ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ বৈশাখ ১৪২৮, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০২ রমজান ১৪৪২

জাতীয়

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৪৪ ঘণ্টা, এপ্রিল ৭, ২০২১
ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার ডাউয়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম কায়েদের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতিসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (০৭ এপ্রিল) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম কায়েদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছামত অফিস পরিচালনা করছেন। কোনো ধরনের সভা বা রেজুলেশন ছাড়াই নিজে নামে বে-নামে প্রকল্প দেখিয়ে ভুয়া ভাউচারে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন। রেজুলেশন ছাড়াই ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-২০ অর্থ বছরে টিআর, কাবিখা, এডিপি ও নন-ওয়েজ প্রকল্পে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন দেখিয়ে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। দুস্থ সুবিধা ভোগীদের কাছে নানা কৌশলে বসতবাড়ি কর আদায় করে নিজে আত্মসাৎ করেন ইউপি চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম কায়েদ। ফলে সরকারি ব্যাংক হিসাব শুন্য থাকলেও তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।  

সৌরবিদ্যুৎ, ভিজিডি, ভিজিএফ, টিউবওয়েল বিতরণ, কৃষি প্রণোদনা ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিভিন্ন ভাতা প্রদানের একক সিদ্ধান্তে অর্থের বিনিময় ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে স্বচ্ছল পরিবারের মধ্যে বিতরণ করেন। ফলে ইউনিয়নের প্রকৃত সুফল ভোগী ও দুস্থতা বঞ্চিত হচ্ছেন। গেল দুই বছরের এলজিএসপি প্রকল্পের সকল কাজ চেয়ারম্যান কায়েদ নিজেই ভুয়া ভাউচারে বাস্তবায়ন করেছেন। কাজ শতভাগ দেখানো হলেও বাস্তবতায় জনদুর্ভোগ কাটেনি। ফলে বর্তমান সরকারের গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প কাগজ কলমে বাস্তবায়ন দেখানো হলেও কার্যত সুফল পায়নি সাধারণ জনগণ।

প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে এবং প্রতি মাসে সভা ও রেজুলেশনের নিয়ম থাকলেও গত সাড়ে চার বছরে কোনো সভা বা রেজুলেশন হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন ইউপি সদস্যরা। চেয়ারম্যান কায়েদের সীমাহীন দুর্নীতি আর অনিয়মে অতিষ্ট হয়ে ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য তহিদুল ইসলাম ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আশরাফুল আলম ৮ দফা অনিয়ম ও দুর্নীতি উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।  

ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য তহিদুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, চেয়ারম্যানের নিজের গড়া নিয়মে চলছে ইউনিয়ন পরিষদ। গেল চার বছরে কোনো রেজুলেশন হয়নি। রেজুলেশন তলব করলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে। নিজের ইচ্ছামতো প্রকল্প দিয়ে ভুয়া ভাউচারে সরকারি লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন চেয়ারম্যান কায়েদ। গত ২০১৬ সালের নির্বাচন কালীন সময়ে সম্পদের বিবরণ ও বর্তমান সম্পদ দেখলেই বোঝা যাবে তার দুর্নীতির চিত্র। ২০১৬ সালে ভাড়া বাসায় থেকে ভাড়া দেওয়ার মতো সমর্থ ছিল না। এখন সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে মাত্র সাড়ে চার বছরে গ্রামে আলিসান বাড়ি, ঢাকার মিরপুরে ফ্ল্যাট বাসা, রংপুর শহরে ৫ তলা বাড়ি ও নিজের এবং পরিবারের লোকদের নামে অসংখ্য জমির মালিক ওই চেয়ারম্যান। সুষ্ঠ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।  

ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম কায়েদ বাংলানিউজকে বলেন, রেজুলেশন আছে, সময় সুযোগ হলে দেখানো হবে। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হয়। অভিযোগের তদন্তের সময় সব দেখানো হবে।  

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফেদৌস আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, কিছু কিছু রেজুলেশন তো আছে অফিসে। তবে খুঁজে দেখে পরে জানানো হবে।  

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর বাংলানিউজকে বলেন, ডাউয়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দায়ের করা ইউপি সদস্যদের অভিযোগটি পেয়েছি। দ্রুতই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২০৩৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৭, ২০২১
এনটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa