ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮, ১৩ মে ২০২১, ০০ শাওয়াল ১৪৪২

জাতীয়

নিস্তরঙ্গ সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল

দীপন নন্দী, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭২৭ ঘণ্টা, মে ৪, ২০২১
নিস্তরঙ্গ সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ছবি: বাদল

ঢাকা: জনশূন্য অবস্থায় খাঁ খাঁ করছে পন্টুন। বুড়িগঙ্গার কুচকুচে কালো পানিতে খেলছে হালকা ঢেউ।

তার মধ্যেই অলস বসে আছে ৬০ থেকে ৭০টি লঞ্চ।

লকডাউনের আদলে চলমান কঠোর নিষেধাজ্ঞায় রাজধানীর চিরচেনা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের দৃশ্যপট এমন। দিনরাত লঞ্চের হুইসেলের বদলে নেমে এসেছে অসীম নীরবতা।

মঙ্গলবার (৪ মে) সরেজমিনে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে এ দৃশ্য নজরে পড়ে। আর লঞ্চের শ্রমিকদের বক্তব্য তারা অনাহারে, অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে বিপাকে রয়েছেন লঞ্চ মালিকরা। তাদের দাবি, এই কঠোর নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতির পরিমাণ ঠেকেছে দুই হাজার কোটি টাকায়।

ক্ষতি দুই হাজার কোটি টাকা
সরকারঘোষিত চলমান কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে গত ৫ এপ্রিল থেকে বন্ধ রয়েছে লঞ্চ চলাচল। বর্তমানে ছোট বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক লঞ্চ কোম্পানি রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় আট থেকে দশ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে লঞ্চ মালিকদের। সে হিসেবে চলমান নিষেধাজ্ঞায় দুই হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন লঞ্চ মালিকরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম ভূইয়া বাংলানিউজকে বলেন, লঞ্চ মালিকরা খুবই বিপদে আছেন। ব্যাংক ঋণ করে, জমি বেচে তারা লঞ্চের ব্যবসায় নেমেছেন। কিন্তু এই লকডাউনে তাদের অবস্থা খুবই খারাপ।

তিনি বলেন, আমাদের ছোট-বড় মিলিয়ে দুইশ লঞ্চ কোম্পানি আছে। যাদের প্রতিদিন আট থেকে দশ কোটি টাকা করে ক্ষতি হচ্ছে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের বেতন কীভাবে দেবো তা নিয়ে চিন্তায় আছি।

অনাহারে, অর্ধাহারে লঞ্চ শ্রমিকরা
লঞ্চ মালিকদের এই করুণ দশার ছোঁয়া লেগেছে শ্রমিকদের উপরেও। লঞ্চের মাস্টার থেকে লস্কর— সবাই এখন রয়েছেন বিপদে।

মঙ্গলবার সুন্দরবন-১১ লঞ্চের কর্মচারী কাসেম বলেন, গতবারও আমরা খুব খারাপ অবস্থায় ছিলাম। এবারো খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি।

সুরভী-৮ লঞ্চের কর্মচারী হাসেম বলেন, অনেক কষ্টে কাটছে আমাদের দিন। লঞ্চ না চললে আমরা খাইতেও পারি না ঠিকমতো। লঞ্চ খুলে দিক, সেটাই আমাদের দাবি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ভূঁইয়া বাংলানিউজকে বলেন, সারাদেশে সবকিছু চলছে। বন্ধ খালি লঞ্চ আর বাস। এতে খুব খারাপ অবস্থায় আছেন শ্রমিকরা। মালিকরা টাকা দিলে শ্রমিকরা খেতে পারে। না দিলে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে।

লঞ্চ চলাচলের বিষয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বাংলানিউকে বলেন, করোনার এ সময়ে এককভাবে মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সরকারের একটি পরামর্শক কমিটি রয়েছে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সরকার সিদ্ধান্ত নেয়। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নৌযান বন্ধের। সুতরাং, আমরা সে নির্দেশনাই মেনে চলছি।

বাংলাদেশ সময়: ১৭১৮ ঘণ্টা, মে ০৪, ২০২১
ডিএন/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa