ঢাকা, বুধবার, ৩ আষাঢ় ১৪২৮, ১৬ জুন ২০২১, ০৫ জিলকদ ১৪৪২

জাতীয়

বিআরটি রুট হচ্ছে ফার্মগেট পর্যন্ত

মফিজুল সাদিক,  সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৩৭ ঘণ্টা, মে ৬, ২০২১
বিআরটি রুট হচ্ছে ফার্মগেট পর্যন্ত

ঢাকা: রাজধানী ঢাকার সঙ্গে গাজীপুরের সড়ক যোগাযোগ আধুনিক, দ্রুত এবং আরামদায়ক করতে চলছে এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) নির্মাণ কাজ। ‘গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট’ শীর্ষক এ প্রকল্পের কাজ বিস্তৃত করা হচ্ছে মহাখালী হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত।

প্রকল্পের কাজ চলমান। প্রকল্পের আওতায় পড়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫টি ফুট ওভারব্রিজ। এ কারণে এই রাস্তায় ফুট ওভার ব্রিজগুলোর উন্নয়ন, সংস্কার কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সংশোধিত ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) থেকে সেগুলোর উন্নয়ন কাজ বাদ দেওয়া হয়েছে।

তবে ২০১৭ সালে যখন 'ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উম্মুক্ত স্থানসমূহের আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সবুজায়ন' প্রকল্প হতে নেওয়া হয়, তখন বিআরটি রুটের পরিকল্পনা ফার্মগেট পর্যন্ত ছিল না। নতুন করে রুট সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) লেনে চলাচলকারী বাসগুলো নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া কোথাও থামবে না। গাজীপুর থেকে মহাখালী পর্যন্ত অংশ যুক্ত হওয়ার আগে কথা ছিল। এখন নতুন করে এই রুট ফার্মগেট পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। দুই প্রান্ত অর্থাৎ গাজীপুর ও বিমানবন্দর স্টেশনে থাকবে দু’টি মূল টার্মিনাল। আর মাঝপথে হবে ২৫টি স্টেশন। প্রতি দুই থেকে ৫ মিনিট পরপর স্টেশন থেকে বাস ছাড়বে। এ সার্ভিসে ভাড়া আদায় হবে স্মার্ট কার্ডে। তবে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশ যোগ হওয়ায় মূল টার্মিনালের একটি গাজীপুরে হলেও আরেকটি হবে ফার্মগেটে।

যানজট নিরসনে বিআরটি বিশ্বব্যাপী একটি স্বীকৃত ব্যবস্থা। বিআরটি লাইসেন্স ছাড়া এ রুটে কেউ বাস চালালে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে আইনে। এ ছাড়া আইনের কোনো বিধান কেউ লঙ্ঘন করলে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়ার বিধানও রয়েছে।
 
চলমান বিআরটি রুট সম্প্রসারণের প্রভাব পড়ছে ‘ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোৱেশনের উম্মুক্ত স্থানসমূহের আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সবুজায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পে। ফলে প্রকল্পে সংশোধন করা হচ্ছে।  

উড়ালসড়ক ও বিআরটি রুট সম্প্রসারণের ফলে মূলত ১৫টি ফ্লাইওভার থাকবে না। এই কারণে এগুলোর সৌন্দর্য বর্ধন করে টাকা অপচয় করতে চায় না ডিএসসিসি।

প্রকল্পের পরিচালক ড. তারিক বিন ইউসুফ বাংলানিউজকে বলেন, নতুন করে সিদ্ধান্ত হচ্ছে গাজীপুর থেকে বিআরটি রুট ফার্মগেট পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। আমার প্রকল্প এলাকা আব্দুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত এই পরিকল্পনার আওতায় পড়বে। এই রুটে ১৫টি ফুট ওভারব্রিজ পড়েছে। সেগুলো ভাঙা পড়তে পারে। তাই প্রকল্প থেকে সেগুলোর সৌন্দর্যবর্ধন কাজ বাদ দেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রায় ২০ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।

প্রকল্পটি ২৭৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে জানুয়ারি ২০১৭ হতে জুন ২০১৯ পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ জুন ২০২০ পর্যন্ত ১ (এক) বছর মেয়াদ বৃদ্ধি করে।

প্রকল্পটির মেয়াদ ১ বছর অর্থাৎ জুন ২০২১ পর্যন্ত বৃদ্ধিসহ মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ২৫৯ কোটি টাকা (সম্পূর্ণ জিওবি)।

১ম সংশোধনী প্রস্তাবে মূল অনুমোদিত প্রকল্প অপেক্ষা মোট ২০ কোটি টাকা অর্থাৎ ৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ ব্যয় কমছে। কারণ ১৫টি ফুট ওভারব্রিজের সৌন্দর্য বর্ধন করা হচ্ছে না।  

ডিএনসিসি জানায়, নানা কারণে প্রকল্পের কাজ সংশোধন করা হচ্ছে। নানা পদ্ধতি অনুসরণে কনসালট্যান্ট নিয়োগ করতে প্রায় ৬ মাস সময় অতিবাহিত হয়। প্রতিটি সাইটে ক্লাব ঘর, মাদরাসার রান্নাঘরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়সহ অন্যান্য স্থাপনা থাকায় ঠিকাদারকে নির্ধারিত সময়ে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। পার্কের ডিজাইনে কিছু খাত সন্নিবেশিত হওয়ায় আইটেম আমদানী করতে ঠিকাদারের অতিরিক্ত সময়ের দরকার হয়। এছাড়া চলমান করোনা মহামারির কারণে কাজে ব্যাঘাত ঘটেছে। অনুমোদিত ডিপিপির সংস্থান অনুযায়ী ২৬টি পার্কের মধ্যে বারিধারা নার্সারি পার্কটি বারিধারা সোসাইটি কর্তৃক উন্নয়ন/ব্যবস্থাপনা করায়, ফার্মগেট আনোয়ারা উদ্যান মেট্রোরেল প্রকল্পের ইয়ার্ড স্থাপনের কারণে, ফার্মগেট ত্রিকোণ পার্ক মেট্রোরেল প্রকল্পের কারণে এবং মিরপুর গুদারাঘাট পার্কটির মালিকানা জটিলতায় উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিধায় উক্ত ৪টি পার্ক বাদ দেওয়া হয়েছে।  

৪টি পশু কসাইখানা নির্মাণ, উন্নয়নের মধ্যে মিরপুরে বিদ্যমান পশু জবাইখানাটি অত্যন্ত স্বল্প জায়গা নিয়ে অবস্থিত, যা একটি বেসরকারি সংস্থা কর্তৃক উন্নয়ন করা হয়েছে। আশেপাশে জায়গা না থাকায় বৃহৎ পরিসরে উন্নয়ন করা সম্ভব নয় বিধায় সংশোধিত ডিপিপি থেকে উক্ত কসাইখানাটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ৪টি কবরস্থানের মধ্যে ২টি (উত্তরা সেক্টর ১২ এবং উত্তরা সেক্টর ১৪) করস্থান ডিএনসিসির নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন করা হয়েছে, ২টি কবরস্থানের উন্নয়ন কাজ বাদ দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ৯টি পার্ক দ্রুত সময়ে উদ্বোধন করা সম্ভব হবে। অবশিষ্ট পার্ক ও খেলার মাঠ, পাবলিক টয়লেট ২০২১ এর মধ্যে সমাপ্ত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে কসাইখানা নির্মাণের জন্য সময় বেশি লাগবে।

ডিএনসিসির জানায়, প্রকল্পের আওতায় ১৮টি পার্ক ও ৪টি খেলার মাঠ উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পার্কগুলোতে ওয়াকওয়ে, ব্যায়ামাগার, সাইকেল লেন, শিশুদের জন্য প্লেইং জোন, পাবলিক টয়লেট ইত্যাদি সুবিধাদি রয়েছে। এসব পার্কে মহিলাদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে । এ সকল পার্ক ও খেলার মাঠ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ সবলভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৩০ ঘণ্টা, মে ০৬, ২০২১ 
এমআইএস/নিউজ ডেস্ক

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa