ঢাকা, শনিবার, ৫ আষাঢ় ১৪২৮, ১৯ জুন ২০২১, ০৮ জিলকদ ১৪৪২

জাতীয়

এসিল্যান্ডের নামে দলিল লেখকের ঘুষ নেয়ার অভিযোগ 

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৪৮ ঘণ্টা, মে ১৭, ২০২১
এসিল্যান্ডের নামে দলিল লেখকের ঘুষ নেয়ার অভিযোগ  রোমান আহমেদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নাম ভাঙিয়ে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রোমান আহমেদ নামে এক দলিল লেখকের বিরুদ্ধে।  

অভিযুক্ত ওই দলিল লেখকের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলার বগডহর গ্রামের অলি উল্লাহ নামে এক ব্যক্তি।

 

এর অনুলিপি দেওয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), জেলা রেজিস্ট্রার, সাব-রেজিস্ট্রার ও প্রেসক্লাবের সভাপতি-সেক্রেটারিকে।  

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার বগডহর গ্রামের দুই প্রবাসী সাইফুল্লাহ ও কেফায়েত উল্লাহ তিন মাস আগে প্রবাসে যাওয়ার প্রক্কালে উপজেলা সদরে তাদের তিন শতাংশ জায়গা খারিজ খতিয়ান (খতিয়ান নং-৫১৪১) করতে ভূমি অফিসে যান। তখন ভূমি অফিসে থাকা দলিল লেখক রোমান আহমেদ সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে খারিজ খতিয়ান করে দিতে পারবেন বলে জানান। এই কাজটি করতে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নগদ ১২ হাজার টাকা দিতে হবে বলে রোমান দাবি করেন। প্রবাসীদের বিদেশ যাওয়ার সময় সন্নিকটে হওয়ায় যাওয়ার প্রাক্কালে কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন বলে রোমানকে ১২ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা দেওয়ার এক সপ্তাহ পরও কাজ না হলে দলিল লেখক প্রবাসী সাইফুল্লাহকে বলেন এসিল্যান্ডকে আরও ৬ হাজার টাকা দিতে হবে। কোনো উপায় না দেখে দলিল লেখক রোমানের হাতে ৬ হাজার টাকা তুলে দিলে খারিজ খতিয়ানটি হয়ে যায়। আর দুই প্রবাসী সাইফুল্লাহ ও কেফায়েত উল্লাহ অভিযোগকারী অলি উল্লাহর আত্মীয় হওয়ায় সব লেনদেন তার সামনেই হয়। তাই তদন্ত করে অভিযুক্ত দলিল লেখক রোমান আহমেদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।  

ভুক্তভোগী প্রবাসী সাইফুল্লাহ বলেন, 'আমার কাছ থেকে এই খারিজ খতিয়ান করতে মোট ১৮ হাজার টাকা নিয়েছে দলিল লেখক রোমান আহমেদ। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী সে কাজ করে দিতে পারেননি। এতে আমার বিমানের টিকেটও পিছিয়ে দিতে হয়েছে। এছাড়াও প্রবাসে থাকা ব্যবসায় অনেক লোকসান হয়েছে’।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত দলিল লেখক রোমান আহমেদ বলেন, আমি এই খারিজ করি নাই। এসিল্যান্ড সাহেব আমার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। মনে হয়, তিনি এসিল্যান্ড সাহেবের থেকে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তাই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন’।

এই বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.  ইকবাল হাসান বলেন, 'অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত নই।  

নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একরামুল সিদ্দিক বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে'।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৬ ঘণ্টা, মে ১৭, ২০২১
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa