ঢাকা, রবিবার, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮, ১৩ জুন ২০২১, ০২ জিলকদ ১৪৪২

জাতীয়

লালমনিরহাটে ই-জিপির পরিবর্তে ম্যানুয়েলে দরপত্র আহ্বান

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১০১ ঘণ্টা, মে ১৮, ২০২১
লালমনিরহাটে ই-জিপির পরিবর্তে ম্যানুয়েলে দরপত্র আহ্বান ...

লালমনিরহাট: লালমনিরহাটে ই-জিপির (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) পরিবর্তে ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বানের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন ই-জিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট)।

অথচ লালমনিরহাট এলজিইডি প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকার একটি কাজের দরপত্র আহ্বান করেছে ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে। যার অর্থায়ন করছে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি)। আর ম্যানুয়েল পদ্ধতির এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সমঝোতা, পেশিশক্তি বা টাকার বিনিময়ে কাজটি বাগিয়ে নিতে লালমনিরহাটে শুরু হয়েছে প্রভাবশালীদের দৌঁড়ঝাপ। এ দরপত্রকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টদের অনেকে।

লালমনিরহাট এলজিইডি সূত্র জানায়, ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ‘রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী গত ২৫ মার্চ দরপত্রটি ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে আহ্বান করেন। এতে কালীগঞ্জের সাতটি ও সদর উপজেলার একটি নিয়ে মোট আটটি গ্রামীণ রাস্তার উন্নয়ন কাজ একটি প্যাকেজেই রাখা হয়। যার দরপত্র মূল্য প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা। দরপত্র ক্রয়ের শেষ দিন বুধবার (১৯ মে)। আর একমাত্র এলজিইডি ভবনেই দরপত্র জমাদানের শেষ সময় বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা। ওই প্রকল্পের আওতায় কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এলজিইডিকে।

ঠিকাদারদের অনেকের অভিযোগ, মোটা অংকের কমিশনে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে এলজিইডি দরপত্রটি ই-জিপিতে আহবান না করে ম্যানুয়েল পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছে এবং দরপত্র জমাদানের সুযোগ রাখা হয়েছে শুধুমাত্র একটি জায়গায়। যদিও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করে দোহাই দিচ্ছে অর্থদাতা প্রতিষ্ঠানের ‘গাইডলাইনের’। এমন একটি লোভনীয় কাজের দরপত্র ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে আহ্বান অনেকটাই অস্বাভাবিক। আবার শুধু এক জায়গায় দরপত্র জমাদানের সুযোগ রাখাকেও তারা স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না। কারণ এর আগে বিভিন্ন ম্যানুয়েল পদ্ধতির দরপত্রেও একাধিক স্থানে দরপত্র জমাদানের সুযোগ ছিল।

তারা বলছেন, এ দরপত্রে আগের কাজের যে ‘অভিজ্ঞতা’ চাওয়া হয়েছে তাতে জেলার একটি লাইসেন্সেরও বিপরীতে দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। ফলে এতে অংশ নিতে জেলার বাইরের ‘ভারী’ লাইসেন্স সংগ্রহ করেছেন কেউ কেউ কিংবা দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জয়েন্ট ভেঞ্চারের (যৌথ উদ্যোগ) মাধ্যমে সিডিউল সংগ্রহ করেছেন। এতে বেশিরভাগ ঠিকাদার বঞ্চিত হচ্ছেন।  

দরপত্রে অংশ নিতে যাওয়া সাধারণ ঠিকাদাররা আশঙ্কা করছেন, ম্যানুয়েল পদ্ধতির কারণে ‘সমঝোতার’ মাধ্যমে প্রভাবশালীরা কাজটি বাগিয়ে নিতে পারেন। অথবা বাক্সে দরপত্র জমা দিতে বাধার সম্মুখীনও হতে পারেন। কোনোভাবে জমা দিতে পারলেও সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েও কৌশলে যাচাই বাছাইয়ে বাদ পড়ারও আশঙ্কা করছেন তারা।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য মতে, কাজটি বাগিয়ে নিতে জনপ্রতিনিধি, কালো তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ী, সরকারি ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দরপত্র জমাদানে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ আলী খান বলেন, ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিটিই ছিল ম্যানুয়েল পদ্ধতির মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বানের। এলজিইডির সব দরপত্র ই-জিপিতেই হয় কিন্তু এটা ব্যতিক্রম উল্লেখ করে দরপত্র বাক্স শুধুমাত্র এক জায়গায় রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা কাজটির জন্য টাকা দিয়েছে তারাই এটা চুক্তিতে মেনশন করে দিয়েছে। স্বচ্ছ দরপত্রের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে তিনি কোনো কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১১০০ ঘণ্টা, মে ১৮, ২০২১
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa