ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৮ জিলহজ ১৪৪২

জাতীয়

জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজেই পানিতে নামলেন মেয়র শরীফ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮১৪ ঘণ্টা, জুন ১৯, ২০২১
জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজেই পানিতে নামলেন মেয়র শরীফ

পাবনা: নিম্নচাপের কারণে দেশব্যাপী বয়ে চলা বৃষ্টিতে পাবনা পৌর এলাকার অনেক অঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আর এই জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বিভিন্ন অঞ্চলে স্বশরীরে উপস্থিত হচ্ছেন পাবনার পৌর মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধান।

গত দুইদিন থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি শুক্রবার (১৮ জুন) রাতে ব্যাপক ভারী বর্ষণে রূপ নেয়। এই অতিবৃষ্টির কারণে জেলা শহর পাবনার পৌর এলাকার বেশকিছু নিচু অঞ্চলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ড্রেনের মুখ বন্ধ ও পানি নিষ্কাসনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় শহরের অনেক বাড়ি ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়েছে বৃষ্টির পানি। পুরাতন জেলা শহরের পৌরসভায় অপরিকল্পিত নগরায়ণরে জন্য এই পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন পৌরবাসী।

এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য এই বর্ষার আগে থেকেই দিনরাত কাজ করেছিলো পাবনা পৌরসভার কর্মচারীরা। কিন্তু অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা আর ড্রেনগুলোর পানি ধারণ ক্ষমতা কম হওয়ার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে পৌর এলাকার বেশকিছু অঞ্চলে মানুষ। এদিকে পূর্বের মেয়র কামরুল হাসান মিন্টু থাকা কালীন গত বছর থেকে শুরু হওয়া পাবনা পৌরসভার উন্নয়ন কাজের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ছিলো বিভিন্ন নিচু অঞ্চলের রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে ঠিক করা। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা ও ড্রেন করার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পৌর এলাকার কয়েক হাজার মানুষের বসবাসকৃত ঘড়বাড়ি। উন্নয়নের নামে রাস্তা উঁচু করলেও ড্রেনগুলোকে গভীর না করে লোক দেখানো কাজ করেছে বলে মনে করছে পৌরবাসী।  

এই বর্ষায় বৃষ্টির পানি ড্রেন উপচে মানুষের বসবাড়িতে প্রবশে করছে। আবার রাস্তা উঁচু হওয়ার কারণে বসত বাড়িগুলো নিচু হয়ে গেছে। এখন একটু বৃষ্টি হলেই বাড়ির আঙ্গিনায় জমে থাকছে পানি। পানি জমে থাকার কারণে বসবাসকৃত অনেক ভবন এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আর এ কারণে ক্ষতির সম্মুখীন পৌর এলাকার কয়েক হাজার মানুষের বসবাসকৃত বাড়ি ঘর। তাই এই জনদুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ চায় পৌরবাসী।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া আফিসের কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন ঢাকা আবহাওয়া অফিসের বরাত দিয়ে বলেন, এ বছরে পাবনা অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯১.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে যা এ বছরের সবোর্চ্চ বৃষ্টিপাত বলা য়ায়। আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া বৈরী থাকবে আকাশ মেঘাচ্ছন্নসহ বৃষ্টিপাত হবে। এটি সুমদ্র নিন্মচাপের কারণে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়ে কথা হয় পৌর মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধানের সঙ্গে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, পৌর এলাকার বিসিক শিল্পনগরীর বেশকিছু অঞ্চল, শালগাড়িয় মহল্লর কিছু অংশ ও আরিফপুর অঞ্চলের কিছু অংশ বৃষ্টির পানির জন্য বেশ খারাপ অবস্থা হয়েছে। সকাল থেকে আমি যেসব অঞ্চলে খবর পেয়েছি নিজে সেসব অঞ্চলে গিয়ে পরিদর্শন করছি। আর কী করলে এ অবস্থা থেকে পৌরবাসী মুক্ত হবে তা চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে ভেকু দিয়ে ড্রেনগুলোর মুখে থাকা ময়লা আর্বজনা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যেসব স্থানে পানি আটকে আছে সেগুলোর মুখ কেটে দেওয়া হচ্ছে। বিগত দিনগুলিতে এই পৌরসভার যে উন্নয়ন কাজ হয়েছে সেটি পরিকল্পনা করে করা হয়নি। নতুন নতুন রাস্তা ও ড্রেনগুলো করা হয়েছে পরিকল্পনা ছাড়া। এই বৃষ্টির পানি ধারণ ক্ষমতা নেই এই ড্রেনগুলোর। ড্রেনগুলো গভীর করা হয়নি। তবে পরবর্তীকালে এই পৌরসভার সকল উন্নয়ন কাজ নগরপরিকল্পনাবিদ দিয়ে করা হবে। মানুষের এ দুর্ভোগ আর ক্ষতি যাতে না হয় সেজন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সকলে মিলে আমাকে সহযোগিতা করলে অবশ্যই আমি এই সমস্যার সমাধান করতে পারবো।

বাংলাদেশ সময়: ১৮০৭ ঘণ্টা, জুন ২০, ২০২১
এনটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa