ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ কার্তিক ১৪২৮, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতীয়

দেশের দুর্যোগ সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শুনলো ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০২৪৬ ঘণ্টা, জুলাই ১, ২০২১
দেশের দুর্যোগ সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শুনলো ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন

ঢাকা: ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল)-এ দুর্যোগ সতর্কীকরণ গবেষণা কেন্দ্রের (ওয়ার্নিং রিসার্চ সেন্টার) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা সমাদৃত হয়েছে।  

বুধবার (৩০ জুন) রাতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ভার্চ্যুয়ালি এই কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

 

আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করায় এই অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীনকে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায় মন্ত্রণালয়।

সচিব মোহসীন তার উপস্থাপনায় বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ত্রাণ নির্ভর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে দুর্যোগঝুঁকি হ্রাসমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আগাম সতর্কবার্তা প্রচার ব্যবস্থা শুরু করেন। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন ও সম্পদ বাঁচাতে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রচারে সিপিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে সিপিপি’র যাত্রা শুরু করেছিলেন যারা আগাম সতর্ক সংকেত প্রচার এবং সন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের জানমাল রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা রেখে আসছে। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক সংখ্যা ৭৬ হাজার ২০ জনে উন্নীত হয়েছে। এই স্বেচ্ছাসেবকদের ৫০ শতাংশ নারী।  

তিনি আরও বলেন, দেশজুড়ে আধুনিক আবহাওয়ার রাডার এবং পূর্বাভাস ব্যবস্থা রয়েছে। উপকূলে ৫ হাজারের বেশি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

দুর্যোগে প্রাণহানির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ১০ লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বে সাম্প্রতিক কালে একই মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি একক সংখ্যায় নেমে এসেছে।

দুর্যোগ সতর্কীকরণ গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. কারিনা ফার্নলি, উপ-পরিচালক অধ্যাপক ইলান কেলমান, ইউসিএল সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডিজাস্টারের পরিচালক অধ্যাপক মওরিন ফর্ডহ্যাম এবং লিভারপুল হোপ ইউনিভার্সিটির আর্লি ওয়ার্নিং বিশেষজ্ঞ এলিস বেনেটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ড. কারিনা ফার্নলি বাংলাদেশের দুর্যোগ সতর্কীকরণ ব্যবস্থার সাফল্যের কারণ হিসেবে কার্যকর নীতি ও সব প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদে সমৃদ্ধ সতর্কীকরণ কেন্দ্র, মানবতার সেবায় বলীয়ান প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক, পর্যাপ্ত সংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র ও সমাজের সকলকে সম্পৃক্ত করে কাজ করার নীতির বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ও অনুসরণীয় বলেও মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক মওরিন ফর্ডহ্যাম বলেন, দুর্যোগঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সব পর্যায়ে নারীর নেতৃত্ব বিকাশের পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি। বাংলাদেশের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় নারীর নেতৃত্ব বিশেষভাবে প্রশংসার যোগ্য।

আর্লি ওয়ার্নিং বিশেষজ্ঞ এলিস বেনেট বলেন, বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবকের অংশগ্রহণের কারণে বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি একটি বিরল উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এই প্রক্রিয়ায় দুর্যোগপ্রবণ দেশসমূহ তাদের দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।

বাংলাদেশ সময়: ০২৪৬ ঘণ্টা, জুলাই ০১, ২০২১
এমআইএইচ/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa