ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮, ১৫ জুন ২০২১, ০৪ জিলকদ ১৪৪২

জাতীয়

পরিবহন শ্রমিকদের মাস্ক থুতনিতে !

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২০২ ঘণ্টা, মে ৬, ২০২১
পরিবহন শ্রমিকদের মাস্ক থুতনিতে ! পরিবহন শ্রমিকদের অনেকেই মাস্ক ব্যবহারে উদাসীন, ছবি: জিএম মুজিবুর রহমান

ঢাকা: সরকার ঘোষিত বিধি-নিষেধের মধ্যে ২২ দিন পরে রাজধানীর সড়কে চলতে শুরু করেছে গণপরিবহন।  

অর্ধেক যাত্রী আর বর্ধিত ভাড়া নিয়ে বৃহস্পতিবার (৬ মে) ভোর থেকে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে।

চতুর্থ দফার কঠোর নিষেধাজ্ঞায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালু হলেও বেশিরভাগ পরিবহন শ্রমিকদের থুতনির নিচে থেকে যাচ্ছে মাস্ক। হরেক রকম অজুহাতে বেশিরভাগ চালক ও কন্ডাক্টর মুখ ডাকছেন না মাস্ক দিয়ে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর সড়কে এমন চিত্র দেখা যায়।  

সরজমিনে দেখা যায়, পরিবহন সংশ্লিষ্ট মোটরযান চালক, অন্যান্য শ্রমিক কর্মচারী ও যাত্রীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের কথা থাকলেও, বেশিরভাগ পরিবহনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। যাত্রীরা মাস্ক পরলেও 
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা সঠিকভাবে পড়ছে না মাস্ক। তাদের থুতনির নিচে থেকে যাচ্ছে মাস্ক। বেশিরভাগ পরিবহনে পাশের সিট ফাঁকা রেখে যাত্রীরা যাচ্ছেন। দুই-একটি সিটে পাশাপাশি বসে যাতায়াত করতে দেখা গেছে যাত্রীদের।  

বিহঙ্গ পরিবহনের কন্ডাক্টর মো. জসিম। থুতনির নিচে নামিয়ে রেখেছিলেন মাস্ক। কেন মাস্ক ঠিকভাবে পড়েননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতক্ষণ মাস্ক পড়েছিলাম। মাত্র একটু নাক থেকে নামিয়েছি। শ্বাস নিতে একটু সমস্যা হচ্ছিল তাই।

তিনি আরো বলেন, সকালে বাস রাস্তায় নিয়ে নামার আগে পুরো বাসের সিটে জীবাণুনাশক স্প্রে করেছি। পাশাপাশি দুই সিটের একটিতে যাত্রী নিয়ে অন্যটি ফাঁকা রেখে বাস চালানো হচ্ছে। কেউ দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন না। যাত্রীদের মাস্ক না থাকলে বাসে যাতায়াত করতে দিচ্ছি না।

পরিস্থান পরিবহনের চালক মোবারক ঠিকভাবে মাস্ক পরেননি। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, অনেকক্ষণ মাস্ক পড়েছিলাম। মাত্রই নামিয়েছি। আমি এখন পান খাচ্ছি বলে মাস্ক নাক থেকে নামিয়ে রেখেছি।  

বাসযাত্রী বেসরকারি কর্মকর্তা আসলাম হোসেন বলেন, করোনা কি শুধুমাত্র গণপরিবহন থেকেই ছড়ায়? অন্যভাবে কি ছড়ায় না, অফিস-আদালত সব কিছুই তো খোলা। সামনে ঈদ। মানুষজন ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাবে, বাবা-মা, পরিবারের সঙ্গে দেখা করবে এটাই স্বাভাবিক। অথচ কেউ এবার বাড়িতেও যেতে পারবে না। করোনার অজুহাত দিয়ে দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। আসলে রাজনৈতিক কারণে দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। আর এর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে।

এর আগে, দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ২১ মার্চ থেকে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয় সরকার। দুই মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর গেল বছরের ১ জুন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্ত সাপেক্ষে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার। তখন ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়।  

দীর্ঘদিন চলার পর করোনা সংক্রমণ একটু কমে এলে গত সেপ্টেম্বর মাসে শতভাগ আসনে যাত্রী নিয়ে চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার। তখন থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত শতভাগ আসনেই যাত্রী নিয়ে চলছিল গণপরিবহন।

পরে গত ৩১ মার্চ থেকে ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়ায় অর্ধেক যাত্রী নিয়ে শুরু হয় গণপরিবহন চলাচল। এরপর বিধি-নিষেধের কারণে গত ৫ ও ৬ এপ্রিল বন্ধ থাকে গণপরিবহন চলাচল। অফিস খোলা রেখে গণপরিবহন বন্ধ রাখার তীব্র সমালোচনার মুখে ৭ এপ্রিল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবারও গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়। এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে জারি করা কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ৫ মে পর্যন্ত বন্ধ ছিল গণপরিবহন চলাচল।

বাংলাদেশ সময়: ১১৫২ ঘণ্টা, মে ৬, ২০২১
এমএমআই/এসআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa