ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮, ১৮ মে ২০২১, ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

জাতীয়

বাইক্কা বিলের গভীরতা কমেছে

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন, ডিভিশনাল সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৯২৭ ঘণ্টা, মে ৫, ২০২১
বাইক্কা বিলের গভীরতা কমেছে

মৌলভীবাজার: বাংলাদেশের জলাভূমি সম্পদ পৃথিবীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের একটি। হাইল হাওর বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়গুলোর একটি।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সম্পদ।

এই হাইল হাওরের পূর্বদিকে প্রায় ১৭০ হেক্টর আয়তনের এক জলাভূমির নাম বাইক্কা বিল। একটি বিশদ পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে ২০০৩ সালের ১ জুলাই ভূমি মন্ত্রণালয় এই বিলটিকে একটি স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রম হিসেবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়। সেসময় থেকেই বিলটিকে মাছের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য, মৎস্য, কৃষি, পর্যটনসহ নানা ক্ষেত্রে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এখন বাইক্কা বিল।

বড়গাঙ্গিনা সম্পদ সংরক্ষণ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মিন্নত আলী বলেন, বাইক্কা বিল জলভূমির কল্যাণে আইড়, ফলি, মেনি, পাবদাসহ অনেক বিলুপ্ত ফিরে এসেছে। বিপন্ন প্রজাতির বড় চিতল মাছও দেখা যায় এখানে।  

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশের বহু বিলুপ্তপ্রায় মিঠাপানির মাছ এই বিলের প্রজননের সুবিধা পেয়ে হারিয়ে যাওয়া থাকে রক্ষা পেয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পুরো হাইল হাওরের পানি কমে গেছে নানা প্রজাতির মাছ এসে এই বাইক্কা বিলে আশ্রয় নেয় এবং ডিম ছাড়ে। এই ডিম থেকে জন্মানো নানা প্রজাতির পোনা বর্ষাকালে পুরো হাইল হাওরে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে স্থানীয়ভাবে জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে এটি দারুণভাবে অবদান রেখে চলেছে।

এই বাইক্কা বিল কেবলমাত্র মাছেই নয়, নানা প্রজাতির আবাসিক ও পরিযায়ী পাখি এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণীর অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির ফলে ‘বড়গাঙ্গিনা সম্পদ সংরক্ষণ সংগঠন’ এই বাইক্কা বিল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপালন করছে।  

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বাইক্কা বিলের গভীরতা কমে গেছে। স্বাভাবিক নাব্যতা হারিয়ে যাওয়ার ফলে এর জলজ জীববৈচিত্র্য কিছুটা সমস্যায় জর্জরিত হচ্ছে।  

জানা যায়, সম্প্রতি মৎস্য অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বাইক্কা বিল সরেজমিন পরিদর্শনে এসে বিলের গভীরতা কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

বাইক্কা বিলের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফারাজুল কবির বাংলানিউজকে বলেন, বড়গাঙ্গিনা সম্পদ সংরক্ষণ সংগঠন নামে স্থানীয় একটি দলের মাধ্যমে বাইক্কা বিলকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। গুরুত্বতার ভিত্তি করে বাইক্কা বিলে ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত গার্ড থাকে আট জন করে। এরা চুক্তিভিত্তিক নিযোগপ্রাপ্ত। এদের বর্তমান বেতন আট হাজার টাকা। বছরের অন্য মাসগুলোতে গার্ড থাকে দুই জন।  বাইক্কা বিলের নিরাপত্তাকর্মীদের সংখ্যা, তাদের মাসিক বেতনের পরিমাণসহ বেতনের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা বলেন, বাইক্কা বিল মৎস্য অভয়াশ্রমটি পরিচালনার জন্য ১ কোটি ৪৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা ব্যাংকে জমা রয়েছে। এখান থেকে বছরে ৮ লাখ ৬১ হাজার ৯০০ টাকা সুদ আসে। তার মধ্যে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৮৫ টাকা ব্যাংক কেটে নেয়। অবশিষ্ট ৭ লাখ ৩২ হাজার ৬১৫ টাকা বাইক্কা বিলের গার্ডদের বেতন, বাইক্কা বিল ব্যবস্থাপনাসহ নানা কাজে ব্যয় হয়। বাইক্কা বিলের গার্ডদের বেতনই আসে বছরে ৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।

ফারাজুল বাংলানিউজকে আরও বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ফিল্ড সার্ভিস) মমিনুল হক সম্প্রতি বাইক্কা বিল পরিদর্শনে এসে খননের বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেন। তিনি তার মন্তব্য খাতায় উল্লেখ করেন, খনন প্রকল্পের আওতায় কূপ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

যন্ত্রচালিত খনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাইক্কা বিলের প্রাণসঞ্চারের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ সময়: ০৯২৬ ঘণ্টা, মে ০৫, ২০২১
বিবিবি/এমআরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa