দেওয়া উচিত। কর আরোপের ক্ষেত্রে সরকারের শিল্প উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি সংশ্লিষ্টদের বিবেচনায় নিতে হবে।

তবে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সহ-সভাপতি এম এ মোমেন বলেন, স্থানীয়ভাবে বিটুমিন উৎপাদনে প্রায় ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কর আরোপ দেশীয় শিল্প খাতের প্রতি চরম অন্যায়, অন্যায্য ও অযৌক্তিক। যে কোনো স্থানীয় শিল্পের মূলধনী কাঁচামাল আমদানিতে কর ৫ শতাংশের বেশি হতে পারে না। দেশীয় শিল্পমালিকরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছেন। সংকট উত্তরণে বিটুমিন উৎপাদন পর্যায়ে কর কমাতে হবে। এর সঙ্গে আমদানিকারকদের কারসাজি ও সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। এ নিয়ে সংসদেও কথা উঠেছে।  

জানা গেছে, বিপুল বিনিয়োগে গড়ে ওঠা দেশীয় বিটুমিন শিল্পে উৎপাদন পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কর বিদ্যমান থাকলেও আমদানিতে অনেক কম। বিটুমিন উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে অন্যায্যভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বিদ্যমান। অথচ পরিশোধিত বিটুমিন আমদানিতে ভ্যাট নেই। আমদানির বিটুমিন সরবরাহ পর্যায়ে যেখানে ভ্যাট মাত্র ৫ শতাংশ, সেখানে দেশীয় উৎপাদকের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাটের খড়গ রয়েছে। বিটুমিন উৎপাদনে প্রতি টনের কাঁচামাল আমদানিতে খরচ ৫৭০ ডলার হলেও আমদানিতে তা ২৬০ ডলার। এই বৈষম্যমূলক করকাঠামো বাতিল করে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন বাণিজ্য বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য ও রাজস্বনীতি বিশ্লেষক মনজুর আহমেদ বলেন, দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় মৌলিক কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ককর কমাতে হবে। বিটুমিন উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল পেট্রোলিয়াম অয়েলস অ্যান্ড অয়েলস অবটেইন্ড মিনারেলস, ক্রুুড আমদানিতে শুল্ককর বা সিডি ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা উচিত। আর ১৫ শতাংশ ভ্যাট যেহেতু আমদানিতে নেই, তাই উৎপাদনেও রাখা যাবে না। এর সঙ্গে আগাম কর বা এটি ৩ শতাংশ এবং অগ্রিম আয়কর বা এআইটি ২ শতাংশ বাতিল করতে হবে। কারণ এ ধরনের করকাঠামোর মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মনীতি ভঙ্গ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রীতিনীতিবিরুদ্ধ পদক্ষেপ।  ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, অগ্রিম আয়কর বা এআইটি দিয়ে ব্যবসার পরিচালন খরচ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। অগ্রিম ট্রেড ভ্যাট বা এটিভি আগে ছিল বাণিজ্যিক আমদানিতে। এখন কাঁচামাল আমদানিতে আগাম কর বা এটি আরোপ করা হয়েছে, যা প্রত্যাহার করা উচিত। তার মতে, যেখানে তৈরি পণ্য আমদানিতে ভ্যাট নেই, সেখানে উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অযৌক্তিক ও অন্যায়। দেশীয় বিটুমিন সরবরাহ পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাটও অপ্রত্যাশিত।  

এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় গুরুত্ব দিলেও কিছু সরকারি কর্মকর্তা সঠিকভাবে কাজ করেন না। শুধু বিটুমিন নয়, ২৬ শতাংশ কর দিয়ে কোনো দেশীয় শিল্প চলবে না। বিশ্বের কোনো দেশ নিজের দেশের শিল্প সুরক্ষা না দিয়ে এগোতে পারেনি। আমাদেরও বুঝতে হবে, শিল্প ছাড়া দেশের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হবে না। দেশীয় শিল্প উৎসাহিত না হলে দেশ এগোবে না। ’ 

দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) সাবেক সভাপতি ও কর-বিশ্লেষক হুমায়ুন কবির বলেন, দেশীয় শিল্প খাতের উন্নয়নে সরকার-ঘোষিত নীতিমালায় শিল্পের সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিটুমিনে ২৬ শতাংশ কর দিয়ে শিল্প সুরক্ষা হয় না। দেশীয় নতুন শিল্প খাতে সুরক্ষা দরকার। নইলে বিটুমিন শিল্প দাঁড়াতে পাড়বে না। সরকারের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা একটি গোষ্ঠী শিল্প উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে কিনা তা খুঁজে দেখা দরকার। কারণ দেশীয় শিল্প সুরক্ষা হচ্ছে না, যা সরকার-ঘোষিত শিল্প-সংক্রান্ত নীতিমালা পরিপন্থি। সরকারের উচিত হবে ঘোষিত নীতিমালা ভঙ্গকারীদের খতিয়ে দেখা। দেশে নিম্নমানের বিটুমিন আমদানি নিয়ে সংসদে ২৯ জুন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হারুনুর রশিদ।  

তিনি ভুয়া সনদ নিয়ে নিম্নমানের বিটুমিন আমদানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।  

এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘রাস্তায় বিটুমিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক মাস ধরে পত্রপত্রিকায় নিউজ হচ্ছে। ভুয়া সনদ নিয়ে দেশে নিম্নমানের বিটুমিন আমদানি করা হচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি, এ বিষয়টি দেখা উচিত। তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভুয়া সনদ নিয়ে জাহাজ থেকে নিম্নমানের বিটুমিন খালাস করা হচ্ছে। কারা এই নিম্নমানের বিটুমিন আনছে? এর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। ’

তথ্যমতে, দেশে এখন ব্যাপক দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রথম শর্ত যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন। সড়কব্যবস্থা প্রধান যোগাযোগমাধ্যম। টেকসই সড়ক নির্মাণের মূল উপাদান হলো- ভালো মানের বিটুমিন। দেশে বিটুমিনের বার্ষিক চাহিদা প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টন, যা অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবছরই বাড়ছে।

জানা গেছে, বিটুমিন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সড়ক নির্মাণ, বিমানবন্দরের রানওয়ে নির্মাণসহ ফুটপাথ তৈরির কাজে ব্যবহার হয়। এছাড়া নহর তৈরিতে বা ট্যাঙ্কের ভেতর প্রলেপ হিসেবে, নদী বা সমুদ্রের কিনারে তটরক্ষক হিসেবে ও নৌকার তলদেশে প্রলেপরূপে বিটুমিন ব্যবহৃত হয়। ভারী শিল্পেও এর ব্যবহার হয়। এটি বিদ্যুৎরোধকের কাজেও যুক্ত করা হয়। ইনসুলেটিং টেপ, জলরোধী কাপড় ইত্যাদি কাজেও ব্যবহার হয় বিটুমিন। বার্নিশ, অয়েল পেইন্ট, রাবার এনামেলের বিকল্প ও  কোল্ড স্টোরেজ, ইলেকট্রনিক ব্যাটারি, রেফ্রিজারেটর ইত্যাদি  তৈরির কাজেও বিটুমিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে।  

জানা গেছে, বিটুমিন উৎপাদনে প্রধান কাঁচামাল পেট্রোলিয়াম অয়েলস অ্যান্ড অয়েলস অবটেইন্ড মিনারেলস, ক্রুড, যার এইচএস কোড ২৭০৯.০০.০০। এই কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ককর বা সিডি ৫ শতাংশ, ভ্যাট ১৫ শতাংশ, আগাম কর বা এটি ৩ শতাংশ এবং অগ্রিম আয়কর বা এআইটি ২ শতাংশ। এই করকাঠামো পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৫ শতাংশ সিডিসহ  মোট আমদানি শুল্ক দাঁড়িয়েছে ২৬ শতাংশ। এ ছাড়া প্রতি ব্যারেলের ট্যারিফ মূল্য ৪০ ডলার নির্ধারিত আছে। অন্যদিকে দেশে এইচএস কোড ২৭১৩.২০.১০ এবং ২৭১৩.২০.৯০ এর মাধ্যমে ফিনিশড বা তৈরি বিটুমিন আমদানি হয়ে থাকে। ড্রামে বিটুমিন আমদানিতে প্রতি টনের শুল্ককর নির্ধারিত আছে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। এর সঙ্গে অগ্রিম আয়কর বা এআইটি ২ শতাংশ এবং আগাম কর বা এটি ৫ শতাংশ।  

অন্যদিকে বিটুমিন নামে যদি কেউ বাল্ক আকারে আমদানি করে, সেক্ষেত্রে প্রতি টনে ৩ হাজার ৫০০ টাকা আমদানি শুল্ক নির্ধারিত রয়েছে। এর সঙ্গে এআইটি ২ শতাংশ এবং এটি ৩ শতাংশ প্রযোজ্য।  

এ প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, বিটুমিন আমদানির চেয়ে উৎপাদনে বাড়তি কর আরোপ দেশীয় শিল্পের স্বার্থবিরোধী। সরকারের শিল্প সুরক্ষা নীতিরও পরিপন্থী। দেশীয় শিল্পের সঙ্গে এই বৈষম্যমূলক করকাঠামো যথাযথ কর্তৃপক্ষের সংশোধন করা উচিত। কারণ শিল্পের সংরক্ষণ ও সুরক্ষার দায়িত্ব সরকারের।

এদিকে সারা দেশের ফিনিশড বা তৈরি বিটুমিন আমদানিতে মূল্য ঘোষণায় কারসাজির তথ্য পাওয়া গেছে।  

কাস্টমস সূত্র বলছে, অসাধু আমদানিকারকরা আন্ডার ইনভয়েসিং বা দাম কম দেখিয়ে প্রতিদিন বিটুমিনভর্তি হাজার হাজার ড্রাম খালাস করেন। ফলে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে শুল্ক ফাঁকি। বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। রাস্তা নির্মাণে ব্যবহৃত বিটুমিন আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা থামছে না। ভেজাল বিটুমিন আসছেই। নীরব কাস্টমস। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আসছে বিটুমিন। কার্যত বিটুমিন আমদানির পুরো প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ। বিএসটিআই, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও বুয়েটের অনুমোদন ছাড়াই বিটুমিন আসছে দেশে। আর চট্টগ্রাম বন্দরের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে সেগুলো ছাড়পত্রও পেয়ে যাচ্ছে।  

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি ও বিটুমিন আমদানিকারক মাহবুব আলম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারদর দেখে কাস্টমসকে বিটুমিনের শুল্কায়ন করতে হবে। আন্ডার ইনভয়েসিং বন্ধে কাস্টমসের নজরদারি রাখতে হবে। দেশে যেহেতু উন্নত মানের বিটুমিন উৎপাদন হচ্ছে, তাই আমদানি নিরুৎসাহিত করতে হবে।  

জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে বিটুমিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান না থাকায় বিটুমিনাস ক্রুডের চেয়ে পরিশোধিত বিটুমিনের আমদানি শুল্ক কম রাখা হয় কেবল স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে। কিন্তু বর্তমানে গুণগত মানসম্পন্ন বিটুমিন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা বিবেচনায় আমদানি শুল্ক কাঠামো স্থানীয় শিল্পবান্ধব করে পুনরায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে দেশীয় শিল্প রক্ষায় এ ধরনের নীতি সবারই অনুসরণ করা উচিত।  

এদিকে আমদানি হওয়া ফিনিশড বিটুমিন এবং দেশীয় উৎপাদিত বিটুমিনের স্থানীয় সরবরাহ পর্যায়ের বৈষম্যমূলক চিত্রের দেখা মিলেছে। জানা গেছে, ড্রাম ও অন্যান্য বিটুমিন আমদানিতে কোনো অগ্রিম ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) পরিশোধ করতে হয় না। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট পণ্যসমূহ ‘মূল্য সংযোজন কর’ অব্যাহতিপ্রাপ্ত। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর তৃতীয় তফসিল টেবিল-১ অনুযায়ী, বাল্ক বিটুমিন আমদানিতে স্থানীয়ভাবে সরবরাহের ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ। পক্ষান্তরে স্থানীয়ভাবে বিটুমিন উৎপাদনে কাঁচামাল আমদানিতে ১৫ শতাংশ অগ্রিম ভ্যাট প্রযোজ্য, যা সরবরাহ পর্যায়ে সমন্বয়যোগ্য। অর্থাৎ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিটুমিনে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপিত। ফলে আমদানি হওয়া বিটুমিনের তুলনায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিটুমিনের উৎপাদন খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেশি হবে এবং বাজারে অসম প্রতিযোগিতার কারণে কোনোভাবে দেশীয় বিটুমিন উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারবে না।  

জানা গেছে, দেশীয় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত বিটুমিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও শুধু ন্যূনতম শুল্ক ও ভ্যাট বিদ্যমান থাকায় কিছুসংখ্যক আমদানিকারক স্থানীয় বাজারে তা সরবরাহ করছেন। ফলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের উৎপাদিত পণ্যের বিপণন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পেরে লোকসান গুনছে। এতে করে আমদানি খাতে দেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার অপচয়ের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর খাতে রাজস্ব আয় বিঘ্নিত হচ্ছে। এ অবস্থা দীর্ঘমেয়াদি চলতে থাকলে দেশীয় বিটুমিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেকসই উন্নয়ন ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার স্থায়িত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে প্রথম বিটুমিন অ্যাসফল্ট প্লান্ট স্থাপন হয়েছে, যা দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানিতেও সক্ষম। ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী দেশীয় সিমেন্টশিল্পের গুরুত্ব অনুধাবন করে বাল্ক সিমেন্ট আমদানির ওপর ৩০০ শতাংশ ডিউটি আরোপ করে সিমেন্টশিল্পকে রক্ষা করেছেন। ঠিক তেমনিভাবে নিম্নমানের বিটুমিন আমদানির ওপর উচ্চ হারে আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য কর আরোপ হবে দেশীয় প্রিমিয়াম মানের বিটুমিন উৎপাদিত শিল্পকে বিকশিত করার অন্যতম পদক্ষেপ।

সৌজন্য: বাংলাদেশ প্রতিদিন

বাংলাদেশ সময়: ১০৪৮ ঘণ্টা, জুলাই ০১, ২০২১
এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa